০৩:০৬ পি.এম
চীনে দ্বিতীয় বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস শুরু হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় দৌড় সহ বিভিন্ন খেলাধুলায় রোবটের অসাধারণ গতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এদের দৌড়ানো গতি যদিও চিত্তাকর্ষক, আয়োজকদের দাবি, এটি রোবটের সক্ষমতার মূল প্রমাণ নয়। বরং মানুষের মতো বাস্তব কাজগুলি কতটা সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে, সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ৫১টি ইভেন্টের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এর মধ্যে ৩০টি খেলার ইভেন্ট এবং ২১টি বাস্তব কাজের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে। হুয়াওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিযোগিতার ৪০ শতাংশের বেশি ইভেন্টে রোবটকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
প্রথম দিনেই দৌড়ের দিক থেকে রোবটগুলো বড় চমক দেখিয়েছে। ১০০ মিটার দৌড়ে দুটি রোবট ৯.৫৮ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করেছে।
এটি উসাইন বোল্টের বিশ্বরেকর্ডের চেও দ্রুত। গত বছর একই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী রোবটের সময় ছিল ২০ সেকেন্ডের বেশি।
কিন্তু দৌড় শেষে রোবটগুলোর থামার সময় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। নির্ধারিত ফিনিশ লাইনের কয়েক মিটার পর রাখা মোটা ম্যাটে গিয়ে কিছু রোবট ধাক্কা খায়।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
৪০০ মিটার দৌড়ে একটি রোবট ৩৯.৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেছে।
এটিও দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েড ভ্যান নিকার্কের ৪৩.০৩ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে দ্রুত।
তবে এবারের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে বাস্তব কাজ। রোবটকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে চার্জার সংযোগ করা, রেস্তোরাঁর কাজ, গুদামে পণ্য সরানো, শিল্পকারখানার কার্যক্রম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এমন কাজগুলিতে অংশ নিতে হচ্ছে।
এর মধ্যে একটি পরীক্ষায় রোবটকে নির্দিষ্ট তারের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে। দেখা যাচ্ছে, কাজটি সহজ মনে হলেও এতে রোবটের দৃষ্টিশক্তি, হাতের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রয়োগ করার শক্তির যথাযথতা—এসবের পরীক্ষা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
কারণ বাস্তব জগতে সবকিছু নিখুঁত হয় না।
কোনো কিছু বাঁকা থাকতে পারে, কোনো বস্তু হাতের নাগালের বাইরে হতে পারে অথবা প্যাকেটের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।
এই সমস্ত অবস্থায় রোবট নিজে সমস্যা বুঝে ভুল সংশোধন করতে সক্ষম কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
লুমোস রোবটিকসের CEO ইউ চাও বলেন, রোবটের দক্ষতা শুধু দৌড়ানো বা লাফানো দ্বারা বেড়ে না।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করে মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারলেই এর প্রকৃত মূল্য টি তৈরি হবে।
প্রতিযোগিতায় টাগ অব ওয়ার, ভারোত্তোলন, তাই চি এবং পিচ-পটের মতো ফেলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া একটি রোবটের অংশগ্রহণে একটি টেনিস ম্যাচের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে রোবটকে বল অনুসরণ, সার্ভ এবং শট ফেরানোর মতো কাজগুলো করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিযোগিতার আসল পরীক্ষা হবে মাঠের বাইরেও। রোবট বাজারে আসার পরে বাস্তব ব্যবহারকারীদের সমস্যা কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারে, সেটিই শেষ পর্যন্ত এর সফলতা নির্ধারণ করবে।
আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন