বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৫ এম
দেশের অর্থনীতিতে নানা চাপের মধ্যে প্রবাস আয় স্বস্তি প্রদান করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭.৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সৌদি আরবে সামরিক উত্তেজনা ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে এই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মন্তব্য করেছেন যে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের ধীরগতি, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা, শিল্পের শ্লথগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে কর্মসংস্থান, প্রবাসীদের আয় এবং দেশে অর্থ পাঠানোর প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের ১৬.১৩ শতাংশ সৌদি আরব থেকে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে। এই সময়ে মোট প্রবাস আয়ে সৌদি আরবের অংশ বেড়ে প্রায় ১৯ শতাংশ হয়েছে। ফলে দেশটির শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হয়েছে। এ রুটে সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ারলাইনসটি। ইতিমধ্যে প্রায় ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ঢাকা ও রিয়াদ মিলিয়ে আট থেকে নয় হাজার যাত্রী পরিবহনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফ্লাইট চালু হলেও সীমিত স্লটের কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া তিন লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে এক লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৬ জন সৌদি আরবে গেছেন। অর্থাৎ এ সময়ে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর অর্ধেকের বেশি দেশটিকে বেছে নিয়েছেন। তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা ৩৮.৫৩ শতাংশ কমেছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটময় সময় পার করছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাস আয় ও শ্রমবাজারে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে সীমাবদ্ধতার কারণে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সংঘাতের ফলে প্রবাসীদের আয় ও অর্থ পাঠানোর সুযোগ ব্যাহত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সে।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার এবং প্রবাস আয়ের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে কর্মীদের আয় কমে যাওয়া, কর্মহীন হয়ে দেশে ফেরা এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আটকে পড়া কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জরুরি। পাশাপাশি ইউরোপ ও জাপানের মতো বিকল্প শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে হবে।
রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে গেলে ডলারের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব, রপ্তানি আয় ও অন্যান্য বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের ওপর।
এক বছরে ১৭.৩০ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে স্বস্তি দিলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অস্থিরতা সেই অর্জন ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির বোখুম শহরের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে তিন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে বোখুমের হফস্টেড এলাকার একটি বহুতল ভবনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করে তদন্ত শুরু করেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দমকলকর্মীরা ভবনটির দ্বিতীয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে দুজন তরুণী (বয়স ২৫ ও ২৭ বছর) এবং একজন পুরুষ (বয়স ২৬ বছর) রয়েছেন। তারা সকলেই ভারতীয় নাগরিক। অন্যদিকে, ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া আরও পাঁচজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের জাতীয়তা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।
ভবনের সিঁড়িপথ ধরে দ্রুত আগুন উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলে দমকলকর্মীদের জন্য অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে প্রবেশ করা এবং ওপরের তলার বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই ভবনের ৪১ বছর বয়সী এক রোমানিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে অগ্নিকাণ্ডটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘটেনি। এটি একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ নাকি কোনো দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতারণা সন্দেহজনক ফোনকল বা ইমেইলের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় অপরাধীরা কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রতারণার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট থেকে তারা একজন ব্যক্তির পরিবার, কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এই তথ্য ব্যবহার করে তারা বিশ্বাসযোগ্য পরিচয়ে প্রতারণা করে।
এনডিটিভি জানায়, জন্মদিনের পোস্ট, সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিনের ছবি কিংবা নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার খবর—এসব তথ্য সাধারণ মনে হলেও প্রতারকদের কাজে লাগতে পারে। বিভিন্ন পোস্ট থেকে সংগৃহীত তথ্য একত্রিত করে তারা এমন গল্প তৈরি করতে পারে, যা দেখে সহজেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। পরিচিত বা বিশ্বস্ত কারও পরিচয় ব্যবহার করে তারা টাকা চাইতে পারে অথবা ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মিটিগাটার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সার্তক দুবে এনডিটিভিকে বলেন, "অনলাইনে শেয়ার করা তথ্য প্রতারকদের লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে জানতে এবং আরো বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতারণা করতে সাহায্য করে।" কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর ও পরিচয় নকল করা সহজ হওয়ায় এই ঝুঁকি আরো বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইলে থাকা জন্মদিন, স্কুলের নাম, পরিবারের সদস্যদের নাম কিংবা পোষা প্রাণীর নামও প্রতারকদের কাজে লাগতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে তারা পরিচয় চুরি করতে পারে। এমনকি বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর বের করা বা পাসওয়ার্ড অনুমান করার চেষ্টা করতে পারে।
যদি কোনো প্রতারক কারও সন্তানের নাম, স্কুল ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে সে পরিবারের সদস্য পরিচয়ে বার্তা পাঠাতে পারে। ওই বার্তায় জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে টাকা চাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে।
বার্তায় ব্যক্তিগত জীবনের পরিচিত তথ্য থাকায় সেটিকে সত্যি বলে মনে হতে পারে। ফলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে না পেরে অনেকে টাকা পাঠিয়ে দেন বা ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে বসেন।
প্রতারকেরা শুধু ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যম থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে। লিংকডইনে প্রকাশিত চাকরির পদবি, কর্মীদের দায়িত্ব, নতুন নিয়োগের খবর ও কাজসংক্রান্ত পোস্ট দেখে তারা একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।
এসব তথ্য থেকে বোঝা সম্ভব হতে পারে, প্রতিষ্ঠানে কে টাকা লেনদেন করেন, কে অর্থ পাঠানোর অনুমোদন দেন এবং কে নতুন কাজে যোগ দিয়েছেন। নতুন কর্মীরা এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। কারণ, তারা তখনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ও কাজের পদ্ধতি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেন না। এই সুযোগে প্রতারকেরা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে তাদের দ্রুত টাকা পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারে।
একইভাবে অর্থ ও হিসাব বিভাগের কর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তাদের ভুল বুঝিয়ে প্রতারকের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে অপরাধীরা। কর্মীদের অফিসের ইমেইল ঠিকানাও ব্যবহার করা হতে পারে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানোর জন্য।
অনলাইনে পাওয়া ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড ও এআই প্রযুক্তি যুক্ত হলে প্রতারণার ঝুঁকি আরো বাড়ে।
বিভিন্ন সময়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় প্রকাশ হয়ে যাওয়া পাসওয়ার্ড অনলাইনে থেকে যেতে পারে। অনেকে একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। ফলে একটি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড চুরি হলে অন্য অ্যাকাউন্টেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে অপরাধীরা।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারও কণ্ঠস্বর নকল করাও সম্ভব। প্রকাশ্য ভিডিও, সাক্ষাৎকার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকে পাওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনা ব্যবহার করে এ ধরনের নকল তৈরি করা হতে পারে।
এরপর পরিবারের সদস্যের কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি প্রয়োজনে টাকা চাওয়া কিংবা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয়ে কর্মীকে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
এআইভিত্তিক বিভিন্ন সরঞ্জাম সহজলভ্য হওয়ায় অন্যের কণ্ঠস্বর ও পরিচয় নকল করতে আগের তুলনায় কম সময়, অর্থ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা লাগতে পারে। তাই পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনলেই কাউকে আসল ব্যক্তি বলে বিশ্বাস করা নিরাপদ নয়。
প্রতারণা থেকে বাঁচতে পাঁচটি সতর্কতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টাকা বা তথ্য চাওয়ার অনুরোধ যাচাই করা জরুরি। প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
১. ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখুন : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জন্মদিন, পরিবারের ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য কারা দেখতে পারবেন, তা নির্ধারণ করুন। সংবেদনশীল তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত রাখবেন না।
২. টাকা চাওয়ার অনুরোধ যাচাই করুন : পরিবারের সদস্য পরিচয়ে কেউ জরুরি ভিত্তিতে টাকা চাইলে তার পরিচিত ফোন নম্বরে কল করে নিশ্চিত হোন। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি গোপন সংকেত বা শব্দও ঠিক করে রাখা যেতে পারে।
৩. অফিসের আর্থিক নির্দেশ যাচাই করুন : নতুন করে টাকা পাঠানোর নির্দেশ বা ব্যাংক হিসাব পরিবর্তনের অনুরোধ এলে অন্য একটি যোগাযোগমাধ্যমে তা নিশ্চিত করুন। সন্দেহজনক বার্তায় দেওয়া নম্বরের বদলে আগে থেকে জানা বিশ্বস্ত নম্বরে যোগাযোগ করুন।
৪. অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ান : প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। পাশাপাশি দুই বা তার বেশি ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু রাখুন। সম্ভব হলে পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা অ্যাপ বা নিরাপত্তা চাবি ব্যবহার করুন।
৫. পোস্ট দেওয়ার আগে সতর্ক হোন : ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণের পরিকল্পনা কিংবা নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর অনুমান করতে সাহায্য করে—এমন তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন। কর্মক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও কাজের ধরন সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়েও সতর্ক থাকুন।
প্রতারকেরা সাধারণত ভুক্তভোগীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। ফোন করে পরিবারের কোনো সদস্য বিপদে পড়েছেন বলে জানানো হতে পারে। আবার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয়ে ইমেইল পাঠিয়ে দ্রুত টাকা পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
এ ধরনের অনুরোধের উদ্দেশ্য হলো, ভুক্তভোগী যেন চিন্তা করার বা তথ্য যাচাই করার সময় না পান। তাই জরুরি বলে চাপ দেওয়া হলে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
প্রতারণা করতে অপরাধীদের সব সময় কারও অ্যাকাউন্টে প্রবেশের প্রয়োজন হয় না। মানুষ অনলাইনে স্বেচ্ছায় যেসব তথ্য প্রকাশ করে, সেগুলো দিয়েই তারা বিশ্বাসযোগ্য পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ তৈরি করতে পারে।
জন্মদিনের তথ্য বা একটি ছবি একা বড় ঝুঁকি তৈরি না করলেও পরিবারের তথ্য, কর্মক্ষেত্রের পরিচিতি, ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড ও নকল কণ্ঠস্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে তা প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সতর্ক থাকা এবং টাকা পাঠানো বা সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার আগে পরিচয় যাচাই করাই প্রতারণা ঠেকানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে বসবাসের সুযোগ দিয়েছেন, বিবেক-বুদ্ধি ও জ্ঞান দান করেছেন এবং সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ও কল্যাণ-অকল্যাণের পার্থক্য বোঝার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেইসঙ্গে, পৃথিবীর সম্পদ, প্রকৃতি ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তবে, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মুখে ঈমানের দাবি করাই যথেষ্ট নয়। বিশুদ্ধ আকিদা, সৎকর্ম, আত্মত্যাগ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি গভীর ভালোবাসা, পরকালমুখী জীবনবোধ এবং সময়োপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিন ও সৎকর্মশীলদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব ও কর্তৃত্ব লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৫)
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা দুটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ করেছেন—ঈমান ও সৎকর্ম। ঈমান মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কিত করে, জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সৎকর্ম ঈমানের বাস্তব প্রতিফলন ঘটায়। মানুষের আচরণ, লেনদেন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক দায়িত্ব, বিচার-ইনসাফ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ঈমানের প্রভাব প্রকাশ পায়।
যদি একজন ব্যক্তি মুখে ঈমানের দাবি করলেও তার কাজে অন্যায়, প্রতারণা, জুলুম ও মানুষের অধিকার হরণের প্রকাশ ঘটে, তবে তার দাবি ও বাস্তব জীবনের মধ্যে একটি বড় ধরনের অসংগতি থেকে যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত।’ (সুরা : লুকমান, আয়াত : ৮)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঈমান ও সৎকর্ম পরকালীন মুক্তি ও পুরস্কার লাভের মৌলিক ভিত্তি। তবে মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে ক্ষমতা বা প্রভাব অর্জন করলেই কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হয়ে যায় না। সুরা আন-নুরের ৫৫ নম্বর আয়াতের প্রতিশ্রুতি ঈমান, সৎকর্ম ও একনিষ্ঠ ইবাদতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রতিনিধিত্বের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত আধিপত্য নয়; বরং আল্লাহর ইবাদত, দ্বীনের প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা এবং কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১. আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা
পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব লাভের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা। এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে বিশুদ্ধ ঈমান, একনিষ্ঠ ইবাদত, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং তাঁর নির্দেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য। মানুষ যতই জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সম্পদে উন্নত হোক না কেন, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেলে তার জীবনের উদ্দেশ্য ও নৈতিক দিকনির্দেশনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫২)
২. দ্বীনি লক্ষ্য অর্জনে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকা
মহৎ লক্ষ্য অর্জনের পথ কখনোই সম্পূর্ণ বাধাহীন হয় না। সত্য প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সমাজকে অন্যায় থেকে মুক্ত করার জন্য ধৈর্য, শ্রম ও আত্মত্যাগের প্রয়োজন হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে, তারা “আমরা ঈমান এনেছি” বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না?’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ২)
৩. আল্লাহর আদেশ-নিষেধের প্রতি গভীর সম্মান লালন করা
আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব লাভের অন্যতম শর্ত হলো তাঁর নির্দেশের প্রতি অন্তর থেকে সম্মান প্রদর্শন করা। বাহ্যিকভাবে কিছু ধর্মীয় বিধান পালন করাই যথেষ্ট নয়; বরং আল্লাহর আদেশকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তাঁর নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনদের বক্তব্য তো কেবল এটাই—যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে আহ্বান করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৫১)
৪. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া
ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি গভীর ভালোবাসা। এই ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং জীবনের সিদ্ধান্ত, আচরণ ও মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে তার প্রতিফলন ঘটতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়স্বজন, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের সেই ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা করো এবং তোমাদের পছন্দের বাসস্থান—এসব আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও তাঁর পথে প্রচেষ্টা চালানোর চেয়ে তোমাদের কাছে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ২৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সব মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫)
৫. পরকালকে ইহকালের ওপর প্রাধান্য দেওয়া
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, আর আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। তাই একজন মুমিনের কাছে পার্থিব সাফল্যের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাত অধিক উত্তম ও অধিক স্থায়ী।’ (সুরা : আলা, আয়াত : ১৬-১৭)
৬. বিশুদ্ধ ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করা
পৃথিবীতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য যেমন ঈমান ও সৎকর্ম প্রয়োজন, তেমনি আখিরাতের মুক্তির জন্যও এগুলো অপরিহার্য। মানুষের জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু ক্ষমতা, সম্পদ কিংবা খ্যাতি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তার চূড়ান্ত লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৯৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের হিসাব নিজেই নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর কাছে নানা আশা পোষণ করে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৯)
৭. সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করা
আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও যোগ্যতার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সৎ ইচ্ছা কিংবা আবেগ দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায় না। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সময়োপযোগী জ্ঞান প্রয়োজন।
বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজবিজ্ঞান, কূটনীতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো সমাজ পরিচালনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করলে মানুষের কল্যাণে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হয়। পবিত্র কোরআনে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর একটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তিনি বললেন, আমাকে দেশের ধনভান্ডারের দায়িত্ব দিন। নিশ্চয়ই আমি সংরক্ষণকারী ও জ্ঞানসম্পন্ন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৫৫)
৮. মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা
পৃথিবীতে আল্লাহর নির্দেশিত পথে দায়িত্ব পালনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করা এবং মানবকল্যাণে কাজ করা। ইসলামের দাওয়াত শুধু বক্তব্য, বক্তৃতা কিংবা লেখালেখির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ, ন্যায়বিচার, দয়া, সততা এবং কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন সর্বোত্তম পন্থায়।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)
আসুন, আমরা শুধু পৃথিবীতে মর্যাদা, ক্ষমতা কিংবা নেতৃত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা পোষণ না করে সেই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জনে আত্মনিয়োগ করি। নিজেদের ঈমান ও আমলকে পরিশুদ্ধ করি, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করি, অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়কে, স্বার্থপরতার পরিবর্তে মানবকল্যাণকে এবং অহংকারের পরিবর্তে আমানতদারিকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি। মহান আল্লাহ আমাদের এমন মুমিন হিসেবে কবুল করুন, যাঁরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি পৃথিবীতে ন্যায়, কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারেন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩, ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮।
ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ উল্লেখ করা হলো—
জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৪৮ মিনিটে।
আসরের নামাজ শুরু হবে ৩টা ৫৫ মিনিটে।
মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৫টা ৩৬ মিনিটে।
এশার নামাজ শুরু হবে ৬টা ৫০ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪৪ মিনিটে
আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় ৫টা ৩৬ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় ৫টা ৫৬ মিনিটে হবে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ