ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি


বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের খরচ কমানোর লক্ষ্যে অনেকেই তাদের বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বাজারে ৪০০, ৫৫০, ৬০০ ওয়াট বা তারও বেশি ক্ষমতার বিভিন্ন ধরনের প্যানেল উপলব্ধ রয়েছে। তাই শুধুমাত্র বেশি ওয়াটের প্যানেল দেখে কেনা উচিত নয়। বাড়িতে বিদ্যুতের প্রয়োজন, দৈনিক ব্যবহারের সময় এবং কোন ধরনের যন্ত্র চালানো হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করেই সোলার সিস্টেম নির্বাচন করা উচিত।

১. আগে হিসাব করুন কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন

সোলার প্যানেল কেনার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো নিজের বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা। দিনে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং কোন কোন যন্ত্র কত সময় ধরে চলে, তার একটি সঠিক হিসাব করা প্রয়োজন। ফ্যান, লাইট, টিভি, ফ্রিজ, পানির পাম্প, কম্পিউটার বা এসির মতো যন্ত্রের ব্যবহারের সময় আলাদা করে হিসাব করতে হবে। এই হিসাব না করে যদি ৫৫০ বা ৬০০ ওয়াটের প্যানেল কেনা হয়, তাহলে প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি ক্ষমতার সিস্টেম হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট যেভাবে আপনাকে প্রতারকদের লক্ষ্য বানায়

২. কত ওয়াটের প্যানেল লাগবে?

প্যানেলের ক্ষমতা নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং আপনার এলাকার সূর্যের আলো পাওয়ার ওপর। বাংলাদেশে, ভালো রোদ পেলে একটি সোলার প্যানেল দিনে তার রেটেড ক্ষমতার কয়েক ঘণ্টা সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে আবহাওয়া, ছায়া, প্যানেলের অবস্থান, তাপমাত্রা এবং সিস্টেমের ক্ষতির কারণে বাস্তব উৎপাদন কম হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ৫৫০ ওয়াটের কয়েকটি প্যানেল দিয়ে একটি সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব। তবে কতটি প্যানেল প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করতে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদার পাশাপাশি স্থানীয় সূর্যালোকের হিসাবও করতে হবে। তাই শুধুমাত্র ‘কত ওয়াটের প্যানেল’ নয়, পুরো সিস্টেমের মোট উৎপাদন ক্ষমতা পর্যালোচনা করা জরুরি।

৩. প্যানেলের ধরন বুঝে নিন

সোলার প্যানেলের মধ্যে মনোক্রিস্টালাইন, পলিক্রিস্টালাইন এবং বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্যানেল বিদ্যমান। মনোক্রিস্টালাইন প্যানেল সাধারণত স্থান অনুযায়ী ভালো উৎপাদন দিতে সক্ষম। আবার এন-টাইপ বা দ্বিমুখী প্রযুক্তির প্যানেল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আরও ভালো পারফরম্যান্স প্রদান করতে পারে। তাই শুধুমাত্র ‘সবচেয়ে নতুন’ প্রযুক্তি খুঁজে না দেখে, নিজের ছাদ, বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেল নির্বাচন করা উচিত।

আরও পড়ুন: ইতিহাসের এই দিনে: গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার, মাটা হ্যারির হত্যা ও লেবার পার্টির ক্ষমতায় আসা

৪. ব্যাটারি লাগবে কি?

এখানেও প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। যদি দিনের বেলায় মূলত সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ থাকে, তাহলে অন-গ্রিড সিস্টেম বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে সাধারণত বড় ব্যাটারি ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, যদি বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতে ফ্যান, লাইট, রাউটার বা অন্যান্য যন্ত্র চালাতে চান, তাহলে ব্যাটারিসহ অফ-গ্রিড বা হাইব্রিড সিস্টেম প্রয়োজন হতে পারে। তখন শুধু প্যানেল নয়, ব্যাটারির ক্ষমতাও হিসাব করতে হবে।

৫. ইনভার্টারকে অবহেলা করবেন না

প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও, বাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রে সেটি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত ইনভার্টার। ইনভার্টারের ক্ষমতা যেন সোলার অ্যারে এবং আপনার লোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড এবং হাইব্রিড কোন ধরনের সিস্টেম আপনার জন্য উপযুক্ত, সেটি নির্ভর করবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন এবং ব্যাকআপের প্রয়োজনের ওপর।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে, অস্থিরতা অব্যাহত

৬. ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর পরিষেবা দেখুন

সোলার সিস্টেম দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য কেনা হয়। তাই প্যানেল, ইনভার্টার এবং ব্যাটারির আলাদা ওয়ারেন্টি কতদিন, কোনো সমস্যা হলে কে পরিষেবা দেবে এবং যন্ত্রাংশ পাওয়া যাবে কি না, এসব বিষয় লিখিতভাবে জানার প্রয়োজন রয়েছে। অস্বাভাবিক কম দামের অফারে আকৃষ্ট হওয়ার পরিবর্তে পণ্যের মান ও পরিষেবার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অতএব, বাড়ির জন্য সোলার প্যানেল নির্বাচন করার সময় শুধুমাত্র প্যানেলের দাম বা ওয়াট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা, প্যানেলের মোট ক্ষমতা, ইনভার্টার, ব্যাটারি, ছাদের জায়গা এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুতের ব্যবহারের পরিকল্পনা সবকিছু মিলিয়ে সিস্টেম নির্বাচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ইউরিয়া সার কারখানা স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনীর জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলের ঘোষণা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন একমাত্র টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে। যদিও এটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়, তবে ম্যাচটিকে গুরুত্ব দিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ।

এই ম্যাচে পেসার নাহিদ রানা থাকছেন না। অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদকেও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। অমিত হাসানের জন্য দলে জায়গা হয়নি। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় পর টেস্ট দলে ফিরেছেন জাকের আলী অনিক।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্কোয়াডে থাকা ছয় ক্রিকেটারকেও টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলের সঙ্গে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবেন নাঈম হাসান, মুশফিক হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন।

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে, তবে ম্যাচটি দুই দলের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি ও শক্তি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্কোয়াড

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকার মিরপুরের কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উন্নত জাতের মুরগির বাচ্চা (ডিওসি) উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

তিনি খামারের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি অনুপযোগী শেডগুলো দ্রুত সংস্কার এবং জনবল সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

আজ তিনি আকস্মিকভাবে কেন্দ্রীয় মুরগি খামার পরিদর্শন করেন এবং এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি খামারের বিভিন্ন শেড, হ্যাচারি, ফিড কারখানা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

উন্নত জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, বাচ্চা ও ডিম বিক্রি এবং মুরগির খাবার উৎপাদনসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেন, "উন্নয়নের জন্য যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি খামারের ব্যবস্থাপনা সুন্দর ও কার্যকর করার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, "এখান থেকে উৎপাদিত মুরগির বাচ্চা প্রান্তিক খামারিরা সংগ্রহ করে লালন-পালন ও বিক্রি করেন। ফলে বাচ্চার উৎপাদন যত বাড়বে, প্রান্তিক খামারিরাও তত বেশি লাভবান হবেন।" এর মাধ্যমে দেশের প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এ খামারে বাচ্চার উৎপাদন বাড়ানো গেলে বাজারে বাচ্চার সংকট ও অস্থিতিশীলতা কমাতে সহায়তা করবে।" এজন্য উন্নত জাতের বাচ্চা উৎপাদন ও প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে সরবরাহ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

পরিদর্শনের সময় কয়েকটি মুরগি ও বাচ্চা পালনের শেড ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেগুলো দ্রুত সংস্কারের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জনবল সংকট দূর করার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় তিনি কর্মচারীদের অফিসে যথাসময়ে উপস্থিতি এবং উপস্থিতির হার তদারকি করেন। খামারের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতিও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম, সহকারী পরিচালক (গোট ফার্মস) ডা. কবির উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সিপিডির সংলাপে বক্তারা

শিক্ষায় সমন্বিত আইন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠানের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


শিক্ষায় সমন্বিত আইন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠানের দাবি

শিক্ষায় সমন্বিত আইন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান করার দাবি

প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সব ধরনের শিক্ষাকে সমন্বিত করে একটি শিক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা খাতের বিশিষ্টজনরা।

শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সূচনা বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

আলোচনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য রাশেদা কে. চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা বক্তব্য দেন।

অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, "সবার জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।" শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তিনি আগামী শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, "শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।" একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, "মিড ডে মিল কার্যক্রমকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা ভালো উদ্যোগ।" বিশেষ করে এতে মায়েদের সম্পৃক্ত করা দরকার। শিক্ষার জন্য একটি স্থায়ী ও নির্দলীয় শিক্ষা সংস্কার কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, "শিক্ষায় কর ও ভ্যাটের বোঝা পরিহার করা উচিত।" সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রয়োজন।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই।" প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি জুলাইয়ের আহতদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার কোনো উদ্যোগ আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে।" শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র আইডি চালু করা, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বলেন, "শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে হবে।" কারিকুলামে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা শাখার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লাও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ বলেন, "শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সহজ নয়।" তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।

তিনি বলেন, "পার্বত্য জেলাগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি মিড ডে মিল চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।" বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভালো উদ্যোগগুলোও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষকদের পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান না করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, "দেশের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।" এ ক্ষেত্রে ইবতেদায়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব দখলের প্রবণতা রয়েছে।" সরকার নির্দলীয়ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে কাজ করতে চান তারা এবং জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শ্রেণিকক্ষে অনিয়ম না করলেই হয়।" শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বা তথ্য নেওয়া অপরাধ নয়; তবে তা যেন স্কুলের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশীয় মাছ উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে চলছে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


দেশীয় মাছ উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে চলছে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, সরকার সারাদেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় মাছ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আজ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণের অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এবং এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের জনগণও এসব কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছেন। এ সময় তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখা সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাষিদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আসবেন। খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।

মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয়ও কমছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে খামারিরা মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সেই লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এছাড়া, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনামাছের মধ্যে রয়েছে- ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস। এসব পোনামাছের আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। মোট প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।

ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা: মো: শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো: আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো: হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রোকনুজ্জামান-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%