তরিকুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৫:৫৭ পি.এম
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে ব্যতিক্রমী উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত করেছেন পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই কর্মকর্তার উদ্যোগে সরকারি বরাদ্দ ও নির্ধারিত নকশা অনুসরণ করে খাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের চলাচলের দুর্ভোগ কমানোর জন্য খালের পাশে একটি ইট-সলিং রাস্তার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে ১৪ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকার পরও তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নেছারউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাহাজনের বাড়ি পর্যন্ত ভারানীর খাল এবং চরখালি কাটাখাল পুনঃখননের প্রোজেক্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোট ২ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রকল্পের অধীনে ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে খালগুলোর পুনঃখননের কাজ নির্ধারিত নকশা ও গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজের মান অক্ষুন্ন রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখা যায় যে বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ১৪ লাখ টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। এরপর ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসান সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে অব্যয়িত সম্পূর্ণ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেন।
এদিকে, খাল পুনঃখননের কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রেখে খালের পাশে একটি ইট-সলিং রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে নেয়া এই উদ্যোগের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন যে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করে জনগণের প্রয়োজনে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে খালের পাশে রাস্তা নির্মাণ করা এবং সবশেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা প্রশংসনীয়। পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুরের তদারকি এবং ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসানের সততা ও স্বচ্ছতার কারণে এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল হাসান বলেন, সরকারি বরাদ্দ ও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী ভারানীর খাল ও চরখালি কাটাখাল পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে খালের পাশে একটি ইট-সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সব কাজ শেষ করার পর অবশিষ্ট ১৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো যোগ করেন, চাইলেই অবশিষ্ট অর্থ অন্যভাবে ব্যয় করা যেত। তবে রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের অর্থ জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।
পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এ বিষয়ে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সাশ্রয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ভাণ্ডারিয়া ইউএনও মোঃ হাসিবুল হাসান খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে ১৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে সততা ও সুশাসনের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও অপচয় রোধে এ ধরনের উদ্যোগগুলো সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এতে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কালিগঞ্জের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া জেলে মো. পিয়ার আলী গাজীর মরদেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, কিন্তু তার স্বজনদের কাছে তিনি আর ফিরে আসলেন না, ফিরে এসেছেন নিথর দেহে। নিহত পিয়ার আলী গাজী বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে কালিন্দী নদীতে যান। এরপর নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও অনুসন্ধানে যোগ দেন। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়, তবে তার কোনো সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি, ডুবুরি দল এবং স্থানীয় শতাধিক মানুষ নদী ও আশপাশের এলাকায় দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্তও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। রাত প্রায় ১১টার সময় ইছামতী নদীর খারহাট এলাকায় মাছ ধরার সময় এক জেলের নজরে একটি মরদেহ ভেসে ওঠে। বিষয়টি তিনি পিয়ার আলীর ছেলে আব্দুস সবুরকে ফোনে জানালে তিনি সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে মরদেহটি নিখোঁজ জেলে পিয়ার আলী গাজীর হিসেবে স্বজনরা শনাক্ত করেন। এই ঘটনা বস্থাপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের নবগঠিত ত্রিবার্ষিক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মাহমুদুল হাসান মেমন (দৈনিক কালবেলা) এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহাবুদ্দিন শিহাব (দৈনিক সংবাদ সারাবেলা) নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার সকালে, স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির নাম ঘোষণা করেন প্রেসক্লাব নির্বাচন কমিশনার, বড়াল প্রেসক্লাবের সভাপতি অমর ডি কস্তা এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনার, বড়াইগ্রাম উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান।
প্রেসক্লাবের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন লাইফ স্বাক্ষরিত এবং ঘোষিত কমিটি বিলুপ্তকরণ পর নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
নির্বাচিত নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন: সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ আলম (ভোরের পাতা), সহ সভাপতি রতন আলী (এশিয়ান টিাভ) ও সাইফুর রহমান (বাংলাদেশের আলো), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ (প্রান্তজন), সহ সাধারণ সম্পাদক উজ্জল হোসেন (ভেতরের খবর), সাংগঠনিক সম্পাদক কায়েস উদ্দিন (ভোরের চেতনা), সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম হোসেন (আলোকিত পত্রিকা), দপ্তর সম্পাদক লিটন রাজ (বাংলাদেশ টাইমস্), অর্থ সম্পাদক রাব্বাী গাজী (স্বাধীন দেশ), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোতালেব হোসেন (বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম)।
এছাড়াও সদস্যগণ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন: শুভ্র কুমার শাহা, লিটন হোসেন লিটু, সাকলাইন শুভ, তারেক রহমান, ওসমান গণি, মেহেদী হাসান অনিক, সাজ্জাদ হোসেন অভি, পিকেএম আব্দুল বারী এবং দেলোয়ার হোসেন লাইফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো তার দর্শন। কোনো একটি সুস্পষ্ট দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত না হলে মানুষ প্রকৃত অর্থে তার মানবতা এবং সভ্যতার চর্চা সম্পূর্ণরূপে বিকশিত করতে সক্ষম হয় না।
আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা প্রকাশ করেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষ যখন জীবনধারণের মৌলিক সংগ্রামের বাইরে চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছে, তখন থেকেই তার মধ্যে ‘আমি কোথা থেকে এসেছি’ এবং ‘কোথায় যাব’- এই মৌলিক প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। সেই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় দর্শনের জন্ম ও পরবর্তীকালে বিভিন্ন ধর্ম দর্শনচর্চার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের মধ্যেই মানবকল্যাণের শিক্ষা রয়েছে, তবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা এবং মতধারার কারণে সেখানে দার্শনিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। সনাতন ধর্ম যেমন নানা দর্শনের বিকাশ ঘটিয়েছে, তেমনি ইসলামেও বিভিন্ন চিন্তাধারা এবং ব্যাখ্যার অস্তিত্ব রয়েছে। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে মানবসভ্যতায় দর্শনের চর্চা একটি চলমান ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া।
বিশ্বব্যাপী শান্তির যে সংকট চলছে, তার সমাধানে চিন্তাশীল মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন দার্শনিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পৃথিবীর যেকোনো সংকটের সমাধান অনেকাংশেই নির্ভর করে সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। যে ব্যক্তি বা সমাজ মানবিক দর্শন ধারণ করে, তারা সংকটের গঠনমূলক সমাধান খোঁজে; আর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বিভাজন ও সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বক্তব্য প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান জোরালো আলোচনা ও কথোপকথনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত তিনজনের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
এই পদে উচ্চারিত তিন নাম হলো- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সূত্র মতে, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে একাধিক সূত্রের দাবী, এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের মতোই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্তের ভার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেবার পক্ষে মত প্রকাশ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে কেউ কেউ বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের দাবী অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় রাজনীতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানান মতামত পাওয়া যাচ্ছে, তবে শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত হন।
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান: এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তার উচ্চশিক্ষা পদার্থবিজ্ঞানে, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ, পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং সরকারি ও রাজনৈতিক কলাকৌশলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মিলে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে তার গবেষণা এবং প্রযুক্তি খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ: এদিকে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানো এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে অনেকে মত প্রকাশ করছেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার কোনো অগ্রহণযোগ্য ব্যাড রেকর্ড নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং রাষ্ট্রের প্রতি যার দায়বদ্ধতা থাকবে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অভিভাবকশূন্য মনে হয়। তিনি আরও জানান, তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলে সরকার ও রাষ্ট্র- উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, যদি দলীয়ভাবে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তাহলে এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। তবে দুই যুগ আগে সরকারে থাকাকালীন বিএনপি যাদের (বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ইয়াজউদ্দিন আহমদ) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছিল, নতুন করে এমন কোনো ব্যক্তিত্বকে এ পদে নির্বাচন করা উচিত হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ