বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৭ পি.এম
মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি নজিরবিহীন মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি একজন প্রবীণ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট, এবং স্টিভ ব্যানন, যিনি ডানপন্থী 'মেগা (MAGA)' আন্দোলনের মূল কারিগর, উভয়েই টেক বিলিয়নেয়ারদের তীব্র সমালোচনা করে এআই-এর ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে অলাভজনক সংস্থা 'ফিউচার অব লাইফ ইনস্টিটিউট' দ্বারা আয়োজিত 'প্রো-হিউম্যান অ্যাসেম্বলি' সম্মেলনে এই দুই বিপরীতমুখী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক মঞ্চে বক্তব্য প্রদান করেন। উভয় নেতা সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেক জায়ান্টগুলোর একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা যখন খাদের দিকে এগিয়ে যাই, তখন ব্রেকে চাপ দিতে হয়। আমরা বিশ্ব ইতিহাসের এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অভূতপূর্ব মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি।" তিনি এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ বন্ধে একটি বিল উপস্থাপন করেছেন এবং সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই নিষিদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক চুক্তির তাগিদ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্টিভ ব্যানন কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, "আমেরিকান জনগণ আর এই টেক অলিগার্কদের করুণার পাত্র হয়ে থাকবে না।" তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে এই সংকটের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে তাদের এক হতে হয়েছে।
সম্মেলনে খ্রিস্টান ও ধর্মীয় নেতা, লেখক, প্রযুক্তিবিদ এবং ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান ভয় পাচ্ছেন এআই মানব সম্পর্ককে দুর্বল করে দেবে, এবং ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধী।
আইনপ্রণেতারা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এআই-এর ওপর স্পষ্ট নীতিমালা জারি করা জরুরি, কারণ এই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্ষতি হবে সমগ্র মানবজাতির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বুধবার মক্কার ওপর সংঘটিত ন্যক্কারজনক ও জঘন্য হামলার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে শাহবাজ শরীফ উল্লেখ করেন, ‘এই ন্যক্কারজনক ও জঘন্য ঘটনায় পাকিস্তানের জনগণ গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।’
তবে হুথিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র নগরী মক্কায় হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ পঞ্চগড় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবির উজ্জলকে আটক করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের ঢাকাইয়াপট্রি এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে সদর থানার পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন।
এটি জানা গেছে যে, এস এম হুমায়ুন কবির উজ্জলের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে নিখোঁজ আল আমিনকে নিয়ে একটি মামলা, ছাত্রদের উপর হামলা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের পাঁচ দিন পর গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে ক্লোজ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে দাউদ হোসেনকে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত (ক্লোজ) করা হলো।
ডিএমপির মিডিয়া উইং থেকে বুধবার জানানো হয়েছে, ওই কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কারণে ক্লোজ করা হয়েছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। মিছিল থেকে দুজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুর রহিম ও আরাফাত।
জানা গেছে, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৫০ থেকে ২০০ নেতা কর্মী জড়ো হন। তারা মিছিল শুরু করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছুড়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এরকম একটা কিছু করতে পারে।
গুলশানে মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, দিনে বেলা ১১টার দিকে জুমার নামাজ আদায়ের কথা বলে সেখানে কিছু লোক জড়ো হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে একটি বড় ইলিশ, যার ওজন ২ কেজি ১০০ গ্রাম। মাছটি নিলামে ৭ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়। পরে কুয়াকাটা মা মনি ফিসের ম্যানেজার মিজান মাছটি নিলামে কিনে নেন।
জেলে সোহরাফ গাজী জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শেষ বিকালে বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দরসংলগ্ন পাইপ বয়ার গভীরে মাছটি ধরা পড়ে। তিনি বলেন, "বঙ্গোপসাগরের গভীরে গিয়ে ১০ বছর ধরে ইলিশ মাছ ধরি। এতবড় ইলিশ এই প্রথমবারের মতো পেলাম। জাল তুলতেই অন্যান্য মাছের সঙ্গে এই ইলিশটিও উঠে আসে।"
তিনি আরও জানান, নিলামে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে প্রতি কেজি ৭ হাজার ২০০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয়েছে। সোহরাফ গাজী বলেন, "সচরাচর জেলেদের জালে এত বড় ইলিশ পাওয়া যায় না। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুবই খুশি।"
মাছটি কিনে নেওয়া কুয়াকাটা মা মনি ফিসের ম্যানেজার মিজান বলেন, "এত বড় মাছ এই বাজারে এখন খুব কম দেখা যায়। নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছি। এটি শরীয়তপুরের এক প্রবাসী ভাইয়ের বাসায় পাঠাব। এ ধরনের মাছ পাওয়া গেলে আড়তদারসহ জেলেরা সবাই লাভবান হতে পারি।"
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামি মন্তব্য করেন, "৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। আগে বছরে অন্তত একবার ঘরে ইলিশ উঠত, এখন সেটাও স্বপ্ন হয়ে গেছে।"
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, "ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে মাছের অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং সহব্যবস্থাপনা কমিটির অভাবে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে। পাশাপাশি পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু ও লবণাক্ততার পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।" তিনি জানান, এসব কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, "এটি অত্যন্ত ভালো খবর এবং নিষেধাজ্ঞার সুফলও বলা যায়। বড় ইলিশে ফ্যাট বেশি থাকায় এতে ওমেগা-৩ ও ভিটামিন থাকে, যা হৃদরোগ, চোখের সমস্যা ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। জালের প্রশস্ততা বাড়ালে এ ধরনের বড় মাছ আরও বেশি ধরা পড়বে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ