আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
০৯:১০ পি.এম
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উত্তর বাউরিয়া উপকূলীয় এলাকায় জাতীয় গ্রিডের সাবমেরিন বিদ্যুৎ ক্যাবলের একটি অংশ আবারও উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা জিও ব্যাগ জোয়ারের তীব্র স্রোতে সরে যাওয়ায় নতুন করে আরও প্রায় ৩০ ফুট ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
ফলে, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে উত্তর বাউরিয়া সাগরতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙনের কারণে সাবমেরিন ক্যাবলের একটি অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তবে, দেড় মাস পর জোয়ারের তীব্র স্রোতে জিও ব্যাগগুলোর বেশির ভাগই স্থানচ্যুত হয়ে গেছে।
এছাড়া, জিও ব্যাগ ফেলা স্থানের পশ্চিম পাশে খালের প্রবল পানির স্রোতে আরও প্রায় ৩০ ফুট সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীপথে চলাচলকারী বাল্কহেড, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানের প্রপেলারের আঘাতে ক্যাবল ছিঁড়ে যেতে পারে।
এতে একদিকে যেমন সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নৌযানে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
দুটি কেবল দিয়ে ২০১৮ সাল থেকে দ্বীপটিতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।
তবে, প্রাথমিকভাবে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
দুটি ক্যাবলের স্থায়ীত্বকাল ৫০ বছর।
ক্যাবল দুটি বিকল হলে, সন্দ্বীপে বসবাস করা প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের মতে, স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ ও ক্যাবল সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবমেরিন ক্যাবলের তারগুলো মাটি থেকে উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
সাধারণ মানুষ ক্যাবলের ওপরে বসে ছবি তুলছেন ও টিকটক বানাচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পিডিবি চট্টগ্রামের (বিতরণ দক্ষিণ) প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, 'ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি পক্ষের সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।'
স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পাউবোকে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও অবহিত করা হয়েছে।
তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে বলে জানালেও, এখনো আসেননি।
সন্দ্বীপ পিডিপির দায়িত্বরত এক্সিয়েন তানভীর হোসেন বলেছেন, জিওব্যাগ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলগুলোকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে জিওব্যাগগুলো সরে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সন্দ্বীপ উপজেলাকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিদ্যুতের সংকট কাটিয়ে দ্বীপাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টটি অনুমাননির্ভর বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনটি তিনি এখনো পড়েননি। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কারণ পর্যবেক্ষণের অভাবে অনুমান ভিত্তিক হওয়ায় সরকার সেগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে 'বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫'-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে আল কায়েদা নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয়ে জানানো হয়, তিনি বলেন, “আমি শুনেছি, রিপোর্টটা পড়িনি। সেখানে তারা হয়তো কিছু অবজারভেশন দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারব না। তবে আমি যতটুকু শুনেছি, তারা একটি অ্যাজিউম করেছে। অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তাই অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।” বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকারের গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ এই বিষয়ে উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। তিনি জানান, “বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।”
মন্ত্রী গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় এবং বর্তমান সরকার টেকসই এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সংকট উত্তরণের জন্য কাজ করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনের পর সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব টার্মিনালের স্থান নির্বাচনে বর্তমানে জরিপ কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আমদানিনির্ভরতাকে কমাতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
জানতে চাইলে যে তাকে অন্য কোনো দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, সেসব গুঞ্জনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমিও গুঞ্জন শুনছি।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিল সিমন্স সিরিজ জয় নিয়ে উজ্জীবিত হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতে থামতে চান না।
বাংলাদেশের কোচ সিমন্স জয়ের পর ড্রেসিংরুমে নিজেদের ইচ্ছার কথা জানান।
ডারউইনে ৯ উইকেটের জয় পাওয়ার পর ফ্রেমবন্দি করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিমন্স শিষ্যদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘তোমরা যে কঠোর পরিশ্রম করেছ, এই সাফল্য তাই তোমাদের প্রাপ্য। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।
দারুণ করেছ। ইতিহাস গড়া মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য তোমাদের অভিনন্দন, বিশেষ করে বোলিং গ্রুপকে। ব্যাটিংয়েও দারুণ করেছ। অসাধারণ, খুব ভালো করেছ।’
ম্যাকাই টেস্ট জিতে সিরিজ জয়ের কথা জানিয়েছেন সিমন্স। ৬৩ বছর বয়সী সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার সিমন্স বলেন, ‘আমরা এখানে শুধু একটি টেস্টের জন্য আসিনি, আমরা দুটি টেস্টের জন্য এসেছি। এখন একটি ম্যাচ শেষ হয়েছে, সামনে আমাদের আরো একটি ম্যাচ আছে।’
সিরিজ জিততে শিষ্যদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শও দিয়েছেন সিমন্স। তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয় মুশফিক যে কথাটি বলেছেন, সেটিই দলটির সফলতার ধারা শুরু করতে সহায়তা করবে। এটি আমাদের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আজ আবেগ অনেক ওপরে উঠবে, কিন্তু সেটিকে খুব বেশি বাড়তে দেওয়া যাবে না। সিরিজ জিততে এখনো আরেকটি ম্যাচ বাকি। লক্ষ্যের প্রথম ধাপে আমরা সফল হয়েছি।’
এর আগে সিরিজ জয়ের কথা জানান মেহেদী হাসান মিরাজ। অফস্পিনার বলেন, ‘অবশ্যই আমরা সেভাবেই ভাবছি (সিরিজ জেতার কথা) এবং যে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছি, সেটিতেই মনোযোগ ধরে রাখতে চাই। প্রথম ম্যাচ জেতার পর আমাদের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে টেস্ট ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। এই মুহূর্তে আমরা এই ছন্দটা ধরে রাখতে চাই।’
ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
এই নতুন আইন অনুযায়ী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবকে বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে বিশেষায়িত একটি ইউনিট গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে একসঙ্গে এই অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্তির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া, নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জানানো হয়েছে, র্যাব-সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদের এসআরবি-এর কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
সঙ্গে, নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজন সহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন সময়কাল পর্যন্ত অর্থবছর হিসাব করা হয়ে থাকে, তবে ভবিষ্যতে এটি ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ সময়কাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে। এই পরিবর্তনের আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছর অন্তর্বর্তী বা ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এটি নয় মাসে সম্পন্ন হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের। অর্থাৎ, এই সময়কাল ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এরপর, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত কার্যকর হবে।
সোমবার রাতে এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের যুক্তি হলো, বর্তমানে জুলাই-অগস্ট মাসের বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকায় কাজের দীর্ঘায়িত হওয়া, গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে, বর্ষার আগেই উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাই ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ সময়কাল নির্ধারণকে যুক্তিসংগত মনে করছে সরকার।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধান ও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে।
নতুন অর্থবছরের সূচি চালুর সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সিস্টেমেও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। এসব পরিবর্তন বাস্তবায়নের পর, ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়সূচি অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সরকারের মত হচ্ছে, নতুন অর্থবছরের সময়সূচি চালু হলে বর্ষাকালকে অগ্রাহ্য করে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে, অর্থবছরের শেষ সময়ে দ্রুত উন্নয়ন ব্যয় করার প্রবণতাও কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ