নীলফামারী: স্টাফ রিপোর্টার রায়হান আলী
০৫:৫১ পি.এম
চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১লা আগস্ট, ২০২৬) বিকেল ৪:০০ ঘটিকায় নীলফামারীর ঐতিহাসিক ডিসির মোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলার আমীর ও সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুস সাত্তার। তিনি সভাপতি হিসেবে বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা যদি অবিলম্বে 'জুলাই সনদ' আকারে রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত ও প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে প্রয়োজনে রাজপথে আবার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে কোনো ধরনের আপস বরদাশত করা হবে না।"
এছাড়া, গণ-সমাবেশে জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা এবং 'জুলাই সনদ' প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার বক্তব্য প্রদান করেন প্রধান নেতৃবৃন্দ:
মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম (জেলা সেক্রেটারী, নীলফামারী) তাঁর বক্তব্যে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। রাজপথে আমাদের ভাইদের তাজা রক্ত বৃথা যেতে পারে না। অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ প্রতিষ্ঠিত করে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে রাজপথে আবারও আন্দোলনের দাবানল জ্বলবে।"
এড. আলফারুক আব্দুল লতীফ, এমপি (জেলা সহকারী সেক্রেটারী, নীলফামারী) আইনগত ও সাংবিধানিক বিষয় তুলে ধরে বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই লড়াইয়ের ফসল হিসেবে জুলাই সনদকে রাষ্ট্রের সংবিধানে ও আইনি কাঠামোতে পূর্ণ রূপ দিতে হবে। সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"
জনাব ওবায়দুল্লাহ সালাফি, এমপি (নীলফামারী-৩, জলঢাকা) তরুণ প্রজন্মের ত্যাগের কথা স্মরণ করতে বলেন, "২৪-এর জুলাইয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্ম রাজপথে জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। সেই অর্জনকে নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না। জুলাই সনদের প্রতিটি দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় আমরা আবারও রাজপথে নেমে রক্ত দিতে প্রস্তুত।"
হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, এমপি (নীলফামারী-৪, সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের একমাত্র প্রতিদান হলো জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের আপামর জনতাকে সাথে নিয়ে আমরা জুলাই সনদের মূল ভাবধারা প্রতিষ্ঠা এবং যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে রাজপথ উত্তপ্ত রাখতে পিছপা হব না।"
সমাবেশকে ঘিরে নীলফামারীর ডিসির মোড় ও আশপাশের এলাকা ব্যানার, ফেস্টুন এবং দেশাত্মবোধক ও বিপ্লবী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। শেষপর্যায়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হুতিদের হুমকির টানাপোড়েনে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের আসাযাওয়া কমে যাচ্ছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার অবস্থার মধ্যেও এবার একটি স্বস্তির খবর এসেছে। ইতালীয় যুদ্ধজাহাজের কড়া নিরাপত্তায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লোহিত সাগর নিরাপদে পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নৌবাহিনী ‘অ্যাসপিদেস’ (ASPIDES) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, ইতালির ফ্রিগেট ‘বেরগামিনি’-এর দৃঢ় পাহারায় জাহাজটি সমস্যাযুক্ত পথটি অতিক্রম করতে পেরেছে।
এদিকে, উল্লেখযোগ্য যে, অ্যাসপিদেস হলো ইইউ-এর একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযান। মূলত লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা উর্ধ্বমুখী হয়েছে। নিরাপদ পারাপারে ঝুঁকির কারণে এসব রুটে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষভাবে, লোহিত সাগর থেকে উপসাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্ত করা সংকীর্ণ নৌপথ ‘বাব এল-মানদেব প্রণালি’-তে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) কমে গেছে। ইয়েমেন এবং জিবুতির মধ্যবর্তী এই সঙ্কীর্ণ চ্যানেলে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ক্রমাগত চাপ ও হুমকি দেওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই ইতালীয় ফ্রিগেটের সহযোগিতায় বাণিজ্যিক জাহাজ পারাপারের ঘটনা নৌ-বাণিজ্যের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসাবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন মৌসুমের শুরুতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে নতুন চুক্তিতে রাখার জন্য রিয়াল মাদ্রিদ আগ্রহী হলেও তারা আগের প্রস্তাবের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে রাজি নয়। তাই নতুন চুক্তি না হলে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডকে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ইএসপিএনের একাধিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে বিষয়টি নির্ভর করছে ভিনিসিয়ুসের সিদ্ধান্তের ওপর। রিয়ালের ধারণা, এখন তার হাতে দুইটি পথ রয়েছে, সে নতুন চুক্তিতে সই করবে অথবা অন্য ক্লাবের দিকে চলে যাবে।
বিশ্বকাপ শেষে ছুটি কাটিয়ে ভিনিসিয়ুসের সোমবার ভ্যালদেবেবাসে প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর রয়েছে, আর এ কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
একদিকে, রিয়ালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের প্রতিনিধিদের নতুন বৈঠকের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। গত মৌসুমে জানা যায়, বিশ্বকাপের আগে চুক্তি নবায়নের জন্য ভিনিসিয়ুস তাড়াহুড়ো করতে চাননি।
এদিকে, যদি ভিনিসিয়ুস ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে দলে ভেড়ানোর জন্য নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল। যদিও খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মৌখিকভাবে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে আর্সেনালের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। তবে এর আগে ইএসপিএন জানিয়েছিল, সম্ভাব্য এই ট্রান্সফারের আর্থিক দিক নিয়ে কাজ করছে লন্ডনের ক্লাবটি।
২০১৮ সালে কিশোর বয়সে ব্রাজিলের ফ্ল্যামেঙ্গো থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে গোল করার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের ভোটে রানার-আপ হয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
তবে গত মৌসুমে তৎকালীন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এল ক্লাসিকো ম্যাচে বদলি হওয়ার পর তার প্রকাশ্য অসন্তোষ ছিল আলোচনার বিষয়। একই সঙ্গে টানা দুই মৌসুম বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারায় ক্লাবের পরিস্থিতি কিছুটা চাপে রয়েছে।
এমন অবস্থার মধ্যেই দল পুনর্গঠনে সক্রিয় রিয়াল মাদ্রিদ। ইতোমধ্যে ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পিকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। এছাড়া উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্দের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে ক্লাবটি। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকেও দলে টানার ব্যাপারে আশাবাদী লস ব্লাঙ্কোস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে ব্যতিক্রমী উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই কর্মকর্তার উদ্যোগে সরকারি বরাদ্দ ও নির্ধারিত নকশা অনুসরণ করে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের চলাচলের দুর্ভোগ কমানোর জন্য খালের পাশে একটি ইট-সলিং রাস্তার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে ১৪ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকার পরও তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নেছারউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাহাজনের বাড়ি পর্যন্ত ভারানীর খাল এবং চরখালি কাটাখাল পুনঃখননের প্রোজেক্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোট ২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পের অধীনে ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে খালগুলোর পুনঃখননের কাজ নির্ধারিত নকশা ও গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজের মান অক্ষুন্ন রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখা যায় যে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ১৪ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। এরপর ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসান সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে অব্যয়িত সম্পূর্ণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেন।
এদিকে, খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে খালের পাশে একটি ইট-সলিং রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া এই উদ্যোগের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন যে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করে জনগণের প্রয়োজনে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে খালের পাশে রাস্তা নির্মাণ করা এবং সবশেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা প্রশংসনীয়। পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুরের তদারকি এবং ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসানের সততা ও স্বচ্ছতার কারণে এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, সরকারি বরাদ্দ ও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী ভারানীর খাল ও চরখালি কাটাখাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে খালের পাশে একটি ইট-সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সব কাজ শেষ করার পর অবশিষ্ট ১৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, চাইলেই অবশিষ্ট অর্থ অন্যভাবে ব্যয় করা যেত। তবে রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের অর্থ জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।
পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এ বিষয়ে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ভাণ্ডারিয়া ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসান খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে ১৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে সততা ও সুশাসনের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধে এ ধরনের উদ্যোগগুলো সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এতে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কালিগঞ্জের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া জেলে মো. পিয়ার আলী গাজীর মরদেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, কিন্তু তার স্বজনদের কাছে তিনি আর ফিরে আসলেন না, ফিরে এসেছেন নিথর দেহে। নিহত পিয়ার আলী গাজী বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে কালিন্দী নদীতে যান। এরপর নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও অনুসন্ধানে যোগ দেন। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়, তবে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, ডুবুরি দল এবং স্থানীয় শতাধিক মানুষ নদী ও আশপাশের এলাকায় দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্তও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। রাত প্রায় ১১টার সময় ইছামতী নদীর খারহাট এলাকায় মাছ ধরার সময় এক জেলের নজরে একটি মরদেহ ভেসে ওঠে। বিষয়টি তিনি পিয়ার আলীর ছেলে আব্দুস সবুরকে ফোনে জানালে তিনি সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে মরদেহটি নিখোঁজ জেলে পিয়ার আলী গাজীর হিসেবে স্বজনরা শনাক্ত করেন। এই ঘটনা বস্থাপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ