ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেডিকেল ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানালেন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেডিকেল ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানালেন

দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হিসেবে পরিচিত। প্রায় ছয় দশকের পথচলায় শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, অবকাঠামো সম্প্রসারণের অভাবে আবাসন, শ্রেণিকক্ষ সহ বিভিন্ন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা, আন্তর্জাতিক পরিসরে অবস্থান এবং সময়োপযোগী নতুন বিষয় চালুর মতো ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সমস্যা ও সংকট, দায়িত্ব গ্রহণের সময়কার পরিস্থিতি, সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা এবং সরকারের কাছে প্রত্যাশাসহ নানা বিষয়ে আরটিভির চবি সংবাদদাতা আল আরাফের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

আরটিভি: উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে কী অবস্থায় পেয়েছিলেন? দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার সামনে প্রথম চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

উপাচার্য: দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, তা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের গতি। আমার গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার মতো লোকের অভাব রয়েছে। ফলে আমি যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করলে সেটি বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে। বিশ্লেষণ করে দেখলাম, কাজ না করার যে সংস্কৃতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান, এটি আমাদের অনেক সহকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাদের কাজের স্ট্রিমে ফিরিয়ে আনা ছিল আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ।

আরটিভি: বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা বা সংকটগুলো কী? বিশেষ করে আবাসন ও অবকাঠামোর পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন?

উপাচার্য: দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো, গত ৯ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটিও ডিপিপি আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল, শিক্ষক, ছাত্র এবং বিভাগের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু উন্নয়নের কাজগুলো হয়নি।

আরও পড়ুন: পাবিপ্রবির শিক্ষার্থী আহত, সাত দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

বর্তমানে আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আবাসন সংকট। ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের জন্যই এই সংকট বিদ্যমান। নতুন বিষয় বা বিভাগ খোলার জন্য অন্তত পাঁচটি ক্লাসরুম প্রয়োজন। একজন চেয়ারম্যানের জন্য একটি কক্ষ এবং ১০ জন শিক্ষকের জন্য ১০টি কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ না করেই বিভাগগুলো খোলা হয়েছে।

আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি বুঝতে পেরেছি যে, অনেক সহকর্মী ও শিক্ষার্থীর আমার প্রতি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, স্যারের কাছে গেলেই সবকিছু হয়ে যাবে। কিন্তু এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

আরটিভি: তাহলে আবাসন ও অবকাঠামো সংকট নিরসনে কী পরিকল্পনা নিয়েছেন?

উপাচার্য: গত ছয় মাসের মধ্যে আমি দুটি প্রজেক্টকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছি। প্রথমটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি নির্মাণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ বছরের ইতিহাসে এটি একটি নতুন উদ্যোগ। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে টিএসসির কাজ শুরু করতে পারব।

আরও পড়ুন: শেকৃবি শিক্ষার্থীরা নতুন সচিবালয় নির্মাণের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে গেলেন

আরেকটি মূল প্রজেক্ট হলো আমাদের ডিপিপি, যেখানে মেয়েদের জন্য একটি হল রয়েছে। সেখানে এক হাজার মেয়ে একসঙ্গে থাকতে পারবে। যদি আমরা এ বছরের মধ্যে এই দুটি ডিপিপিকে কার্যকর করতে পারি, তাহলে পাইপলাইনের মধ্যে আরও অনেক প্রজেক্ট যুক্ত করতে পারব, যাতে শিক্ষার্থী ও বিভাগের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি রাখতে পারি।

আরটিভি: সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে নতুন বিভাগ বা বিষয় চালুর বিষয়ে কী ভাবছেন?

উপাচার্য: আমাদের কিছু নিজস্ব বিভাগ এখন সময়ের দাবি। আইটি, এআই-বেজড সাবজেক্ট, ডেটা সায়েন্স এই বিষয়গুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সাবজেক্টগুলো থেকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ফলে এগুলো সময়ের দাবি।

আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি প্রয়োজন, যেখানে আমরা এমবিবিএস ডিগ্রি প্রদান করতে পারব এবং একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটি থাকবে। এটি এখন সময়ের দাবি এবং প্রয়োজনের দাবি। এই কাজগুলো করার জন্য আমাদের ডিপিপি প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

আরটিভি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনার জায়গাগুলো কোথায় দেখছেন? সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় সম্ভাবনার জায়গা এবং সম্ভাবনা তৈরি করে। আমরা সেই সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা ছাত্র যখন বাইরে যান, তাদের সঙ্গে যৌথ প্রোগ্রাম করার সুযোগ রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেল পুনর্গঠন করেছি এবং দক্ষ পরিচালক ও উপপরিচালক নিয়োগ দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় দুঃখ হলো, দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও যখন ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং হয়, তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে কোনো জায়গায় নেই। এজন্য আমি ইনস্টিটিউশনাল র‍্যাঙ্কিং সেল গঠন করেছি। ইতোমধ্যে এর পরিচালক ও সহকারী পরিচালক নিয়োগ করেছি। তারা আগামীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন।

গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি। গবেষণা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থাকে না। গবেষণার স্পেকট্রাম বাড়ানোর জন্য আমরা থিসিসের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছি।

আরও পড়ুন: চুয়েটে ৩৬ দিন পর বুধবার থেকে ক্লাস শুরু, বিভাগের প্রধানরা নিশ্চিত নন

আরটিভি: দায়িত্ব নেওয়ার সময় আপনি বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার চেয়ে সাড়ে তিনটার বাসের প্রতি বেশি নজর থাকে এবং গবেষণা বাজেটের বড় অংশ ফেরত যায়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

উপাচার্য: এমফিল গবেষক দুই বছরের জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা পাবেন। পিএইচডি গবেষক তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা পাবেন। সেই সঙ্গে গবেষণা পরিচালনার জন্য সম্মানীও রয়েছে।

গত বছর আমরা গবেষণার জন্য যে বাজেট পেয়েছিলাম, এ বছর তা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা বেশি পেয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার ফান্ড ফেরত যায়নি। বরং আমরা আরও বেশি চাইতে পারি, সেই ব্যবস্থা করছি।

আমরা এমন গবেষণা নিশ্চিত করতে চাই, যা দেশের কল্যাণে সহায়ক হবে। গবেষণা আমাদের অর্থনীতিতে, জিডিপিতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে। এর জন্য আমরা গবেষণা সহায়তা ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরও পড়ুন: ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণের বিরুদ্ধে মুসাদ্দিকের প্রতিবাদ

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে শিল্প খাতের সংযোগ তৈরিতে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চমৎকার আইডিয়া রয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের একটি চিন্তার ফসল। আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন নিশ্চিত করতে চাই। যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক শক্তিশালী, সে দেশে গবেষণার ক্ষেত্র উন্নত।

সেজন্য আমরা ইতোমধ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সেল গঠন করেছি। পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আগামী মাসের প্রথম দিকে চট্টগ্রামের চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে একটি বড় সমাবেশ করছি। সেখানে আমরা তাদের সহযোগিতা এবং সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

আরটিভি: এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছে আপনার চাওয়া বা প্রত্যাশা কী?

উপাচার্য: আমাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জিজ্ঞেস করেছেন, ‘ছয় মাস, আপনাদের প্রকল্প কই?’ অর্থমন্ত্রী আমাদের জিজ্ঞেস করছেন, ‘আপনারা কেন প্রকল্প আনছেন না?’

আমরা সব জায়গা থেকে পজিটিভ রেসপন্স পাচ্ছি। অর্থাৎ যখনই আমরা প্রকল্পগুলোকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে পারব, তখন সহযোগিতা পাব। আমাদের অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও আমাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তারা সরাসরি বলেছেন, ‘আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা চান, আমাদের বলুন। প্রয়োজনে আমরা আপনার সঙ্গে যাব।’

এটি আমার জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। আমরা আশা করছি, সবার সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখছি, সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


রিয়াদে জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ইয়েমেনের হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি সামরিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। এই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা আলোচনা করবেন, কীভাবে হুতিদের হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করা সম্ভব।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই বৈঠকের। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর তিন দেশের সামরিক প্রধানদের বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে সামরিক প্রধানরা বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় বা সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেননি। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। চুক্তির পর থেকেই তিন দেশ এর আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে।

গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানরা প্রথমবারের মতো কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন এবং তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করার বিষয়ে তারা একমত হন।

বৃহস্পতিবারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মক্কা ও সৌদি আরবের বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়। ইয়েমেন থেকে নতুন করে হামলার খবর পাওয়ার পর এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এই সময়ে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আজ শুক্রবার হাম সম্পর্কিত নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকা, হবিগঞ্জ ও কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৪।

এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জনে। একই সময়ে ৬৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ১৫ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা দেখছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


স্পেনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা দেখছেন

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বস্ত্র, ওষুধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এগ্রি-বিজনেস, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং ভোগ্যপণ্য খাতে বিশাল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছেন।

আজ বৃহস্পতিবার স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ: এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো বাংলাদেশে বাজারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশটি (বাংলাদেশ) টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫ সালে এর বাণিজ্যের আকার ছিলো প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো।

সেমিনারে বাংলাদেশে সবুজ বিনিয়োগের (গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট) সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ’গ্রিন ইনভেস্টমেন্টে’র সুযোগ রয়েছে। এ সময়, রপ্তানি বহুমুখীকরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা হিসেবেও উল্লেখ করেন মাদ্রিদ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ইউরোপের ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি প্রদানের মতো বড় সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থেকে সরকার নির্দিষ্ট মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারবে।

সেমিনারে স্পেনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক পাবলো আরাউজো, মলিন্স-এর এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এলবা এবং রিকভার-এর সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর আনা রোডেস।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীরসহ স্পেনে সফররত এফবিসিসিআই’র ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ, মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প-সংযোগ স্থাপন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১১ দিনের সফরে ইউরোপ গেছে এফবিসিসিআই’র একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। ২৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআই‘র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও সীমান্ত অপরাধ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


মাদক ও সীমান্ত অপরাধ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীর

কক্সবাজার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেছেন, "মাদক সমস্যা, সীমান্ত অপরাধ ও শরণার্থী কেন্দ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণমাধ্যম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।"

আজ শুক্রবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের পারস্পরিক ভৌগোলিক ও সামাজিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, "কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম একই সুতোয় গাঁথা।" তিনি আরও বলেন, "কক্সবাজার ও বান্দরবানসহ দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে এবং দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।" এছাড়া কক্সবাজারের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ মাদক কারবার, চোরাচালান, নারী ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।" তিনি এসব সংকট নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার কথা বলেন। একইসাথে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সহযোগিতায় স্থানীয় সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফরসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা বক্তব্য রাখেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%