মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৯ পি.এম
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর ক্লাবটিকে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন চেলসি ও টটেনহ্যামের সাবেক কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তিনি মন্তব্য করেন, ফুটবল দুনিয়ায় গত কিছু বছর ধরে এক ধরনের অসাধুতা বা ধোঁকাবাজি চলছে, যা ফুটবলের আসল নিয়ম-কানুন ও খেলাধুলার সততাকে নষ্ট করেছে।
চিলির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য ঐতিহাসিক এই রায়ের পর এখনো কোনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ক্লাবটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা এই আর্থিক অভিযোগগুলো মূলত ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালের। এর পাশাপাশি, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ পচেত্তিনো এই বিতর্কিত সময়ে প্রিমিয়ার লিগের তিনটি ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ সাউদাম্পটনে ১৫ মাস, টটেনহ্যামে দীর্ঘ ৫ বছর এবং চেলসিতে এক মৌসুম কাটিয়েছেন।
পচেত্তিনো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এখন তাদের যে শাস্তিই দিক না কেন, ফেলে আসা সোনালি সময়কে আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ যা ক্ষতি হওয়ার, তা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, এই নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা পুরো ফুটবল কাঠামোর জন্য অনেক বড় ক্ষতি করেছে। লিগের অনেক ক্লাব শত কষ্টের মাঝেও নিয়ম মেনে চলেছে, যেখানে কিছু ক্লাব নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। যেখানে খেলার মাঠে কোনো প্রকৃত সততা বা ফেয়ার প্লে ছিল না। ফলে অতীতে যা কিছু উদযাপন করা হয়েছে, তার অনেক কিছুই আজ কৃত্রিম মনে হচ্ছে।’
এই অনিয়মের কারণে ফুটবলের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কিভাবে মেরামত করা সম্ভব, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি যোগ করেন, যদি ১১৪টি নিয়ম ভাঙার খবর পুরোপুরি সত্যি হয়, তবে আমরা সবাই আসলে একটি প্রতারণামূলক যুগের মধ্যে বাস করেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বর্তমানে দলের ও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী আন্দোলনে দলের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার গুরুদায়িত্ব ৩৭ বছর বয়সী এই নেতার ওপর বর্তিয়েছে, যিনি প্রায় ৩৭ মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।
আফ্রিদি আগামী ৪ অক্টোবরের ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধেও জড়িয়ে পড়েছেন। তবে আফ্রিদি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি ঘোষণা করেছেন, ৪ অক্টোবর যেকোনো পরিস্থিতিতে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইমরান খান কারাগারে থাকায় পিটিআইয়ের আন্দোলন সংগঠনের ক্ষেত্রে আফ্রিদির ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের এটি হবে দ্বিতীয় বড় ইসলামাবাদমুখী মিছিল। দলের দাবি, ইমরানকে মুক্তি দিতে হবে এবং তার রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সোহেল আফ্রিদির জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ জুলাই খাইবার পাখতুনখোয়ার বারায়। তিনি পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পিটিআইয়ের ছাত্রসংগঠন ইনসাফ স্টুডেন্টস ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি বারার একটি আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আলী আমিন গান্দাপুরের পদত্যাগের পর ইমরান খানের সমর্থনে তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
আফ্রিদি প্রদেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মুখ্যমন্ত্রী এবং সাবেক উপজাতীয় অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রথম ব্যক্তি যিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও সরকার তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আফ্রিদি আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, "যদি বিচারকদের আদেশ কার্যকর না হয়, তবে পাকিস্তান ‘কলা প্রজাতন্ত্রে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।"
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তার বৈধতা নিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। একই দিনে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত তার পাসপোর্ট আটকের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ৪ অক্টোবরের মার্চে প্রাদেশিক সরকারের সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি, প্রাদেশিক সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে মিছিল আয়োজনের বিষয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সতর্ক করেছে।
তবে আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইমরান খানের মুক্তির জন্য আইনি পথের বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর আগস্টে আফ্রিদি ইসলামাবাদমুখী মিছিলের ঘোষণা দেন। পরে ইমরানের বোনদের আটক, মিছিল ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রাজধানীতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পেলেও আফ্রিদি তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ইমরানের বোন উজমা খান জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান তাকে আফ্রিদিকে আন্দোলন আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে বলেছিলেন।
এদিকে আফ্রিদির নেতৃত্ব ও পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে দলের ভেতরেও বিভিন্ন মত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরান খানের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক পিটিআই নেতা আসাদ উমর এ ধরনের সংকটের ধারণা নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন যে, দলীয় নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তবে পিটিআই নেতারা এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আফ্রিদি। তার বক্তব্য, মিছিলের দিন পরিস্থিতি যাই হোক, তিনি নিজেই এর নেতৃত্ব দেবেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবরের কর্মসূচি তার রাজনৈতিক ভূমিকার বড় পরীক্ষা হবে।
ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে আফ্রিদির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক সমর্থককে শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে নামানো। দলের নেতারাও মার্চের সাফল্য কীভাবে মাপা হবে, তা নিয়ে একমত নন। কেউ বড় জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে সাফল্যের মানদণ্ড বলছেন, আবার কেউ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াকেই সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন। আন্দোলন চলাকালীন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা তাদের এই ঘোষণা দেন। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সল ও তানভীর মাহমুদ।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান দ্বৈত প্রশাসন এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করার দাবি তাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ আন্দোলন, আমরণ অনশন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে একটি পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা, ক্যাম্পাস পরিদর্শন এবং বিভিন্ন মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ওই সুপারিশ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সভায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট’ বা আইইটি সাস্ট হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, এখনও সেই সিদ্ধান্তের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে, সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক ও গবেষণা পটভূমি ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, এর প্রতিবাদে গত রবিবার তারা ক্যাম্পাসে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তানভীর মাহমুদ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাদের কেউ লাইব্রেরিতে, কেউ গেস্ট হাউসে আছেন।
তানভীর মাহমুদ আরো বলেন, প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত ১৬-১৭ বছরে তারা নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও তাদের সেই অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘আমাদের এখানে সান্ধ্যকালীন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করা একজনকে এনে বিভাগীয় প্রধান করা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।’
আমি
এর আগে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে সোমবার শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ভবিষ্যতে কলেজটিকে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। তবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে আগে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে কলেজটিকে মুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইনস্টিটিউট কাঠামোয় নেওয়ার দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীরা বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা সংশ্লিষ্ট আদেশ দেওয়া হলেও তা মেনে নেবেন না বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছেন। তবে কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন, সেটি মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী এলাকার ব্যাংকের মাঠ বস্তিতে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসাকে সামনে রেখে মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাঝেমধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও কথিত মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এতে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগে আরফিনা বেগম ওরফে ‘বড় আপা’র নাম উঠে এসেছে। তাদের দাবি, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কোনো কোনো মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে আগেই সংশ্লিষ্টদের কাছে তথ্য পৌঁছে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরুর আগেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ওপর। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে মাদক কারবারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মাদক বিস্তারের কারণে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, পরিবার ও সামাজিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এদিকে মাদক কারবারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বাড়ি, গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের বিষয়ে এলাকায় আলোচনা থাকলেও এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছোট পর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের সরবরাহব্যবস্থা, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থের উৎস শনাক্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযান সম্পর্কে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আরফিনা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ব্যাংকের মাঠ বস্তিতে মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর মাদকবিরোধী অভিযান এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম-খুন এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পেলেও, এসব বন্ধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষ মুক্তির প্রত্যাশা করেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতির কারণে দেশের পরিচালনায় জনগণের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী বা শতবর্ষ উদযাপন করলেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
মঙ্গলবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে পরীক্ষা করেছে। কিন্তু বিদ্যমান নীতির মাধ্যমে কেউই সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি। তিনি নির্বাচনী ইশতেহার ভুলে গিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগও করেন।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। মানুষের প্রত্যাশা, ইসলামী আন্দোলনের হাত ধরেই দেশে নীতির পরিবর্তন আসবে।
সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দলের শীর্ষ নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে চাঁদাবাজি ও ধোঁকাবাজির ধারা থাকবে না বলে তারা আশা করেছিলেন, তবে বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি সরকার এখনো তালবাহানা করছে। এভাবে চলতে থাকলে জনবিস্ফোরণ ঘটতে সময় লাগবে না। গাজী আতাউর রহমান জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো গোপন এজেন্ডা নেই। দলটি প্রকাশ্যেই জানিয়েছে, তারা দেশে ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে চায়।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হবে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওয়ার্ডগুলো থেকেই শরিয়াহর বিজয় শুরু হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, তারা ভিশন ও মিশন নির্ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। জনগণ যদি তাদের নির্বাচিত করে, তাহলে ঢাকা মহানগরকে স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন, আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক, মহানগর উত্তর সহসভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম এবং মাওলানা ফরিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ