প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিশাল গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১লা আগস্ট, ২০২৬) বিকেল ৪:০০ ঘটিকায় নীলফামারীর ঐতিহাসিক ডিসির মোড়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলার আমীর ও সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুস সাত্তার। তিনি সভাপতি হিসেবে বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা যদি অবিলম্বে 'জুলাই সনদ' আকারে রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত ও প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে প্রয়োজনে রাজপথে আবার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে কোনো ধরনের আপস বরদাশত করা হবে না।"
এছাড়া, গণ-সমাবেশে জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা এবং 'জুলাই সনদ' প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার বক্তব্য প্রদান করেন প্রধান নেতৃবৃন্দ:
মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম (জেলা সেক্রেটারী, নীলফামারী) তাঁর বক্তব্যে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। রাজপথে আমাদের ভাইদের তাজা রক্ত বৃথা যেতে পারে না। অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ প্রতিষ্ঠিত করে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে রাজপথে আবারও আন্দোলনের দাবানল জ্বলবে।"
এড. আলফারুক আব্দুল লতীফ, এমপি (জেলা সহকারী সেক্রেটারী, নীলফামারী) আইনগত ও সাংবিধানিক বিষয় তুলে ধরে বলেন, "জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই লড়াইয়ের ফসল হিসেবে জুলাই সনদকে রাষ্ট্রের সংবিধানে ও আইনি কাঠামোতে পূর্ণ রূপ দিতে হবে। সনদ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"
জনাব ওবায়দুল্লাহ সালাফি, এমপি (নীলফামারী-৩, জলঢাকা) তরুণ প্রজন্মের ত্যাগের কথা স্মরণ করতে বলেন, "২৪-এর জুলাইয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্ম রাজপথে জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। সেই অর্জনকে নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না। জুলাই সনদের প্রতিটি দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় আমরা আবারও রাজপথে নেমে রক্ত দিতে প্রস্তুত।"
হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, এমপি (নীলফামারী-৪, সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের একমাত্র প্রতিদান হলো জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের আপামর জনতাকে সাথে নিয়ে আমরা জুলাই সনদের মূল ভাবধারা প্রতিষ্ঠা এবং যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে রাজপথ উত্তপ্ত রাখতে পিছপা হব না।"
সমাবেশকে ঘিরে নীলফামারীর ডিসির মোড় ও আশপাশের এলাকা ব্যানার, ফেস্টুন এবং দেশাত্মবোধক ও বিপ্লবী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। শেষপর্যায়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে সমাবেশ সমাপ্ত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন