প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার একটি বাসা থেকে এক কাজীকে তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপুর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমানের বয়স ৫২ বছর এবং তিনি মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তসলিমউদ্দিন জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজিব হোসেন অপুসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার লিখিত অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কাটাখালী এলাকার বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজিব হোসেন অপু, তার বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় আসেন। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে কাটাখালীতে তার কাজী কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তারপুরের একটি কক্ষে হাবিবুর রহমানকে আটকে রেখে রাজিব হোসেন অপুসহ অন্যরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে প্রাণভয়ে হাবিবুর রহমান দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এরপর তাকে মুন্সীগঞ্জ কাচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তার নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে ওই টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, রাজিব হোসেন অপুদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটে যুবদল, ছাত্রদল ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। তার বাবাকে তুলে নিয়ে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল, পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নাহিদ হাসান জানান, ভয়ে তার বাবা প্রথমে তাকেও বিষয়টি জানাতে চাননি। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি ঘটনা জানতে পারেন। এরপর তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছু সময় পর রাজিব হোসেন অপু থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ওসির সহযোগিতায় তারা ওই টাকা ফেরত পান।
নাহিদ হাসানের অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য কথিত এক নেতা তাদের ওপর চাপ দেন। মামলা করলে তাদের পরিবার ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ বলেন, "কোনো চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই যুবদলে হবে না। যুবদল তাদের কোনো দায়িত্বও নেবে না। রাজিব হোসেন অপুর ঘটনাটি তারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন। অপুসহ যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন