ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোমের বিমানবন্দরে ২৮ কেজি রুপা জব্দ, বাংলাদেশি নাগরিক অভিযুক্ত


রোমের বিমানবন্দরে ২৮ কেজি রুপা জব্দ, বাংলাদেশি নাগরিক অভিযুক্ত

ইতালির রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে চারটি লাগেজের মধ্যে লুকানো ২৮ কেজি রুপা এবং মূল্যবান গয়না শুল্ক কর্মকর্তাদের দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। এই জব্দকৃত সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৩৬ হাজার ইউরোর বেশি। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ফিউমিসিনো (লিওনার্দো দা ভিঞ্চি) বিমানবন্দরে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ওই বাংলাদেশি নাগরিকের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

গোপন তথ্য এবং সন্দেহের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগ ‘ফিউমিসিনো গ্রুপ’এর কর্মকর্তারা যাত্রীর ওপর নজরদারি শুরু করেন। এ সময় ইতালির অর্থনৈতিক অপরাধ দমনকারী পুলিশ বাহিনী ‘গুয়ার্দিয়া দি ফিনানজা’র রোম প্রাদেশিক কমান্ডের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

প্রথমে ওই যাত্রীর বিমানে জমা দেওয়া চারটি লাগেজের এক্স-রে স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানিংয়ে অসংগতি ধরা পড়ার পর ব্যাগগুলো খুলে তল্লাশি করা হয়। এ সময় বিভিন্ন প্লাস্টিকের মোড়কে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ রুপা এবং মূল্যবান অলংকার উদ্ধার করেন কর্মকর্তারা।

গুয়ার্দিয়া দি ফিনানজার তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা রুপার বৈধ উৎস এবং সীমান্ত পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন ওই যাত্রী দেখাতে পারেননি।

এ ঘটনায় অবৈধভাবে পণ্য বহনের সন্দেহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।

জব্দ করা ২৮ কেজি রুপা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। উদ্ধার করা সামগ্রীর মোট আনুমানিক মূল্য ৩৬ হাজার ইউরোর বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ

দেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর বাড়তি নির্ভরতার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণের দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাসসম্পদ নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

জাতীয় গ্রিডের বাইরে থাকা ভোলার গ্যাস কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের তীব্র অপ্রতুলতা দেখা দেওয়ায় গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও প্রধানত সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে ভোলার পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভোলার গ্যাসের গুরুত্ব স্পষ্ট হয় দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সার্বিক হিসাবের দিকে তাকালে। জেলার শাহবাজপুর, ভোলা-নর্থ ও ইলিশা—এই তিনটি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৪৩২ থেকে ১ দশমিক ৪৩৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলনযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ। সেই হিসাবে দেশের মোট অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের প্রায় ১৯ শতাংশ বা প্রায় এক-পঞ্চমাংশই রয়েছে ভোলায়।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কূপ খনন, উৎপাদন পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই উত্তোলনযোগ্য মজুত সম্পর্কে আরও নিখুঁত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার নয়টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অব্যবহৃত থাকার তথ্য রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গ্যাসের মজুত থাকলেও তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা না থাকলে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।’

দেশের সামগ্রিক গ্যাস পরিস্থিতিও ভোলার সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ মোট সরবরাহের একটি বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর।

এলএনজি আমদানি স্বল্পমেয়াদে গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে সহায়তা করলেও এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং বর্তমানে অব্যবহৃত গ্যাসকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই বাস্তবতায় ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-বরিশাল গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সম্প্রতি ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। এ পাইপলাইন বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। খুলনা পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন অবকাঠামো তৈরি করা গেলে পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগের সুযোগও বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণে সময় ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে এর সুফল শুধু ভোলা বা বরিশালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খুলনা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গ্যাসনির্ভর প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমানো এবং আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা হ্রাসের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস নেওয়াই অবশ্য একমাত্র সম্ভাবনা নয়। ভোলায় উৎপাদিত গ্যাস স্থানীয়ভাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সেখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প, শিল্পপার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভোলায় গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, নদীবন্দর, বিদ্যুৎ, পানি, আবাসন ও দক্ষ জনশক্তির অবকাঠামো গড়ে উঠলে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

ভোলায় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ ও ইলিশা-১ কূপ থেকে অতিরিক্ত ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রসেস প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এর পাশাপাশি ভোলায় আরও পাঁচটি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কূপ খনন সফল হলে ভবিষ্যতে ভোলার গ্যাস উৎপাদন আরও বাড়তে পারে। ফলে শুধু বিদ্যমান গ্যাস ব্যবহারের ব্যবস্থা করাই নয়, ভবিষ্যৎ উৎপাদন বিবেচনায় নিয়েও সঞ্চালন অবকাঠামো পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

ভোলার গ্যাসের সম্ভাবনা শুধু বর্তমানে চিহ্নিত মজুতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাপেক্স ও রাশিয়ার গ্যাসপ্রমের অনুসন্ধানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে চরফ্যাশনসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ গ্যাসসম্পদের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ভোলার গ্যাসের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও সরাসরি যুক্ত। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক সময় সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হতে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, ভোলার গ্যাস ব্যবহার, মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, ‘ভোলার গ্যাসের অর্থনৈতিক মূল্য শুধু কত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে, তা দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। গ্যাসটি কোথায় ব্যবহার করলে দেশের অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। বিদ্যুৎ, সার, শিল্পকারখানা এবং জাতীয় গ্রিড, সবগুলো বিকল্পের ব্যয় ও সুফল তুলনা করে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস নিয়ে বড় বিনিয়োগের আগে গ্যাসের প্রকৃত উত্তোলনযোগ্য মজুত নির্ধারণ করা জরুরি। কোনো গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাব্য মজুত এবং বাস্তবে অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস এক বিষয় নয়। অনুসন্ধান, কূপ খনন, উৎপাদন পরীক্ষা এবং সময়ের সঙ্গে কূপের চাপ ও উৎপাদন ক্ষমতা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে হয়।

ভোলার শিল্পোদ্যোক্তারাও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকে শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছেন। ভোলার মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলসের স্বত্বাধিকারী এবং ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভোলায় শিল্প স্থাপনের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ, সড়ক, নদীবন্দর, যোগাযোগ ও শিল্প অবকাঠামোও একসঙ্গে উন্নত করতে হবে। শুধু গ্যাস থাকলেই বড় শিল্পায়ন সম্ভব নয়।’

সরকারের সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিকল্পনাতেও ভোলার গ্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। তিনি ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এবং বাপেক্সের ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ এগিয়ে চলার কথা জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোলার গ্যাসের ক্ষেত্রে কোনো একটি ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। জাতীয় গ্রিডে কতটা গ্যাস যাবে, স্থানীয় শিল্পে কতটা ব্যবহার হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কতটা দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কতটা সক্ষমতা রাখা হবে, এসব বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় থাকা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান, নদী ও উপকূলীয় পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিল্প ও গ্যাস অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নতুন শিল্পায়নের ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও পরিকল্পনায় থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে, এলএনজি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে, এই বাস্তবতায় ভোলার গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বর্তমানে যে গ্যাস অবকাঠামোর অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তা দ্রুত কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা গেলে নতুন কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আগেই দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সরবরাহ যোগ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোলার প্রায় ১ দশমিক ৪৩৩ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাস দেশের অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ। একইসঙ্গে নতুন অনুসন্ধানে আরও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে ভোলাকে শুধু একটি আঞ্চলিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে না দেখে জাতীয় জ্বালানি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে অনুসন্ধান, উৎপাদন, প্রসেসিং, সঞ্চালন, শিল্পায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির ১০ নম্বর জার্সি অবসরে নেবে না আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


মেসির ১০ নম্বর জার্সি অবসরে নেবে না আর্জেন্টিনা

৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচ উপলক্ষে ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে বিশেষ আয়োজন করা হলেও, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ীভাবে এই নম্বরটি অবসরে পাঠানোর অনুমতি নেই আর্জেন্টিনার।

আর্জেন্টিনা যদি চায়, তবে লিওনেল মেসির সম্মানে জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সিটি সাময়িকভাবে তুলে রাখতে পারে, কিন্তু এটি স্থায়ীভাবে অবসরে পাঠানো সম্ভব নয়। কারণ, বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা এবং ফিফার স্বীকৃত অন্যান্য প্রতিযোগিতায় দলের জার্সি নম্বর ১ থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহার করতে হয়; এর মধ্যে কোনো নম্বর বাদ রাখা যাবে না। এই একই কারণে, পর্তুগালের রাফায়েল লিয়াও বা অন্য কাউকে ৭ নম্বর জার্সি পরতে হয়েছে, কারণ রোনালদো উপস্থিত ছিলেন না।

ফিফার এই নিয়মের কারণে ২০০২ বিশ্বকাপের আগে দিয়েগো ম্যারাডোনার সম্মানে ১০ নম্বর জার্সি অবসরে নেওয়ার আর্জেন্টিনার উদ্যোগও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওই সময় ১০ নম্বর জার্সিটি পরেছিলেন ওরটেগা।

তবে প্রীতি ম্যাচের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাধীনতা রয়েছে। তাই ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচের পর অ-প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে আর্জেন্টিনা চাইলে ১০ নম্বর জার্সি কাউকে না-ও দিতে পারে। মেসির শেষ ম্যাচের জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ স্মারক জার্সি প্রস্তুতের খবর পাওয়া গেছে, এবং ম্যাচটির টিকিটের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে ২০২৭ সাল থেকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১০ নম্বর জার্সি কাউকে পরতেই হবে। ফলে ম্যারাডোনা এবং মেসির উত্তরসূরি হিসেবে কে এই ঐতিহাসিক নম্বরটি পাবেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনায় ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রাড্ডায় ভাঙচুর

মিরপুরে ভাঙচুরের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহসভাপতি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


মিরপুরে ভাঙচুরের ঘটনায় জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহসভাপতি গ্রেফতার

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে মধ্যরাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লাকে (৩৬) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খাঁন।

তিনি জানিয়েছেন, রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানা গেছে, গ্রেফতার সাজ্জাদ হোসেন মিশু মোল্লা শাহআলী থানা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার দলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

এর আগে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম পৌঁছেছে

কড়া নিরাপত্তার পরিবেশে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহর রূপপুরে পৌঁছেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে আনা জ্বালানির গাড়িবহর নাটোর-কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক ব্যবহার করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে।

এ সময় প্রকল্প পরিচালক ড. জাহেদুল হাছানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ কনভয়গুলোকে স্বাগত জানান।

প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকসহ শ্রমিক-কর্মকর্তারা গাড়িবহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে এসআরবি, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ছিলেন।

ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আসার সময় মহাসড়কে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ছিল। নিরাপত্তার কারণে বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তার আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%