বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:৩৬ পি.এম
গত ৩ মে ভারতে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে গত আড়াই মাস ধরে চলা আন্দোলন অবশেষে চরম রূপ নিয়েছে।
গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানসহ রাজনৈতিক মহলের টনক নড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস মহাপাপ, এরজন্য দায়ীদের সাজা পেতেই হবে।’
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা জবাবদিহিতা পাবেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা শিক্ষার্থীদের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করছেন এবং বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসার সামনে ধর্নায় বসেছেন।
মূলত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ৩ মের পরীক্ষা বাতিলের পর শিক্ষার্থীদের ওপর প্রবল মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছিল। পরবর্তীতে ২১ জুন কঠোর নিরাপত্তায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে, ৭ জুন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করে নবগঠিত করোচ জনতা পার্টি। এরপর ২৮ জুন লাদাখের অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন শুরু করলে এই আন্দোলন একটি নতুন মাত্রা পায়। ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে সিজেপি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কর্মসূচি ঠেকাতে পুলিশ দুদিন আগে ভোরবেলায় সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
হাসপাতাল থেকে সোনম ওয়াংচুক ১৯ জুলাই রাতেও জানিয়েছেন, সরকার হাসপাতালে তার সাথে দেখা করে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙতে রাজি। কিন্তু সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০ জুলাই সোমবার ভোরে যখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী যন্তর-মন্ত্রে সমবেত হয়, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা দুই ছাত্রনেতাকে ডেকে আলোচনার আশ্বাস দেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশি হামলার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিনেত্রী শাবানা আজমী এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজসহ সুশীল সমাজ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি ৭ জুনের পর সঠিক পদক্ষেপ নিত, তবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের রাজপথে মার খেতে হতো না। একেই বলে, সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ঘটে যাওয়া এক সড়ক দুর্ঘটনায় মেহরাজ মাহমুদ জুম্মান (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় আরও ৪ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলের সময়, চাঁদপুর–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বড়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
নিহত মেহরাজ মাহমুদ জুম্মান, যিনি এই বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তিনি জুম্মান বড়ালী গ্রামের আহসান দেওয়ানের ছোট ছেলে ছিলেন।
আহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের অপর যাত্রী তাহসীন (১৬) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী লিলু বেগম অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, আহত চারজনই গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং অটোরিকশার আহত যাত্রী লিলু বেগম জানিয়েছেন, "আমরা অটোরিকশাযোগে ফরিদগঞ্জ সদরের দিকে যাচ্ছিলাম। বড়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতমানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে আমাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলস্বরূপ, আমরা নিচে পড়ে গিয়ে আহত হই এবং মোটরসাইকেল চালক মেহরাজ ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মারা যায়।"
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম জানান, "ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোট পাঁচজনকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসক মেহরাজকে মৃত ঘোষণা করেছেন।"
নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন বলেন, "জুম্মান খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবারে কত শত স্বপ্ন নিভে গেল। কিন্তু এক নিমিষের সড়ক দুর্ঘটনা সবকিছু শেষ করে দিল।"
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, "সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে পাঁচজন প্রবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে মৃতভাবে আনা হয়। বাকি চারজনকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।"
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।" তিনি জানান, "পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬ সালের সর্বভারতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতায় মিছিল করেছেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাস থেকে ‘মহা মিছিল সংহতি সভা’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন মিছিলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। প্ল্যাকার্ডে ‘মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও’ ও ‘স্বৈরাচারী সরকার আর নয়’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতীয় সংগীতশিল্পী রূপম ইসলাম নতুন একটি গান প্রকাশ করেছেন। তিনি গানটির অংশ নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। একই দাবিতে মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে নীরব কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। তার কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী যে পদত্যাগের দাবিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেও লক্ষ্য করা যায়। বৃহস্পতিবার লোকসভা ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের বক্তব্য এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পরে তারা প্ল্যাকার্ড হাতে সংসদের ভেতরে বিক্ষোভে অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সফল করার পেছনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় অনুষ্ঠিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান এবং নিহত-আহতদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরির তাড়না না থাকলেও শুধুমাত্র বিবেকের তাড়নাতেই জুলাই মাসে এগিয়ে এসেছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাহসী ভূমিকা প্রমাণ করে, বাংলাদেশ একটি সাহসী জাতি, যাদের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মর্যাদা রয়েছে।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ কাউকে তাঁবেদার হিসেবে নয়, বরং আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি হিসেবেই এগিয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।
এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ