০৩:১৬ এম
দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে এবং রক্ষা করার জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে হবে। এ জন্য দরপত্রের বাইরে গিয়ে প্রচলিত আইন অনুসরণ করে আরো একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ বসানো প্রয়োজনীয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের সামসন এইচ চৌধুরী হলে ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা প্রধানভাবে এসব কথা বলেন।
ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) সেমিনারটির আয়োজন করেছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
সেমিনারে বক্তারা, জ্বালানি খাতে বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে না পারলে বর্তমান সরকারকে একসময় ব্যর্থতার কলঙ্ক নিতে হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।
তারা জাতীয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে তা আগ্রাসী। বিনিয়োগবান্ধব নীতি নেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। আমি মনে করি এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
কোয়ালাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কয়লা দিয়ে বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা করছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এ বিষয়ে সতর্কভাবে এগোতে হবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও স্বাধীনভাবে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।
ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জ্বালানি তেল বিক্রি করে।
ভোলার গ্যাস নিয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রধানমন্ত্রীর (মালয়েশিয়া) সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরপর আমরা অনলাইনে পেট্রোনাসের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
এলএনজি সংকটের প্রসঙ্গে বেরিয়ে আসতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় এলএনজি সরবরাহের সমস্যা তৈরি হওয়ায় সারা দেশে সংকট দেখা দিয়েছে। শিল্পকারখানা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি জানান, শিল্পের বর্তমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এই সত্য আমরা অস্বীকার করছেন না। এ সংকটের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই যারা প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছেন, তাঁদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে সক্ষম হলে বর্তমান সংকট হতো না।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
তিনি বলেন, অতীতে যেসব ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল, সেগুলো এখন বাস্তব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকারের সামনে আর ভুল করার সুযোগ নেই।
প্যানেল আলোচনায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান সম্ভব নয়। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। তাই গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্রুত ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করতে হবে। তবে গ্যাস সংকট কাটাতে দরপত্রের বাইরের অন্যান্য নীতিমালা বা আইনে দ্রুত একটি ভাসমান টার্মিনাল বসানো জরুরি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের নতুন দলকে আগের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে ‘বিপ্লবী পরিবর্তন’ আনতে হবে। তা না হলে ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকারকেও নিতে হবে।
ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো একক উৎসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল-গ্যাস ও এলএনজিসহ সকল ধরনের উৎসকে কাজে লাগাতে হবে।এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফইআরবির নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ।
সেমিনারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, বেসরকারি জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রাত পোহালেই ভোট, বিএনপি না জামায়াত হাসবে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন