ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা নেই, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ী


টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজির বাজারে ক্রেতা নেই, বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ী

বগুড়ার কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে, অনেকেই বাজারে যেতে পারছেন না। এর ফলস্বরূপ, ক্রেতা কম থাকায় সবজির বেচাকেনা কমে যাচ্ছে, যা কৃষক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য একটি বিপদসঙ্কেত।

আরো জানানো হয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরাও মাঠ থেকে সবজি তুলতে বাজারে আনতে পারছেন না। ফলে জেলায় সবজির সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। শহরের বিভিন্ন বাজারে, যেমন রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনি বাজার ও খান্দার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে কম। বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরাও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন।

বর্তমানে বগুড়ার বাজারে বিভিন্ন সবজি, যেমন বইকচু ও বেগুন ছাড়া, বেশিরভাগ সবজি ২০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পটল প্রতি কেজি ২০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া, রসুন ৮০ টাকা ও আদা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে সবজির দাম কম থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্রেতা কম থাকায় বিক্রেতারাও পণ্য বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বাজারে আসা কিছু ক্রেতা উচ্চারণ করেছেন যে, ক্রেতা কম থাকার ফলে সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তবে এতে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

সবজি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, যদি আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়, তাহলে বাজারে ক্রেতা বাড়বে এবং বেচাকেনা স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাবে।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এসংক্রান্ত বিষয়ে বলেন, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার- ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দেবাশীষ মন্ডল আশীষ

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


নেছারাবাদে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার- ৫

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উপজেলা এলাকায় বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের ফলে দুজনের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি তিনজনকে মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শর্ষিনা গ্রামের মো. ফরিদুল ইসলামের ছেলে মো. মিজান (৩৫)-এর কাছ থেকে ৫০টি ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে এবং জগৎপট্টি গ্রামের মো. বাদল হোসেনের ছেলে মো. তানভীর আহম্মেদ (২২)-এর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আদর্শ বয়া গ্রামের মো. শাহেদ (২০) ও মো. শাহজাদা (১৬) এবং মধ্যকরফা গ্রামের মো. জাকারিয়া (২০)।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনার ভিত্তিতে জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের জন্য কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক কারবারি বা সেবনকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার জন্য এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩২ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩২ কোটি ডলার

চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ০৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে যা এসেছিল ১০৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।

এর আগে গত জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

গত মে মাসে দেশে এসেছে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। গত এপ্রিলে দেশে এসেছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। আর গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত agosto ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ বা ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সহযোগিতার আশ্বাস সৌদি রাষ্ট্রদূতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সহযোগিতার আশ্বাস সৌদি রাষ্ট্রদূতের

সোমবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দপ্তরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সৌদি আরব কর্তৃক আরোপিত হজ ফ্লাইট-সংক্রান্ত কর ও চার্জ কমানোর জন্য বাংলাদেশ আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত, ড. আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়া।

সাক্ষাৎকালে, আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উভয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, গতিশীল এবং বহুমাত্রিকভাবে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিশেষ করে বেসামরিক বিমান চলাচল, পর্যটন ও হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়।

মন্ত্রী আফরোজা খানম এই সাক্ষাতে বলেন, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে সৌদি সরকারের দ্বারা আরোপিত হজ ফ্লাইট-সংক্রান্ত কর ও চার্জ হ্রাস করা হলে, তা বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য খুবই উপকারী হবে। তিনি এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাইলে, সৌদি রাষ্ট্রদূত বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

এদিকে, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য আবাসনের ক্যাটাগরি ‘ডি’ সুবিধা না থাকার কারণে প্রতি যাত্রীর আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ফলস্বরূপ, তিনি ক্যাটাগরি ‘ডি’ পুনর্বহালে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবার মানোন্নয়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং হজের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সৌদি সরকার আন্তরিক। তিনি এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান এবং উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ আবারও দৃঢ় করেন যে, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির’ রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির’ রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আশা প্রকাশ করেছেন যে, সমস্ত মন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করলে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির একটি অনন্য রোল মডেল ও পজিটিভ ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রজেক্ট প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও স্পেস গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে।এই কেন্দ্রগুলো হবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল কেন্দ্রবিন্দু।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশাল মাঠকর্মী বাহিনী, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রাথমিক মেডিকেল অ্যাটেনশন ও থেরাপির মাধ্যমে এই ‘শিশুস্বর্গ’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক লিঙ্কেজ বা সংযোগ তৈরি করে দেবে। ফলস্বরূপ, চিকিৎসার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটবে।

প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত জানালেন, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরকারি ডেটাবেজের আওতায় আছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত ১ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেয়ার মেগা টার্গেট নিয়েছে নতুন সরকার। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে সহজ করতে কোনো দয়া বা চ্যারিটি মডেল নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।এই লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটি গঠিত হয়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন।তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, রাষ্ট্র এদের দয়া করছে এমন পরিবেশ তিনি চান না, বরং অন্য সব নাগরিকের মতো সমঅধিকার যেন তারা উপভোগ করতে পারেন।

‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নীতি নির্ধারণ স্টিয়ারিং কমিটি’ প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সভাপতিত্বে গঠন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, নীতিসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি করা হয়েছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে এবং সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।কমিটিগুলো গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম এবং এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মিটিং সম্পন্ন করে কাজের গতিশীলতা প্রমাণ করেছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শীর্ষ পর্যায়ের এই সমন্বয়ের ফলে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং रেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ’ বা প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে একটি ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বা রিলে রেসের সঙ্গে তুলনা করেন।তিনি বলেন, একজন প্রতিবন্ধী শিশু যখন জন্মায়, তখন তার এক ধরনের চিকিৎসা ও থেরাপির প্রয়োজন হয়।৬ বছর বয়সে তার চাহিদা ভিন্ন হয়, ১২ বছর বয়সে প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রয়োজন আলাদা এবং যৌবনে তার দরকার কর্মসংস্থান।জন্ম থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে এবং কনভেয়ার বেল্টের মতো ধাপে ধাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তার চাহিদা পূরণ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%