০৮:২৮ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যালট পেপার সংকটের ঘটনার কারণে দায় স্বীকার করে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (এনইসি) চেয়ারম্যান রো তে-আক। শুক্রবার (৫ জুন) নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
রো তে-আক বলেন, নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপারের ঘাটতির কারণে ভোটারদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এবং এর ফলে নির্বাচন পরিচালনার ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি এজন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করেন।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজধানী সিউলের ১৪টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যায়। এতে শত শত ভোটারকে ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধও রাখতে হয়।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
সংবাদ সম্মেলনে রো তে-আক বলেন, ‘এই ঘটনার কারণে জনগণের মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তার জন্য আমি দায়বদ্ধ। তদন্তে যদি আমার কোনো দায় প্রমাণিত হয়, তবে আমি তা এড়িয়ে যাব না।’
তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে বাইরের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তদন্তের সব ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৪ হাজার ২৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৭টিতে নির্বাচনের দিন অতিরিক্ত ব্যালট পেপার পাঠাতে হয়। এর মধ্যে ৫০টি কেন্দ্রে প্রকৃতপক্ষে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায় এবং ২২টি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা যায় সিউলের সঙপা জেলায়, যেখানে ১৫টি ভোটকেন্দ্র ব্যালট সংকটে পড়ে।
এদিকে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একটি নাগরিক সংগঠন রো তে-আকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি বর্তমানে সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি তদন্ত করছে।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগাম ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ব্যালট পেপার অপচয় কমাতে স্থানীয় নির্বাচনে মোট ভোটারের ৫০ শতাংশের সমপরিমাণ ব্যালট মুদ্রণের নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তই এবারের ব্যালট সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটি দক্ষিণ কোরিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন