প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর ক্লাবটিকে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায়ের পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন চেলসি ও টটেনহ্যামের সাবেক কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তিনি মন্তব্য করেন, ফুটবল দুনিয়ায় গত কিছু বছর ধরে এক ধরনের অসাধুতা বা ধোঁকাবাজি চলছে, যা ফুটবলের আসল নিয়ম-কানুন ও খেলাধুলার সততাকে নষ্ট করেছে।
চিলির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য ঐতিহাসিক এই রায়ের পর এখনো কোনো চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তবে ক্লাবটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা এই আর্থিক অভিযোগগুলো মূলত ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালের। এর পাশাপাশি, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের কোচ পচেত্তিনো এই বিতর্কিত সময়ে প্রিমিয়ার লিগের তিনটি ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ সাউদাম্পটনে ১৫ মাস, টটেনহ্যামে দীর্ঘ ৫ বছর এবং চেলসিতে এক মৌসুম কাটিয়েছেন।
পচেত্তিনো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ এখন তাদের যে শাস্তিই দিক না কেন, ফেলে আসা সোনালি সময়কে আর কখনোই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ যা ক্ষতি হওয়ার, তা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, এই নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা পুরো ফুটবল কাঠামোর জন্য অনেক বড় ক্ষতি করেছে। লিগের অনেক ক্লাব শত কষ্টের মাঝেও নিয়ম মেনে চলেছে, যেখানে কিছু ক্লাব নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। যেখানে খেলার মাঠে কোনো প্রকৃত সততা বা ফেয়ার প্লে ছিল না। ফলে অতীতে যা কিছু উদযাপন করা হয়েছে, তার অনেক কিছুই আজ কৃত্রিম মনে হচ্ছে।’
এই অনিয়মের কারণে ফুটবলের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কিভাবে মেরামত করা সম্ভব, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি যোগ করেন, যদি ১১৪টি নিয়ম ভাঙার খবর পুরোপুরি সত্যি হয়, তবে আমরা সবাই আসলে একটি প্রতারণামূলক যুগের মধ্যে বাস করেছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন