১১:৫৭ এম
জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করা সম্ভব হয়েছে। এখন দেশের রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২৭ জুলাই) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই: রক্তঋণের উত্তরাধিকার’ শিরোনামের আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
বক্তব্যের শুরুতে জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। আন্দোলনে আহত, গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের শিকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই মাসের অভ্যুত্থান—প্রতিটি বড় আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, সাভার-আশুলিয়া এলাকায় শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। এই সময় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।
তিনি আরও বলেন, কারফিউ চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিবাদ মিছিল এবং ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়’ কবিতা আবৃত্তি আন্দোলনের প্রতি সারা দেশের মানুষের সমর্থন বাড়িয়ে দেয়।
বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবায় একগুচ্ছ উদ্যোগের কথা জানালেন আখতার হোসেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার এখনো প্রত্যাশিত সংস্কার কার্যকর করতে পারেনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি গঠনের সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। তার মতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জুলাই মাসের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে—এমন ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। জুলাইয়ের রক্তঋণের উত্তরাধিকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে যাবে, আর নতুন প্রজন্ম সেই চেতনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন