১১:৫১ এম
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারতীয় টুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য। গতকাল রবিবার এই কার্যক্রম চালুর পর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত চেকপোস্টে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীদের স্বজনেরা এই প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই ধরনের স্বস্তির আমেজ নজরে এসেছে নদীয়া জেলার গেদে স্থল সীমান্তেও।
একটি সময়ে দিনে কয়েক হাজার বাংলাদেশি পর্যটক ভারতীয় ভূখণ্ডে আসতেন। কিন্তু গত দুই বছরে শুধুমাত্র মেডিকেল ভিসা চালু থাকায় এই সংখ্যা কয়েকগুণ কমে গিয়েছিল। হিলি এবং গেদে এই দুই সীমান্তের ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন। ব্যবসায় মন্দার কারণে অনেককে বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিতে হয়।
এবার পুনরায় টুরিস্ট ভিসা চালুর সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন যে বাংলাদেশ থেকে পর্যটক আসার সংখ্যা বাড়বে, সেইসাথে উভয় সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য এবং ব্যবসার উন্নতি ঘটবে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
ভারতের হিলি সীমান্তের ব্যবসায়ী অংশুমান সাহা জানান, ‘টুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, ব্যবসার পরিস্থিতির আগের থেকে অনেকটাই ভালো হবে। আগে প্রতিদিন অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে আসান যায়। বিগত দুই বছর ধরে ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা দিচ্ছিল। যার কারণে এই সংখ্যা কমে এসেছিল মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ এর মধ্যে। আমি প্রত্যাশা করছি, এর ফলে আমাদের জেলার সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য আবার উন্নতি ঘটবে।’
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে ভারতে চিকিৎসা করতে আসা সাদিয়া নামে এক বাংলাদেশি তরুণী বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে যথেষ্ট ভালো লাগার বিষয়। কারণ, আমরা দীর্ঘ দুই বছর পর টুরিস্ট ভিসা চালু হতে চলেছে। আমি নিজেও মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য প্রবেশ করেছিলাম। বেঙ্গালোরে চিকিৎসা করিয়ে এবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আশা করছি, সামনের বার যখন আসবো, তখন মেডিকেল ভিসা নয়, সরাসরি ট্রাভেল ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারব।’
বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের মালিক দীনবন্ধু হালদার জানান, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এই স্থল বন্দরের উন্নতি হবে। কারণ গত দুই বছর ধরে এটা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া ভিসা কম হওয়ার কারণে চিকিৎসা পরিষেবা থেকেও বাংলাদেশিরা বঞ্চিত হচ্ছিল। টুরিস্ট ভিসা চালু হলো, আশা করা হচ্ছে অন্য ভিসা চালু হবে।’
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন