প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি বর্তমানে দলের ও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদমুখী আন্দোলনে দলের কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার গুরুদায়িত্ব ৩৭ বছর বয়সী এই নেতার ওপর বর্তিয়েছে, যিনি প্রায় ৩৭ মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।
আফ্রিদি আগামী ৪ অক্টোবরের ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধেও জড়িয়ে পড়েছেন। তবে আফ্রিদি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া আত্মসমর্পণ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি ঘোষণা করেছেন, ৪ অক্টোবর যেকোনো পরিস্থিতিতে মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইমরান খান কারাগারে থাকায় পিটিআইয়ের আন্দোলন সংগঠনের ক্ষেত্রে আফ্রিদির ভূমিকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের এটি হবে দ্বিতীয় বড় ইসলামাবাদমুখী মিছিল। দলের দাবি, ইমরানকে মুক্তি দিতে হবে এবং তার রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সোহেল আফ্রিদির জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ জুলাই খাইবার পাখতুনখোয়ার বারায়। তিনি পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পিটিআইয়ের ছাত্রসংগঠন ইনসাফ স্টুডেন্টস ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি বারার একটি আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পিটিআইকে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আলী আমিন গান্দাপুরের পদত্যাগের পর ইমরান খানের সমর্থনে তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
আফ্রিদি প্রদেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মুখ্যমন্ত্রী এবং সাবেক উপজাতীয় অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রথম ব্যক্তি যিনি এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আগস্টে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও সরকার তাকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আফ্রিদি আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, "যদি বিচারকদের আদেশ কার্যকর না হয়, তবে পাকিস্তান ‘কলা প্রজাতন্ত্রে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।"
এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তার বৈধতা নিয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। একই দিনে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত তার পাসপোর্ট আটকের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ৪ অক্টোবরের মার্চে প্রাদেশিক সরকারের সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি, প্রাদেশিক সরকারের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে মিছিল আয়োজনের বিষয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সতর্ক করেছে।
তবে আলজাজিরা জানাচ্ছে, ইমরান খানের মুক্তির জন্য আইনি পথের বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর আগস্টে আফ্রিদি ইসলামাবাদমুখী মিছিলের ঘোষণা দেন। পরে ইমরানের বোনদের আটক, মিছিল ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রাজধানীতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পেলেও আফ্রিদি তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ইমরানের বোন উজমা খান জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান তাকে আফ্রিদিকে আন্দোলন আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে বলেছিলেন।
এদিকে আফ্রিদির নেতৃত্ব ও পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে দলের ভেতরেও বিভিন্ন মত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইমরান খানের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে সাবেক পিটিআই নেতা আসাদ উমর এ ধরনের সংকটের ধারণা নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন যে, দলীয় নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তবে পিটিআই নেতারা এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। এর মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আফ্রিদি। তার বক্তব্য, মিছিলের দিন পরিস্থিতি যাই হোক, তিনি নিজেই এর নেতৃত্ব দেবেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ৪ অক্টোবরের কর্মসূচি তার রাজনৈতিক ভূমিকার বড় পরীক্ষা হবে।
ইসলামাবাদমুখী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে আফ্রিদির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক সমর্থককে শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে নামানো। দলের নেতারাও মার্চের সাফল্য কীভাবে মাপা হবে, তা নিয়ে একমত নন। কেউ বড় জমায়েত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে সাফল্যের মানদণ্ড বলছেন, আবার কেউ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াকেই সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন