বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৩২ পি.এম
দেশব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং রুফটপ সোলারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন উদ্যোক্তা ও সার্ভিস প্রোভাইডার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে জেলা ও ভৌগোলিক এলাকার ভিত্তিতে যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, তালিকাভুক্ত সার্ভিস প্রোভাইডাররা স্থানীয় পর্যায়ে রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির স্থাপনে কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা প্রদান করবে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তারা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ উদ্যোগ উভয়েই আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এতে নতুন ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুফটপ সোলার ব্যবসাকে শুধুমাত্র বড় প্রতিষ্ঠান বা শহরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এর ফলে গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ এবং সেবা প্যাকেজ তৈরির পাশাপাশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পাবে।
রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদের অর্থায়ন এবং নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিশেষভাবে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, নিরাপদ, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে সারা দেশে দক্ষ জনবল, স্থানীয় উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও কার্যকর সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রুফটপ সোলার দেশের জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা, স্থানীয় বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী এবং কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার—দেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ী, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের এই ক্রমবর্ধমান বাজারে যুক্ত করাই উদ্যোগটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাটে আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিমুলতলী ব্রিজের পাশে আত্রাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর গ্রামের তহিদুল ইসলামের ছেলে জিসান (৮) এবং দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তাহমিদ হোসেন (৮)। সম্পর্কে তারা সমবয়সী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওই দুই শিশু বাড়ির পাশে আত্রাই নদীতে মাছ ধরার উদ্দেশে বের হয়। একপর্যায়ে তারা নদীর পানিতে নামলে তীব্র স্রোত ও গভীরতার কারণে তলিয়ে যায়। দূর থেকে বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। নদী থেকে উদ্ধার করে দুই শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নদীতে মাছ ধরতে নেমে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে শিশু দুটির মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে খোঁজখবর নিয়েছে। এ বিষয়ে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে একসঙ্গে দুই শিশুর এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রসপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে। শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে এসে, সিরিজের প্রথম টেস্টেই জয় পায় টাইগাররা। যা অসিদের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম জয় বাংলাদেশের। টেস্টে বাংলাদেশের উন্নতিতে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।
পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন ওয়াহ। তার মতে, বর্তমান বিশ্বে টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা টেস্ট ক্রিকেটকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
২০০৩ সালের পর চলতি মাসেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামে বাংলদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টের ১১ সেশনে দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৪২৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। এতে প্রথম ইনিংস থেকে ২২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে আটকে রেখে ৫৭ রানের সহজ জয়ের লক্ষ্য ছুঁয়ে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পায় নাজমুল হোসেন শান্ত।
প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করলেও, ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দু’দিনে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। তারপরও বাংলাদেশের পারফরমেন্সে খুশি ওয়াহ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের টেস্ট পারফরমেন্স নিয়ে ওয়াহ বলেন, ‘এটি সবচেয়ে বিস্ময়কর ফলাফল এবং টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আমাদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় সর্তকবার্তা। তবে বাংলাদেশের এমন ভালো পারফরমেন্স করতে দেখাটা দারুণ ব্যাপার।’
১৬৮ টেস্টে ১০,৯২০ রান করা ওয়াহ আরও বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের পারিশ্রমিকও সবার জন্য একই রকম রাখতে হবে। শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটাররা যেন একই অর্থ পায়, যা ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা পায়।’
আগের টেস্ট ক্রিকেটের সাথে এখনকার খেলার ধরনে অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন ওয়াহ। তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে লড়াই করার মানসিকতা এখন আর টেস্ট ক্রিকেটে দেখা যায় না। ধৈর্য্য নিয়ে উইকেটে টিকে থেকে বড় রান করাই হল টেস্ট ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটে কখনো শুধু উইকেটে পড়বে, তিন-চারটি মেডেন ওভার খেলতে হবে এবং রান করার জন্য লড়াই করতে হবে। এটি এখনকার ধারা বা মানসিকতার বিপরীত। এ বিষয় এখন কিছুটা হারিয়ে গেছে। তাই টেস্ট ক্রিকেটে কিভাবে এটি করতে হয়, সেটি আবার শিখতে হবে।’
পাঁচ দিনের এই ফরম্যাটকে টিকিয়ে রাখার জন্য আলাদা সময় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ৬১ বছর বয়সী ওয়াহ। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নির্দিষ্ট সময় বা ‘উইন্ডো’ তৈরি করতে হবে। কিন্তু এ কাজটি মোটেও সহজ নয়। টি-টোয়েন্টির যুগে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় বের করতে আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, গত ১৭ বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
পতিত সরকারের যতই উন্নয়নের বয়ান বলা হোক না কেন, উন্নয়নের সূচকের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।
অধ্যাপক ড. তিতুমীর বলেন, রাষ্ট্র যখন সহিংস হয়ে ওঠে, তখন পরিবারে সহিংসতা বিদ্যমান থাকে। রাষ্ট্র যখন ভয় দিয়ে চালাতে চায়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে এবং এটাও পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৭ বছরে পিতৃতান্ত্রিকতার যে কোনো ধরনের সূচক সবচেয়ে বেড়েছে এবং তার ফলাফল আজকের আলোচকদের কথায় উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে ভূমির অধিকার ও নারীর প্রতি সহিংসতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সমস্যার কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সেটা আপনারা জীবনের প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছেন। কোনো কোনো হিসাবে প্রায় ১ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে দরিদ্র হয়ে গেছে। বিগত সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দেখা গেছে, দেশে ১ কোটি দরিদ্র বেড়ে গেছে। অর্থাৎ তারা শুধু উন্নয়নের ফাঁকা বুলি ছড়িয়েছে।
তিনি বলেন, তাই আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিতে চাই। আমরা চাই, প্রতিটি জীবনচক্রে নারী যেন উপকারভোগী হয়। তার শৈশব, মাতৃত্বকালীন সময় এবং শেষ বয়সেও তাকে তার প্রাপ্য অধিকার আমাদের সরকার দিতে চায়।
তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের বিকল্প কিন্তু কিছু নেই। কারণ এটার মাধ্যমেই আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মধ্যে নিতে হবে। যেটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার উল্লেখ করছেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ২০ শয্যা করা হয়। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সেটাকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। তবে দুঃখের বিষয়, এখানে আর হাত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এটাকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে চায়, যাতে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমাদের ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের দিকে যেতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী যে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্রের কথা বলেছেন, তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ ধারণাকে বাস্তবায়নে আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। আপনারা পিকেএসএফের নাম শুনেছেন। সরকারকে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতে হবে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), এসএমই ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এ কাজে যুক্ত করতে হবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। যারা গ্রামে কাজ করেন, তাদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। স্কুলে গিয়ে বলতে হবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করুন। অফিসে গিয়ে বলতে হবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে আসুন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬ : দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় উপহার দিয়েছেন। বড় জয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্লাবটির কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিও স্মরণীয় হয়ে থাকল।
ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়রও গোল করেছেন। জুড বেলিংহাম দুটি গোলে এ্যাসিস্ট করেছেন। এই তারকা ত্রয়ীর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মাদ্রিদ বাস্ক অঞ্চলের দলটিকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলে।
গত শনিবার নিজের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচের একই একাদশ মাঠে নামান অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ মরিনহো।
মরিনহো বলেছিলেন, দলের সবচেয়ে বড় তিন তারকাকে একই সঙ্গে সেরা ছন্দে খেলানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এই ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে তিনি সঠিক পথেই এগোচ্ছেন।
এমবাপ্পের প্রশংসা করে মরিনহো বলেন, “এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য।” পাশাপাশি রিয়ালের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন তিনি, “রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়ার জন্য তাকে সত্যিই ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে। আর আমি এমন একটি দল দেখতে পাচ্ছি, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে তার মতোই অসাধারণ হলেও দলটির কথা না বলে পারছি না।”
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ভিনিসিয়াসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পোস্টের কাছ থেকে এমবাপ্পের নিচু শট রুখে দেন আলেক্স রেমিরো। অন্য প্রান্তে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া মিকেল ওইয়ারসাবালের শট দারুণভাবে রুখে দেন।
এমবাপ্পের পাস থেকে ভিনিসিয়সের শটও ঠেকান রেমিরো। রিয়াল সোসিয়েদাদের সার্জিও গোমেজের ভলি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে যায়।
বিরতির পাঁচ মিনিট আগে গোলের দেখা পায় মাদ্রিদ। ফেডেরিকো ভালভার্দের পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপ্পে। লা লিগায় গত দুই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফরাসি এই ফরোয়ার্ড বুদ্ধিদীপ্তভাবে প্রতিপক্ষের মার্কিং এড়িয়ে বলটি উপরের কোনায় পাঠিয়ে মৌসুমে নিজের প্রথম গোল করেন।
রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে অধিনায়ক ভালভার্দে বলেন, “এটা অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, এমবাপ্পেকে পাওয়া সত্যিই দারুণ। তার খেলা আমাদের উপভোগ করতে হবে এবং যতটা সম্ভব তার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা নিতে হবে। আমাদের তাকে হাজারটা বল দিতে হবে, যাতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, গোল করতে পারে এবং খুশি থাকে।”
তবে গত মৌসুমের কোপা দেল রে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরতির আগেই সমতায় ফিরে। জব ওচিয়েং বল নিয়ে কিছুটা দেরি করেন এবং তার শট ব্লক হয়ে যায়। তবে বলটি চলে যায় লুকা সুসিচের কাছে। আলভারো কারেরাসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করা শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান সুসিচ।
ভালভার্দে জানান, দ্বিতীয়ার্ধে প্রেসিংয়ের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল মাদ্রিদ, যার সুফলও তারা পেয়েছে।
উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার বলেন, “তাদের অর্ধে বল ফিরিয়ে আনতে আমাদের বেশ কঠিন লাগছিল... আমরা সেটি সামঞ্জস্য করেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছি।”
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরদা গুলের পাস থেকে এমবাপ্পে বল পান, কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন রেমিরো। কিছুক্ষণ পর এমবাপ্পের পরের প্রচেষ্টার সামনে কিছুই করার ছিল না স্প্যানিশ গোলরক্ষকের।
ভালভার্দে ও এরপর বেলিংহামের সমন্বয়ে তৈরি একটি সুন্দর আক্রমণে বেলিংহাম এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে দেন। এমবাপ্পে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন।
এরপর গোল করেন ভিনিসিয়াস। এতক্ষণ পর্যন্ত নীরব থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে গোলটি পেতে সহায়তা করেন বেলিংহাম। ইংলিশ মিডফিল্ডারের শট ব্লক হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। রিয়াল সোসিয়েদাদের বক্সে বলটি পুনরুদ্ধার করে ভিনিসিয়াসের সামনে তুলে দেন। ভিনি সহজেই বল জালে ঠেলে দেন।
গোল করার পর আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়াস। নিখুঁত পাসে এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। এমবাপ্পে রেমিরোর মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে বল তুলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে রেকর্ড মূল্যে রিয়ালে যোগ দেওয়া ইয়ান দিয়োমান্দের জন্য ভিনিসিয়াসকে তুলে নেন মরিনহো। মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করার তৃপ্তি ছিল তার মুখে।
গত মৌসুমে অক্টোবরে বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্লাসিকো জয়ের সময় জাবি আলোনসো তাকে বদলি করায় ক্ষুব্ধ হওয়ার পর থেকেই রিয়ালের মৌসুমের ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করেছিল। তবে সম্প্রতি ২০৩২ সাল পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি বাড়ানো ভিনিসিয়াস এবার ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ