ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া


বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে আরো বড় ভূমিকা রাখতে চায় কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি (কোটরা)। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, স্মার্ট সিটি সমাধান এবং কোরীয় প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগানোর ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

ঢাকায় কোটরার উপপরিচালক লি সাং-হুন (ড্যানিয়েল লি) বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো ও নতুন শহর উন্নয়ন প্রকল্পে কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে কোটরা কাজ করছে।

গত মার্চে বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়নে সহায়ক ছয়টি অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কোটরা প্রায় ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারের একটি সরকারের উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) প্রকল্প চালু করেছে। আগামী তিন বছর এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলবে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

লি বলেন, কোরিয়ার অর্থনৈতিক উদ্ভাবন অংশীদারত্ব কর্মসূচির (ইআইপিপি) আওতায় ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনের (এনএসইজেড) স্মার্ট সিটি উন্নয়নের জন্য পানি সরবরাহ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ই-লজিস্টিকস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো, স্মার্ট সিটি, পরিবহন, রেলপথ, বন্দর, পানি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সহ উদীয়মান খাতে বাংলাদেশে কোরীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে কোটরার ভূমিকা আরো বাড়ছে।

‘আমরা কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করি’Ñ এই মন্তব্য করেন লি। তিনি বলেন, কোরীয় কোম্পানির জন্য ক্রেতা খুঁজে বের করা, ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন, অবকাঠামো ও আইসিটি প্রকল্পের দরপত্রে অংশগ্রহণে সহায়তা ও বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরামর্শ দেয় কোটরা।

কোটরা এখনো বাংলাদেশে নিজস্ব কার্যালয় নেইÑ এমন কোরীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের বাজার পরিচালনার উদ্দেশ্যে শাখা কার্যালয় সেবাও দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

সম্প্রতি নেওয়া একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে লি বলেন, জুনে কোটরা ঢাকা এবং ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস যৌথভাবে অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি প্রদর্শনী ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রায় ৪০টি কোরীয় কোম্পানি এবং বাংলাদেশের ২২টি সরকারি সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

উক্ত আয়োজনে পরিবহন, বিদ্যুৎ, পানি, স্মার্ট সিটি, ডিজিটাল সরকারব্যবস্থা, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং তৈরি পোশাক খাতে বিধিবিধান মেনে চলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

লি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে কোরিয়ার প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও বিনিয়োগ সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো।

তিনি জানান, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও সবুজ প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন শহর উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) উদ্যোগ নিয়েও কোটরা কাজ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগরায়নে কোরিয়ার বৃহত্তর আগ্রহের প্রতিফলন ঘটছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

বাংলাদেশে কোটরার কার্যক্রমের শিকড় তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেন লি। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৮ সালে কোরিয়ার দেউ কর্পোরেশন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি পোশাক খাতে প্রবেশ করে।

তখন বাংলাদেশের শ্রমিকরা কোরিয়ার উৎপাদনকেন্দ্রে গিয়ে সেলাইয়ের কৌশল ও কারখানা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরে দেশে ফিরে তারা অর্জিত জ্ঞান স্থানীয় শিল্পে ছড়িয়ে দেন।

লির ভাষায়, এটিই ‘কোরিয়া এবং কোটরার বাংলাদেশে রেখে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার’। তার মতে, জ্ঞান এবং দক্ষতা হস্তান্তরের ওই প্রক্রিয়া বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেশটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার পথ তৈরি করে।

পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাক খাতে কোরীয় বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পায়। ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনও যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করে এবং বাংলাদেশকে বড় ধরনের পোশাক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখে।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

চট্টগ্রামের কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) কথাও উল্লেখ করেন লি। তিনি বলেন, প্রায় ৯৯২ হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল একটি স্থায়ী শুল্কমুক্ত শিল্পাঞ্চল।

‘বাংলাদেশে নিজ নামে একটি বিশেষ শিল্পাঞ্চল রয়েছে, এমন একমাত্র দেশ কোরিয়া’Ñ এই মন্তব্য করেন লি। তার মতে, কেইপিজেড দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোটরার কার্যক্রম ভোক্তা পণ্য, সরকারি ক্রয়, সড়ক, পরিবহন, রেলপথ, বন্দর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রকল্প এবং সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ)-সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন উদ্যোগসহ বিস্তৃত খাতে ছড়িয়ে পড়েছে।

লি বলেন, ব্যবসার সুযোগ চিহ্নিত করা, বাংলাদেশি ক্রেতা ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন, স্থানীয় প্রদর্শনীতে কোরীয় প্যাভিলিয়ন পরিচালনা এবং বাংলাদেশে বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোরীয় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করে কোটরা।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

গত জুনে যমুনা ফিউচার পার্কে অনুষ্ঠিত ‘কে-গুডস ফিয়েস্তা ২০২৬’-এর উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ওই আয়োজনের মাধ্যমে কোরিয়ার ভোক্তা পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের ভোক্তা, আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পরিচিত করা হয়।

বাংলাদেশে কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার পরিমাণ কয়েকশ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্রমপুঞ্জীভূত বিনিয়োগ এবং শতাধিক কোরীয় কোম্পানির কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে জানান লি।

তবে তার মতে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল্যায়ন শুধু বিনিয়োগের অঙ্ক দিয়ে করা উচিত নয়।

লি বলেন, ‘আমরা বরং এটিকে বেশি মূল্য দিই যে, কোরিয়া এই দেশে একটি পুরো শিল্পের ভিত্তি গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে এবং আজও আমরা প্রতিবছর নতুন নতুন খাতে একই কাজ করে চলেছি।’

আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং কোরীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ তৈরিতে কোটরা কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে অবকাঠামো, নতুন শহর উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রকল্পকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ১,৩৬০ বস্তা সিমেন্ট, গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


মিয়ানমারে পাচার হচ্ছিল ১,৩৬০ বস্তা সিমেন্ট, গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মিয়ানমারে পাচারের সময় ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সিমেন্টসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড।

এ সময় গ্রেপ্তারদের ব্যবহৃত একটি বাল্কহেডও জব্দ করা হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার মৌলভীচরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মো. আবু তাহের (৫৭), ভোলা সদর উপজেলার মো. আলাউদ্দিন (৪২) ও একই এলাকার মো. নিরব (৩৫)।

কোস্টগার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন বাল্কহেডটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় বাল্কহেড থেকে ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, আটক তিনজনকে হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


নাটোরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে প্রণোদনা প্রদান

নাটোর, ১২ আগস্ট ২০২৬ : জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায় আজ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের প্রণোদনা পাঁচশ’ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আজ নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্র্তা মো. আল এমরান খাঁন কৃষকদের নিকট প্রণোদনা হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সবুজ আলী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রকিবুল হাসান, নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম খলিল, এবং নলডাঙ্গা পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এম এ হাফিজ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সবুজ আলী জানান, শীতকালীন পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে গ্রীষ্মকালীন আগাম এই পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে প্রত্যেক কৃষককে জনপ্রতি এক কেজি বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার এবং এক কেজি কীটনাশক ও পলিথিন প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। বুধবার ইসি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনকে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে।

১৯৯১ সালের পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও প্রার্থী দিয়েছে। এ জোট সাবেক বিএনপি নেতা ও মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ইতোমধ্যে বিএনপি দুটি এবং ১১ দলীয় জোট একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। পূরণ করা মনোনয়নপত্র বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনী কর্তার দপ্তরে জমা দিতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় মোট ভোটার ৩৪৯ জন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন।

তিনি জানান, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই গণনা করা হবে। পরে ফলাফল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

ইসি সচিব আরও জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধভাবে জমা পড়েছে এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা গণনার পর নির্বাচনি কর্তা হিসেবে সিইসি ফলাফল ঘোষণা করবেন।

গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এবার বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থী দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

সরকার দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে, সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

এ বিষয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলো অনুমোদন করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে। ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকেও দুই কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে কিনতে হবে।

এছাড়া, হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ও এগুলোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার থেকে সরকার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি কিনতে হবে। এগুলো জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউ শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার जोड़ করে কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয় যে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%