রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে উঠে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন শুনানির জন্য আদালত আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা খান, আইনজীবী আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। তারা আদালতকে জানান, মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, কিশোরের নাম মামলার এজাহারে নেই। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ৯ লাখ টাকা দেওয়ার কথাও আদালতকে জানান তারা।
আইনজীবীরা আরও বলেন, কিশোর শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। সে গাড়ির হর্ন দিয়েছিল, কিন্তু নিহত ব্যক্তি তা শুনতে পাননি। এই বিবেচনায় তারা জামিনের আবেদন করেন।
বিচারক জবাবে বলেন, মামলাটির বিষয়ে ব্যাপক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মামলায় যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এটি জামিন অযোগ্য মামলা।
এ সময় আইনজীবীরা কিশোরের বিবেচনায় জামিন দেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং পরিবার আদালতে উপস্থিত রয়েছে। জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
পরে বিচারক নিহত মেহেদী হাসান মিমের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তার বড় ভাই, বাবা ও মামা আদালতে উপস্থিত হয়ে কাঠগড়ার সামনে দাঁড়ান।
বিচারক বলেন, ঘটনাটি গুরুতর। একটি সমাজ এ মামলায় ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলাটির ব্যাপক গণমাধ্যম কাভারেজ হওয়ায় আদালতকে সব দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে।
পরে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আগামী বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির দিন ধার্যের অনুরোধ করেন। এরপর আইনজীবীরা আগামী রবিবার অধিকতর জামিন শুনানির দিন ধার্যের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৪ অক্টোবর অধিকতর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান-১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই ট্রাইব্যুনাল।
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে গুলশান থানার বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানায়, দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। সেখানে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম গাড়ির চাপায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর গাড়িটি সড়কবাতির একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটিকে দ্রুতগতিতে ফুটপাতে উঠে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসন থেকে এক কিশোর বের হয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন।
মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আজান আলী শারীফ গাড়িটি চালাচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে বলে পুলিশ জানায়। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষকদের সরকারি দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধেরও দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, বিশেষ করে ময়মনসিংহের ভালুকায়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন রেজার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, জাতীয় কৃষক-খেতমজুর সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সহসাধারণ সম্পাদক নিখিল দাস, বাংলাদেশ কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সদস্য রাজু আহমেদ, কৃষক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জগলুল পাশা এবং ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কৃষকদের সার সংকট নিয়েও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ধানের গত মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে সারের সংকট নেই, কৃষকরা সরকারি দামে বাজারে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। অনেক কৃষক বেশি দাম দিয়েও সার কিনতে না পারায় তাদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কৃষকদের সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বর্তমান সরকারও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দিয়েছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব প্রকল্পের জন্য সাধারণ কৃষকের উর্বর ফসলি জমি দখলের চেষ্টা চলছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এলাকায় প্রায় ১৭০ একর জমি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জোর করে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে কৃষি কর্মকর্তা আপত্তি জানালেও পরে চাপের মুখে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও নেতৃবৃন্দ কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য আরো বাড়বে। অথচ ক্ষেতমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ বর্তমান আয় দিয়ে তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে সব ক্ষেতমজুর পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং বর্গাচাষীদের জন্য কৃষি কার্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে জানানো হয়, কৃষিজমি নষ্ট করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বাতিল, কৃষকদের সরকারি দরে সার সরবরাহ এবং ক্ষেতমজুরসহ দরিদ্র মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার সময় পুলিশ মো. নাসিমুল ইসলাম নামের একজন নিষিদ্ধ কার্যক্রমের আওতাধীন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই গ্রেপ্তারটি ঘটে।
গ্রেপ্তার হওয়া নাসিমুল ইসলাম রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ভগবন্তপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পুত্র। তিনি গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পুলিশের ইনচার্জ তুহিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নাসিমুল ইসলাম মেডিকেল ভিসার মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে উপস্থিত হন। এ সময় তার পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাইয়ের পর আইনি জটিলতার তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। পরে গোদাগাড়ী থানায় যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘গোদাগাড়ী থানায় মামলা থাকার কারণে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট থেকে নাসিমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন টেম্বা বাভুমা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক অধিনায়ক হিসেবে শতক হাঁকানোর একটি অনন্য নজির গড়েছেন।
নিউজ আঠেরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচে এই রেকর্ডটি গড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ম্যাচে তিনি ১০৩ রানের একটি অনবদ্য এবং দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন।
বাভুমার বয়স সেঞ্চুরি করার সময় ছিল ৩৬ বছর ১৩৩ দিন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি দেশের সাবেক সফল অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের রেকর্ড ভেঙে দেন। ডু প্লেসিস এর আগে ৩৪ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে অধিনায়ক হিসেবে ওডিআইতে শতক হাঁকিয়ে এই রেকর্ডটি অর্জন করেছিলেন।
ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাভুমার ১০০ রানের গণ্ডি পেরোতে ১১২ বলের প্রয়োজন হয়েছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার এখন দুটি ওডিআই সেঞ্চুরি রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অধিনায়ক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেবল ডু প্লেসিস (৩) তার চেয়ে বেশি ওডিআই সেঞ্চুরি করেছেন।
বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের খুররাম খানের দখলে রয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০শে নভেম্বর দুবাইতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৮ বলে অপরাজিত ১৩২ রান করার সময় খুররাম খানের বয়স ছিল ৪৩ বছর এবং ১৬২ দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী মারা যাওয়ার পর, বেঙ্গালুরুর একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপির বকেয়া বিলের অজুহাতে আট দিন ধরে তার মরদেহ আটকে রাখে এবং স্ত্রীর পাসপোর্ট রেখে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন ২৬ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নারী। শনিবার, বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাহায্য চাওয়ার পর তিনি স্বামীর মরদেহ ফেরত পান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ওই নারীর অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হাসপাতাল জানায়, গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই রোগীকে উন্নত আইসিইউ সেবা ও অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি মারা যান।
বাংলাদেশের নওগাঁর বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী তানজিলা ইসলাম আশা ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে জানান, কিডনির চিকিৎসার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি ও তার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজ (৩২) বেঙ্গালুরু আসেন। সবুজ বাংলাদেশে চুক্তিভিত্তিক সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরদিন, তীব্র বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে ওল্ড এয়ারপোর্ট রোডের মানিপাল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
আশা জানান, পরবর্তী দিনগুলোতে সবুজের বেশ কয়েকটি চিকিৎসা পদ্ধতি ও অস্ত্রোপচার করা হয়। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর তার ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
"চিকিৎসাকালীন সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখনই টাকা চেয়েছে, আমি কয়েকটি কিস্তিতে মোট সাড়ে ৭ লাখ রুপি পরিশোধ করেছি। তার মৃত্যুর পর মরদেহ কীভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাব তা নিয়ে যখন ভাবছিলাম, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৩৫ লাখ ৭৯ হাজার রুপি দাবি করে এবং জানায় যে এই বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত মরদেহ ছাড়া হবে না," জানান আশা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আগে কোনো আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব দেয়নি, এত বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণ ব্যাখ্যা করেনি এবং পূর্বে পরিশোধ করা সাড়ে ৭ লাখ রুপির কোনো রসিদও দেয়নি। "আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। তারা আট দিন ধরে মরদেহ আটকে রাখার পাশাপাশি আমার পাসপোর্ট রেখে দেওয়ার পর আমি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিই এবং সহায়তার জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করি। অবশেষে বকেয়া বিল সম্পূর্ণ মওকুফ করে শনিবার তারা মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে," বলেন তিনি।
সবুজের পশ্চিমবঙ্গের বন্ধু মোহাম্মদ মুক্তাদির হোসেন, যিনি এই পরিস্থিতির কথা শুনে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন, জানান যে স্থানীয় সামাজিক কর্মীদের সহায়তায় আশা শুক্রবার তার পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, "পূর্বে পরিশোধ করা সাগে ৭ লাখ রুপি ছাড়া তাকে আর বাড়তি কোনো অর্থ দিতে হয়নি।"
যোগাযোগ করা হলে মানিপাল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা শনিবার মরদেহ হস্তান্তরের কথা নিশ্চিত করলেও আশার তোলা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে হাসপাতাল জানায়, সবুজ গুরুতর শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনস্বল্পতা (হাইপক্সিয়া) নিয়ে হাসপাতালে আসেন এবং তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার হৃদরোগের আক্রমণ (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হলে দু'বার তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেট) করা হয় এবং পরবর্তীতে একমো ও ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়।
বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রক্তনালীতে জমাট বাঁধা রক্ত ও বাধা শনাক্ত হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসকরা ‘পালমোনারি থ্রম্বোএন্ডারটেরেক্টোমি’ নামক একটি জটিল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও সার্জিক্যাল টিমের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোগী ১৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ