ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভোলায় পিকআপ ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, মা-বাবা গুরুতর আহত


ভোলায় পিকআপ ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, মা-বাবা গুরুতর আহত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মধ্যে মিত্তাফুল রাফা (৬) নামে এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির বাবা মো. সোহেল এবং মা মুন্নি আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট সংলগ্ন বৈদ্যেরপুল এলাকায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের আবাস লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, লালমোহনের ব্যবসায়ী মো. সোহেল তার শিশু কন্যা রাফা এবং স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী মুন্নি আক্তারকে মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি বৈদ্যেরপোল এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাফাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শিশুর বাবা সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

আরও পড়ুন: চাঁদাবাজির কালো টাকায় কুয়াকাটায় আলিশান পাঁচতলা হোটেল: অন্তরালে থেকে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতা শেখর চন্দ্র দাস

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি আশ্রাব আলী মন্তব্য করেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে কাজীকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে কাজীকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার একটি বাসা থেকে এক কাজীকে তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপুর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমানের বয়স ৫২ বছর এবং তিনি মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তসলিমউদ্দিন জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজিব হোসেন অপুসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার লিখিত অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কাটাখালী এলাকার বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজিব হোসেন অপু, তার বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় আসেন। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে কাটাখালীতে তার কাজী কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তারপুরের একটি কক্ষে হাবিবুর রহমানকে আটকে রেখে রাজিব হোসেন অপুসহ অন্যরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে প্রাণভয়ে হাবিবুর রহমান দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এরপর তাকে মুন্সীগঞ্জ কাচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তার নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে ওই টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, রাজিব হোসেন অপুদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটে যুবদল, ছাত্রদল ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। তার বাবাকে তুলে নিয়ে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল, পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নাহিদ হাসান জানান, ভয়ে তার বাবা প্রথমে তাকেও বিষয়টি জানাতে চাননি। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি ঘটনা জানতে পারেন। এরপর তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছু সময় পর রাজিব হোসেন অপু থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ওসির সহযোগিতায় তারা ওই টাকা ফেরত পান।

নাহিদ হাসানের অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য কথিত এক নেতা তাদের ওপর চাপ দেন। মামলা করলে তাদের পরিবার ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ বলেন, "কোনো চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই যুবদলে হবে না। যুবদল তাদের কোনো দায়িত্বও নেবে না। রাজিব হোসেন অপুর ঘটনাটি তারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন। অপুসহ যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সিস হালজেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন নিউট্রিনো গবেষণার জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


ফ্রান্সিস হালজেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন নিউট্রিনো গবেষণার জন্য

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন ফ্রান্সিস হালজেন। তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ।

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস নতুন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

ফ্রান্সিস হালজেনকে এই পুরস্কার দেওয়ার কারণ হলো, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ।’ তিনি দেখিয়েছেন যে, দক্ষিণ মেরুর বরফ নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি।

দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফে স্থাপিত এই পর্যবেক্ষণাগারে আলোক সংবেদকের মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়।

নিউট্রিনো সর্বত্র বিদ্যমান, তবে তাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিনিয়ত অসংখ্য নিউট্রিনো আমাদের শরীর ও পৃথিবীর ভেতর দিয়ে চলে যায় এবং কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই। কিন্তু খুবই বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। তখন বিশেষায়িত যন্ত্রের সাহায্যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞানীরা বহু আগে থেকেই জানেন যে, মহাবিশ্বে এমন প্রাকৃতিক কণা ত্বরণকারী রয়েছে। এগুলো পৃথিবীর গবেষণাগারে উৎপাদিত শক্তির চেয়েও প্রায় ১০ লাখ গুণ বেশি শক্তিশালী কণা ছড়িয়ে দেয়। তবে এসব মহাজাগতিক উৎসের প্রকৃতি, অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত প্রধান প্রক্রিয়াগুলো এখনো অনেকটাই রহস্যময়।

অত্যন্ত উচ্চশক্তির নিউট্রিনো অন্যান্য কণার মতো একই মহাজাগতিক পরিবেশে তৈরি হয়। তবে অন্য কণার বিপরীতে নিউট্রিনো মহাকাশে চলার সময় সাধারণত দিক পরিবর্তন করে না বা উল্লেখযোগ্য শক্তি হারায় না। ফলে এগুলো সরাসরি তাদের উৎস সম্পর্কে তথ্য বহন করে এবং মহাবিশ্বের শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস সম্পর্কে এমন তথ্য দিতে পারে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া সম্ভব নয়।

১৯৮৮ সালে ফ্রান্সিস হালজেন দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্তের পরিকল্পনা প্রথম উপস্থাপন করেন। কোনো নিউট্রিনো পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে যে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হয়, তা স্বচ্ছ বরফের মধ্যে স্থাপিত বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব।

দক্ষিণ মেরুর বরফ এ ধরনের গবেষণার জন্য উপযোগী, কারণ এটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত। হালজেনের ধারণাটি দ্রুত অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং কয়েক বছরের মধ্যেই বরফের মধ্যে সেন্সর স্থাপনের প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু হয়।

অত্যন্ত উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত করতে বিপুল পরিমাণ বরফের প্রয়োজন হয়। এ কারণেই প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি নির্মাণ করা হয়। এর কাজ ২০১১ সালে সম্পন্ন হয়।

এরপর গবেষকেরা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হন। কয়েক বছর পর এমন নিউট্রিনোর সন্ধানও পাওয়া যায়, যেগুলোর উৎস আমাদের সৌরজগতের অনেক দূরে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের নিউট্রিনোর উৎস অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা হয়।

আইসকিউবের মাধ্যমে নিয়মিত সংগৃহীত তথ্য গবেষকদের উচ্চশক্তির নিউট্রিনো সৃষ্টির পেছনে থাকা চরম মহাজাগতিক পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে অজানা মহাজাগতিক ঘটনাও উন্মোচন করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলার বই সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলার বই সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আগামী শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলাবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক সংযোজনের জন্য সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নবনির্মিত ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এই উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ এবং শহরের ওয়ার্ড পর্যায়ে ফুটসাল বা ছোট মাঠ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লক্ষ্য তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কেবল অংশগ্রহণই নয়, বাংলাদেশ এখন সরাসরি পদকের জন্য লড়াই করতে চায়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিক, এশিয়ান ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহারোপযোগী করার উপর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দেশের সব জেলা স্টেডিয়ামকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি জেলা স্টেডিয়ামে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারি, আধুনিক ড্রেসিং রুম ও প্রেস বক্সসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, বরং সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকির মতো বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অনুশীলনের সুযোগও তৈরি করা হবে, জানান প্রতিমন্ত্রী।

বেদখলে থাকা খেলার মাঠগুলো উদ্ধারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আমিনুল হক বলেন, মৌলভীবাজারের রেলওয়ে মাঠসহ সারা দেশে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা মাঠগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির ড্রেসিং রুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে শ্রীমঙ্গলে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত জায়গাও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমদ সরফু প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের সেবা করা নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেছেন, "জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।"

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মূল উদ্দেশ্য এক, তা হলো জনগণের সেবা করা। যদিও পদ্ধতি ভিন্ন, জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের লক্ষ্য একই হওয়া উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে, তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা জনগণের সেবা করার কাজে ব্যবহার করা উচিত। জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডারের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগজনক। এ ধরনের অসংগতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্ম সনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হয়তো বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু তিনিও রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারও সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সতর্ক, দায়িত্বশীল ও জনগণমুখী হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বেগম খালেদা জিয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন চালু করেন এবং সেখানে পিতার পাশাপাশি মায়ের পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার হলেও ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। নির্ভুল নিবন্ধন না হওয়ায় পরিসংখ্যানে গরমিল হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেম (বিডিআরআইএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ব্যবস্থা। তৃণমূল পর্যায়ে নিবন্ধন আরও নির্ভুল করতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারণার আলোকে পুনরায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাম পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আরো নির্ভুল করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শুদ্ধতা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%