মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১২ এম
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে পরাজিত করে দাপুটে জয় অর্জন করেছে। যদিও ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি, তবে বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে তারা ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে দলটি এই জয় নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং শুরু করে। তারা ৮ উইকেটে ১২৯ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে, এশিয়া কাপে প্রথমবার অংশগ্রহণকারী ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বোলাররা জয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। ইনিংসের শুরুতেই মারুফা আক্তার ইন্দোনেশিয়ার দুই ওপেনার মারিয়া কোরাজোন ও রাহমাওয়াতিকে আউট করেন।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশের স্পিনারদের বিরুদ্ধে তারা দাঁড়াতে পারেনি। সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার তিনটি উইকেট নেন। সানজিদা আক্তার মেঘলা ও ফাহিমা খাতুন একটি করে উইকেট লাভ করেন।
বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করে ১৭.৩ ওভারে ৫৮ রানে থেমে যায়। একমাত্র মারিয়া কোরাজোনই দুই অঙ্কের রান করতে সক্ষম হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভার থেকে নিচে পড়ে তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক আয়েশা সিদ্দিকা কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, কর্পোরাল পিয়াস এবং এলএসি জুবাইদুল।
আহতদের মধ্যে আছেন—কর্পোরাল সিফাত ওরফে আবু সাঈদ, কর্পোরাল মাহবুব, এলএসি আহাদ এবং সিনিয়র অফিসার আবুল খায়ের।
তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন এবং আবুল খায়ের সামান্য আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাইওভারে অবস্থানরত অবস্থায় পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং চারজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই নিহত ও আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় এটি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া। ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মৃত্যুর মাধ্যমে দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায় সমাপ্ত হয়। ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান, সংগ্রাম ও নেতৃত্ব বিশেষভাবে স্মরণ করছে বিএনপি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর। প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলায় দলটি একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, বিরোধী দলে থেকেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করেছে। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল প্রায় ৪৩ বছরের। ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে যোগদানের পর ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি আমৃত্যু দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর তাঁকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮০-এর দশকে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি দলটিকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত করেন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অধ্যায় ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এরপর সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রায় খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সরকারের সময় সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের রাজনৈতিক পালাবদলেও বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। বিশেষ করে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ের পর তিনি আবার সরকারপ্রধান হন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি একদিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে, অন্যদিকে দলীয় সংগঠনও বিস্তৃত করে।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্ক ও কঠিন সংকটে পরিপূর্ণ। ২০০৭ সালের পর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, কারাবাস, মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ডের পর তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। বিএনপি বরাবরই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবেগ তাই আলাদা। বিএনপির জন্য ১ সেপ্টেম্বর শুধুমাত্র দল প্রতিষ্ঠার দিন নয়; এটি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বকে স্মরণ করার দিনও হয়ে উঠছে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, খালেদা জিয়ার অবর্তমানে বিএনপির সামনে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর উত্তরাধিকারকে রাজনীতিতে কীভাবে আরও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায়। দীর্ঘদিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন দলের ঐক্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে দলটি একাধিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচন মোকাবিলা করেছে। ফলে তাঁর অবর্তমানে দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং নতুন নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বও বিশেষভাবে আলোচনায় আসছে। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর তিনি দেশে ফিরে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন পর্যায়ের সূচনা করেছেন। ফলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধারণ করে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়া তাঁর জন্যও বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির সামনে তাই একই সঙ্গে রয়েছে আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ। একদিকে দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ, অন্যদিকে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম-এ দুই উত্তরাধিকার সামনে রেখে ভবিষ্যৎ পথচলার বার্তা দিতে চাইবে বিএনপি। ৪৮ বছরে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দলটির উত্থানপতন, আন্দোলন-সংগ্রাম, সরকার পরিচালনা এবং বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বড় অংশ জড়িয়ে আছে। আর সেই ইতিহাসে খালেদা জিয়ার অধ্যায়টি নিঃসন্দেহে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির জন্য শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বিশাল অবদান স্মরণের দিন। একই সঙ্গে তাঁর অবর্তমানে বিএনপির নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রতীকী মুহূর্ত। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গণতন্ত্রের মাতা ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রের পথেই বিএনপির পথচলা। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জাতীয়তাবাদ থাকবে, তত দিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
> ইসলাম ও জীবন
ইউরোপের ১১০ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে হাফেজ সাদ সাফল্য অর্জন করেছেন।
হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নুর আবারো বাংলাদেশের গৌরব উজ্জ্বল করেছেন আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত 'হাবিবুল কুরআন ইউকে' আয়োজিত 'ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন কম্পিটিশন-২০২৬'-এ তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। হাফেজ সাদের এই অসাধারণ কৃতিত্ব বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশ্ব দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এই বৃহৎ প্রতিযোগিতাটি ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বোল্টনে অবস্থিত ঐতিহাসিক জাকারিয়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ১১০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে 'এ-২' গ্রুপে হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নুর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই সাফল্য অর্জন করেন। বিচারকদের তিনি তার অসাধারণ ও সুললিত কণ্ঠের মাধ্যমে মুগ্ধ করেন। ফলাফল ঘোষণার পর আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সনদ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১ এ অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল-ইসলামীর কিতাব বিভাগের কৃতি ছাত্র হাফেজ শেখ সাদ। উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এর আগে এই মাদ্রাসা থেকেই হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম, মুয়াজ মাহমুদ এবং আনাস মাহফুজরা সৌদি আরব, দুবাই, ইরান, তুরস্কসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্ব জয় করেছেন। হাফেজ সাদ সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে আরো সমৃদ্ধ করেছেন।
হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নুরের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে মারকাযু ফয়জিল কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজি মাসুম বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, হাফেজ সাদ নূরের এই সাফল্যে আমরা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।" তিনি আরও বলেন, "এই অর্জন শুধু সাদ নূরের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের। আমাদের লক্ষ্য হলো কোরআনের আদর্শে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা যাতে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এবং কোরআনময় বিশ্ব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।" সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কৃতি হাফেজের সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মের কোরআন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছাত্রশিবিরের ট্রেনিং ক্যাম্পে বক্তারা
মেধা-নৈতিকতার সমন্বয়ে দুর্নীতিমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার আহ্বানবাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ বিভাগের উদ্যোগে চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ১০ দিনব্যাপী 'প্রি-কলেজ স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং ক্যাম্প (পিসিএসডি) ২০২৬।গাজীপুরের একটি মিলনায়তনে গত ২১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর পরিচালনায় এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ‘সততা ও দূরদর্শিতায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা’।সোমবার শিবিরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলেজ জীবনের বৃহত্তর শিক্ষাঙ্গণে প্রবেশের আগে শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক, ভাষাগত ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই নিবিড় ক্যাম্পে প্রতিদিন ইংরেজি ও কম্পিউটারের ওপর মোট ৪০টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাডেমিক ক্লাসের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, বিষয়ভিত্তিক স্টাডি সেশন, মোটিভেশনাল ক্লাস এবং ইনোভেটিভ গেমসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশে জোর দেওয়া হয়।সমাপনী ও অন্যান্য সেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত ও একাডেমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি, আত্মিক পবিত্রতা ও স্রষ্টার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছাড়া প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। একজন আদর্শ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের মধ্যে সঠিক চরিত্র এবং সঠিক দিকনির্দেশনা— দুটিরই সমন্বয় প্রয়োজন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জিপিএ-৫ অর্জন আপনাদের জীবনের একটি গৌরবময় মাইলফলক হলেও এটি চূড়ান্ত গন্তব্য নয়। 'সততা ও দূরদর্শিতায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা'- এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আপনাদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং নৈতিক দৃঢ়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। আগামীর ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আপনাদেরকেই সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। এদেশের মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম এমপি ও জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ