ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১


চট্টগ্রামে ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় মো. রাজ্জাক প্রকাশ ওরফে চিকনা রাজুকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গণসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার টেকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্জাক ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার আসলামপুর ফরাজী বাড়ির আলমগীর ফরাজীর ছেলে। তিনি চান্দগাঁও থানার টেকবাজার এলাকার পুলসংলগ্ন রিয়াদ কলোনিতে বসবাস করেন।

আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয়ে প্রেম-বিয়ের আসরে জানা গেল হিন্দু, অতঃপর নাজমা খাতুনের আত্মহত্যা

পুলিশ জানায়, হামলার সময় দেশীয় অস্ত্র হাতে তিনিই প্রথম কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করেন।

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মানুন বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মামলার আসামি রাজ্জাককে শনাক্ত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে চান্দগাঁওয়ের টেকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই ডিডিএনের স্বত্বাধিকারী আদিল বিন মামুনকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন পরিচয়ে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ জুলাই দুপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল ডিডিএন কার্যালয়ে হামলা চালায়।

এতে কার্যালয়টির প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য ক্যাশে রাখা ৩৫ লাখ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করা হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

 

 

 

 

সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মুহুর্মুহু আক্রমণে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সৌদি সমর্থিত জোট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে, শুধু তারাই নয়, সৌদি আরব নিজেও ভয়ংকর ভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে হুতিদের হামলায়। এমন প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড সামরিক শক্তি দিয়ে লড়াই করতে এবং হামলা করতে সৌদি আরবের সমর্থনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, এবং গ্রিস অন্যদিকে মক্কা জোটের সমর্থনে দুই মুসলিম শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান ও তুরস্ক এবং মিশর ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্র আরব আমিরাত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও লজিকস্টিক সাপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবের নয়টি রাষ্ট্রের যৌথ জোটের হামলা হতে যাচ্ছে হুতিদের বিরুদ্ধে। অথচ যেখানে এর আগে ২০১৪ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে বা ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব নাক গলানো শুরু করলে একক শক্তিতে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না পারায় সৌদি আরব ৩০ টি রাষ্ট্র মিলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করেও ব্যর্থ হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা করতে এসেও যুদ্ধ করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছে। এখানে মনে রাখা উচিত কেন বার বার তাদের বিরুদ্ধে বড় বড় পরাশক্তি যুদ্ধ করে ব্যর্থ হচ্ছে? শুধু যুদ্ধের ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এয়ার ডিফেন্স কিংবা সর্বাধুনিক ফাইটার জেট দিয়ে কোন একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোন একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না যদি যেত তাহলে ইরান এতদিনে ধ্বংস হয়ে যেত। কিন্তু হুতিদের তো ইরানের মত সামরিক শক্তি নেই তারপরও কেন তারা বারবার যুদ্ধে টিকে আছে? এখানেই আসে যুদ্ধের সামরিক হিসাব নয় হিসাবটি অন্য স্থানে আর তা হচ্ছে ধর্মতত্ত্ব বা হুতিদের বিশ্বাস এবং ইসলাম ধর্মের প্রতি এবং আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ভরসা করে তাদের সেই সময়ের মতো, যে সময়ে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী হিসেবে প্রায় ৬৪ টি যুদ্ধ করেছিলেন যেগুলো ছিল অসম যুদ্ধ যার ২৭ টি তিনি নিজে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই সব অসম যুদ্ধেও অল্পসংখ্যক সাহাবী এবং অল্প সংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র নিয়েও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তার পাঠানো সেনাপতিরা যুদ্ধে জয় লাভ করে ফিরে আসতো, তেমন বিশ্বাস নিয়ে তারা যুদ্ধ করছে যাদের প্রতি আবার ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করে গেছেন এই ইয়েমেন ও শামবাসীদের জন্য যা সহীহ বুখারী, তিরমিজি শরীফ এর কয়েকটি হাদিস বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং রেওয়ায়াতকারীরা অত্যন্ত শক্তিশালী যেমন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এবং আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকেই হাদিস গুলো বর্ণিত।
 
ইয়েমেনের পাহাড়ে শুধু অস্ত্রের শক্তি নয়, ইতিহাস, বিশ্বাস ও প্রতিরোধেরও পরীক্ষা চলছে। কিন্তু মহানবী (সা.)-এর দোয়াকে সামরিক অপরাজেয়তার নিশ্চয়তা মনে করার আগে বুঝতে হবে, এই যুদ্ধের প্রকৃত শক্তি কোথায়।
 
বিশ্বের পরাশক্তিগুলো যখন নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মত্ত, তখন আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ইয়েমেন যেন এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আর সামরিক জোটই কি যুদ্ধের শেষ কথা? নাকি যুদ্ধের ময়দানে এমন কিছু উপাদানও কাজ করে, যা কেবল অস্ত্রের পাল্লা কিংবা বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না?
 
হুতিদের বিরুদ্ধে শুধু ৯টি দেশ নয়, গোটা বিশ্ব এক হলেও পারবে না—এমন বক্তব্যের পেছনে রয়েছে একটি গভীর বিশ্বাস: ইয়েমেনের জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দোয়া করেছিলেন অথচ বর্তমান রিয়াদ বা সৌদি বাসীরা বারবার তখন "নাজদ" বা বর্তমান রিয়াদ তথা সৌদির জন্য দোয়া করতে বললেও রাসূল কিন্তু তা করেননি। তিনি উত্তরে বলেছিলেন যে, সেখান থেকে শয়তানের শিং বের হবে, সেখানে ফিতনা তৈরি হবে এবং ভূমিকম্প হবে। 
 
এই বিশ্বাসের ধর্মীয় তাৎপর্যকে বুঝতে হবে ইতিহাস, বাস্তবতা ও বিবেকের আলোকে। কারণ কোনো জনগোষ্ঠীর জন্য নবীজির দোয়া থাকলেই তারা সামরিকভাবে কখনো পরাজিত হবে না—এমন নিশ্চয়তা আধুনিক যুদ্ধের যুদ্ধ বিশারদরা তুরি মেরে উড়িয়ে দিবেন। কিন্তু ইয়েমেনের মর্যাদা, ঐতিহাসিক পরিচয় এবং দেশটির মানুষের প্রতি নবীজির স্নেহের বিষয়টি নিঃসন্দেহে মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে যা আজও দীর্ঘকাল যুদ্ধের পরও হুতি বিদ্রোহীদেরকে টিকিয়ে রেখেছে।
 
ইয়েমেনের জন্য নবীজির দোয়া: বিশ্বাসের গভীরতা কোথায়?
সহীহ বুখারীর বর্ণিত একাধিক হাদিস ছাড়াও জামে আত-তিরমিজির ৩৯৫৩ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.) শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেছিলেন। অন্য একটি বর্ণনায় ইয়েমেনের মানুষের হৃদয় ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হওয়ার জন্যও তিনি দোয়া করেন। অর্থাৎ ইয়েমেনের সঙ্গে নবীজির সম্পর্ক কেবল ভৌগোলিক ছিল না; ইসলামের ইতিহাসে দেশটির একটি স্বতন্ত্র অবস্থানও রয়েছে।এই দোয়া ইয়েমেনের মানুষের কাছে আশার উৎস হতে পারে, মুসলমানদের কাছে হতে পারে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বিষয়। কিন্তু এখানেই একটি কথা গুরুত্বপূর্ণ —আল্লাহর কাছে বরকতের দোয়া আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সামরিক শক্তির চিরস্থায়ী বিজয়ের নিশ্চয়তা এক বিষয় নয় বলেই বর্তমান অবিশ্বাসী যুদ্ধ বিশারদরা মনে করবেন। 
 
ইসলামের ইতিহাসে বিশ্বাসীরা বহু কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। সুতরাং ধর্মীয় আবেগকে বাস্তবতার বিকল্প না বানিয়ে ন্যায়, ধৈর্য, মানবিকতা ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করাই অধিক যুক্তিসংগত।
 
ইয়েমেন: এক দেশের ভেতর বহু যুদ্ধ
ইয়েমেনের সংকটকে শুধু সৌদি আরব বনাম হুতি হিসেবে দেখলে প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে। আরব বসন্ত যখন চলছিল তখন ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা সহ ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গুলো প্রায় দখল করার পর দেশটিতে সৌদি সমর্থিত গ্রুপের কারণে রাজনৈতিক সংকট পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সমর্থন দিয়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে আগ বাড়িয়ে হস্তক্ষেপ করে।
 
এরপর বছরের পর বছর বিমান হামলা, স্থলযুদ্ধ, অবরোধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপর্যস্ত হয়েছে ইয়েমেন। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান আসেনি।
 
হুতিরা দেশের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী সানাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনে বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তার মিত্রদের প্রভাব রয়েছে দেশের সামান্য অংশে। দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইরান-সৌদি আরবের ভূরাজনৈতিক হিসাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
 
অর্থাৎ ইয়েমেনের যুদ্ধ কেবল একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে পরাজিত করার সামরিক অভিযান নয়; এটি রাষ্ট্রক্ষমতা, আঞ্চলিক আধিপত্য, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বৈধতার বহুমাত্রিক সংঘাত।
 
সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন সংঘাত: আগুন আবার জ্বলছে
২০২৬ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালীন সৌদি আরবের উস্কানিতে ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। অক্টোবরের প্রথমার্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর লড়াই তীব্র হওয়া, সৌদি ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা বিমান হামলার খবর উঠে এসেছে।
 
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির ৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে হুতি-সৌদি সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই বেড়েছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় বাব আল-মান্দেব প্রণালি—যার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চলাচল করে যা হুথি যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
 
৯ অক্টোবর জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূতও নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, দেশটি আবার ব্যাপক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং একাধিক যুদ্ধফ্রন্টে লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করেছে সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যাতে মুহাম্মদ বিন সালমান এখন বাঙ্কারে বাঙ্কারে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন।
 
১৫ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এডেন শহরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত হওয়ার খবর আসে। একই প্রতিবেদনে সৌদি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পাল্টা অভিযানের বিবরণও উঠে আসে।
 
২০ অক্টোবর রয়টার্স জানায়, শাবওয়া প্রদেশে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এসব ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইয়েমেনের যুদ্ধ আর কোনো স্থবির সংঘাত নয়; এটি আবারও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: হুতিদের প্রতিরোধক্ষমতা বাস্তব হলেও তাদের সামরিক সাফল্যকে অলৌকিক অপরাজেয়তা মনে করা যেতে পারে। যুদ্ধের ফল যদিও নির্ভর করে সামরিক সক্ষমতা, কৌশল, গোয়েন্দা তথ্য, রসদ, রাজনৈতিক ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর কিন্তু ইয়েমেনের ক্ষেত্রে এটি কোনভাবে মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ যাদের সামরিক পোশাক পর্যন্ত নেই লুঙ্গি পরে যে যার পোশাক পরে যুদ্ধ করে পায়ের প্যান্ডেল নেই কোন কোন যোদ্ধার, অথচ তারা বিশাল বিশাল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে দশকের পর তোষক বিভিন্ন অত্যাধুনিক সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে এখনো টিকে আছে।
 
এত শক্তির বিরুদ্ধে হুতিরা টিকে থাকে কীভাবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ইয়েমেনের ভূপ্রকৃতি, দীর্ঘ সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং হুতিদের সামরিক কৌশল বিবেচনায় নিতে হবে। পাহাড়ি অঞ্চল, দুর্গম পথ, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা যেকোনো বাহিনীর জন্য সামরিক অভিযানকে জটিল করে তুলতে পারে।
 
এ ছাড়া হুতিরা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ইরানের সহায়তার মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও মূল্যায়নে পার্থক্য রয়েছে।
 
অন্যদিকে সৌদি আরবের হাতে রয়েছে আধুনিক বিমানবাহিনী, উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা। যারা বিগত ২৫ সালের ৮৩ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র ক্রয় করেছে এবং ২৬ সালের এখন পর্যন্ত ৬৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করেছে তবুও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সব সময় রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত করে না। আফগানিস্তান থেকে ইরাক—আধুনিক ইতিহাসে বহু সংঘাত দেখিয়েছে, শক্তিশালী বাহিনী প্রতিপক্ষকে ব্যাপক ক্ষতি করেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে।
এই বাস্তবতাই হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে জটিল করে তুলেছে। তাদের সম্পূর্ণ পরাজিত করা সম্ভব কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু বোমাবর্ষণ দিয়ে ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
 
বিজয়ের নামে কার মৃত্যু হচ্ছে?
যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, ক্ষমতার হিসাব করে যারা সংঘাত শুরু করে, তার সবচেয়ে বড় মূল্য প্রায়ই দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। সৌদি আরব একটি মুসলিম নামধারী রাষ্ট্র হলেও তাদের বাহিনী কর্তৃক ইয়েমেনের বিমানবন্দর নৌবন্দর অবরোধের কারণে ইয়েমেনের মুসলিম জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যসংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য এবং অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের শিকার। বর্তমানে তাইজসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবরোধ ও তীব্র লড়াই মানবিক পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। হাসপাতাল, পানির সরবরাহ, খাদ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল যুদ্ধের চাপে বিপর্যস্ত হচ্ছে।
 
হুতি হোক, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হোক কিংবা অন্য কোনো সশস্ত্র পক্ষ—বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার কোনো নৈতিক বৈধতা নেই।
যে পক্ষই ধর্ম, জাতীয়তাবাদ কিংবা নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের জীবনকে তুচ্ছ করে, তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো জরুরি। কারণ কোনো পক্ষের পতাকা কিংবা স্লোগান ক্ষুধার্ত শিশুর পেট ভরায় না; কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত হাসপাতালকে আবার জীবিত করে না।
 
তাহলে কি গোটা বিশ্ব এক হলেও হুতিদের হারাতে পারবে না?
এখানেই শিরোনামের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য। ইয়েমেনের জন্য মহানবী (সা.)-এর দোয়া মুসলমানদের কাছে ভালোবাসা, বরকত ও আধ্যাত্মিক আশার প্রতীক। সেই বিশ্বাসকে সম্মান করেই বলা যায়, ইয়েমেনকে কেবল সামরিক শক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে দেখার মানসিকতা ভুল। একটি দেশের ইতিহাস, জনগণের আত্মপরিচয়, স্থানীয় বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী বিজয় অর্জন করা কঠিন।
 
তবে হুতিদের সমর্থন করা আর ইয়েমেনের মানুষের প্রতি ভালোবাসা দেখানো এক বিষয় নয়। হুতিরা ইয়েমেনের সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন দাবি কিছুদিন আগে না করা গেলেও এখন দেশটির বেশিরভাগ মানুষ সৌদি সমর্থিত সরকারের প্রতি বিরক্তি এবং ঘৃণা পোষণ করছে এবং হুতিদের পক্ষে কিংবা সমর্থনে এগিয়ে আসছে, কারণ সৌদি সমর্থিত সরকার ইয়েমেন বাসীদের কে না খাইয়ে মারছে, মারণাস্ত্র দিয়েও মারছে। দেশটির ভেতরেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রয়েছে।
 
অতএব, হুতিদের বিরুদ্ধে বিশ্বশক্তির সামরিক সাফল্য অসম্ভব—এমন চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া বর্তমান বিশ্ব সমরাস্ত্র বিদদের পক্ষে বিশ্বাস না করা গেলেও অধিক যুক্তিসংগত বক্তব্য হলো: ইয়েমেনের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সামরিক জোটের পক্ষেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে না।
আর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকৃত শক্তি যদি কোথাও প্রকাশ পায়, তবে তা শুধু যুদ্ধজয়ের দাবিতে নয়; অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেও প্রকাশিত হওয়া উচিত।
 
শেষ কথা: ইয়েমেনকে বোমা দিয়ে নয়, ন্যায় দিয়ে বুঝতে হবে
ইয়েমেনের যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না শুধু সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান কিংবা হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে। নির্ধারিত হবে, দেশটির জনগণ কতটা রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়, সংঘাতরত পক্ষগুলো কতটা সমঝোতায় আসে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারে কি না, তার ওপর।
 
মহানবী (সা.) ইয়েমেনের জন্য দোয়া করেছিলেন—এই বিশ্বাস মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদা রাখে। সেই দোয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে ইয়েমেনের মানুষের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা। এর অর্থ সৌদি আরব সহ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে বোঝা উচিত তাদের মধ্যে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলার জন্য আলোচনা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং তার পরিবর্তে কোনো গোষ্ঠীর প্রতিটি কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নাতীত সমর্থন দেওয়া কিংবা পক্ষ নেওয়া উচিত নয়।
 
হুতিদের সামরিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা যেমন ভুল, তেমনি তাদের অপরাজেয় বলে ঘোষণা করাও বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত করা বলে মনে হবে কিন্তু ধর্ম বিশ্বাসীদের জন্য এটাই সত্য। কিন্তু ইয়েমেনের ইতিহাস যে শিক্ষা দেয়, তা আরও গভীর: অস্ত্র দিয়ে ভূখণ্ড দখল করা যায়, আকাশ থেকে ধ্বংস নামানো যায়; কিন্তু মানুষের বিশ্বাস, পরিচয় ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে চিরদিন বোমার নিচে চাপা রাখা যায় না।
 
বিশ্ব যদি সত্যিই ইয়েমেনের সংকটের সমাধান চায়, তবে আরও বড় যুদ্ধজোট গড়ার আগে তাকে গড়তে হবে ন্যায়ভিত্তিক শান্তির পথ। কারণ ইয়েমেনের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নতুন কোনো বিজয়ীর উত্থান নয়—একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ যা শুধুমাত্র ইয়েমেন বাসীদের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য কে শুধু ঘুচাবে না বরং মুসলিম বিশ্বের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষণ করবেন এবং তার বিপক্ষে গেলে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিশাপে হয়তো এক সময় এই মুসলিম রাষ্ট্র সহ যেসব রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে তারা ধ্বংস হলেও হতে পারে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক নয় কারণ বিশ্ব এসব কারণে মহাপ্রলয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। 
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রয়টার্স এক্সক্লুসিভ

ইরানকে টেক্কা দিতে সৌদির গোপন প্রস্তুতি, স্যাটেলাইট ছবিতে মিলল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


ইরানকে টেক্কা দিতে সৌদির গোপন প্রস্তুতি, স্যাটেলাইট ছবিতে মিলল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য

সৌদি আরব তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি আরও বড় আকারের কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে, যা দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে কিংবা অধিক ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই গবেষক এক বছরের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন একটি ধারণা প্রকাশ করেছেন।

আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে এবং সামরিক সক্ষমতায় স্বনির্ভরতা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি, ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। একই সঙ্গে, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে বিরোধিতা আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে আগেই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবস ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিয়াদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আল-দাওয়াদিমি ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের ছবি সংগ্রহ করে।

ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছেন ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এফপিআরআই) গবেষক স্যাম লেয়ার ও মাইকেল ডুইটসম্যান। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেখানে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের কঠিন জ্বালানি তৈরির জন্য কাস্টিং পিট থাকতে পারে। এসব গর্তে জ্বালানির উপাদানের মিশ্রণ ক্ষেপণাস্ত্রের মোটরের আবরণে ঢেলে শক্ত করা হয়।

গবেষকদের ভাষ্য, নতুন ভবনটির পাশে বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভবনটি কারখানার বিদ্যমান কাস্টিং পিট রয়েছে বলে ধারণা করা স্থাপনার অন্তত দ্বিগুণ বড়। এ ছাড়া, আরেকটি নতুন ভবন জ্বালানির উপাদান কিংবা তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

গবেষকেরা লিখেছেন, স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ধারণা পাওয়া যায়, সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্সের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। এর লক্ষ্য হতে পারে বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম অথবা আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি।

কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক বাহিনীগুলোর কাছে বিশেষভাবে পছন্দের। কারণ, এগুলো দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় এবং তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত

লেয়ার ও ডুইটসম্যান এবং লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) ও গবেষণা সংস্থা সিএনএর বিশেষজ্ঞরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডারের ধরন থেকে ধারণা করা যায়, আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, স্থাপনাটির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানারও মিল রয়েছে।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি অবমুক্ত মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালে চীনের কাছ থেকে গোপনে প্রায় ৪০টি তরল জ্বালানিচালিত ডিএফ-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করেছিল সৌদি আরব। ২০১৪ সালের এপ্রিলে একটি সামরিক কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো এর দুটি প্রদর্শন করে দেশটি। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি ইউটিউবেও প্রকাশিত হয়েছিল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে এফপিআরআইয়ের গবেষকেরা ইয়েমেনে সৌদি আরবের ছোড়া চীনা নকশার ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন।

লেয়ারের ধারণা, সৌদি আরব এখন কঠিন জ্বালানিচালিত ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। আর আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য হতে পারে আরও দূরপাল্লার ডিএফ-২১ কিংবা একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে আসায় সৌদি আরব চীনের দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চীনের দূতাবাস ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তারা কোনো জবাব দেয়নি। সিআইএ মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য

আইআইএসএসের গবেষক সাশা ব্রুখম্যান বলেন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ঝুঁকিতে না ফেলেই দেশটিতে হামলার সক্ষমতা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জিপিএস-নির্দেশিত বোমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তেহরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো লক্ষ্যবস্তুকে হুমকির মুখে ফেলতে এমন একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে—যদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে তেহরানের আকাশে যাওয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে।’

ব্রুখম্যানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবের যেকোনো স্থানে আঘাত হানার সক্ষমতায় ইরান এগিয়ে রয়েছে। আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবকে সেই ব্যবধান কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রয়টার্সের অনুরোধে এফপিআরআইয়ের বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে ব্রুখম্যানও একমত হয়েছেন যে, আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য আরও শক্তিশালী কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হতে পারে।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা জেনসও বিশ্লেষণটি পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, নতুন ভবনগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর অথবা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে সহায়তার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিতে পারে।

সিএনএর বিশ্লেষক ডেকার ইভেলেথও বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে আল-দাওয়াদিমির নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি এফপিআরআইয়ের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। তার ভাষ্য, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য শক্তিগুলোও আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অস্ত্রভান্ডার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইভেলেথ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। তুরস্কেও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। এখন সবাই এটা করছে।’

সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সহায়তা করার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সম্প্রসারণ চুক্তিটির বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে দ্বিদলীয় বিরোধিতা আরও বাড়াতে পারে।

চুক্তির বিরোধীদের আশঙ্কা, সৌদি আরব গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে তা ঠেকানোর জন্য এতে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। তবে সৌদি আরব এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

গত বছর শুরু হয় নির্মাণকাজ

এফপিআরআইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে আল-দাওয়াদিমি কমপ্লেক্সের সম্প্রসারণকাজ শুরু হয়। ওই সময় সম্ভাব্য সংরক্ষণ ভবনের জন্য জমি পরিষ্কার ও খননকাজ চালানো হয়। একই মাসের শেষ দিকে অথবা মে মাসের শুরুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরির কাস্টিং পিট থাকতে পারে—এমন ভবনের কাজ শুরু হয়।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বরের একটি ছবিতে ভবনটির ভেতরে দুটি গভীর গর্ত দেখা যায় বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তখনো ভবনটির ছাদ নির্মাণ করা হয়নি।

২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের ছবিতে দেখা যায়, ছাদের কিছু অংশ তখনো অসম্পূর্ণ। ভবনটির দুই পাশে বিস্ফোরণের ধাক্কা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার উপযোগী শক্তিশালী দেয়াল রয়েছে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণে পাশের স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতেই এসব দেয়াল তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।

গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার স্যাটেলাইট চিত্রেও একই ধরনের দেয়াল দেখা যায়। এটি ভবনটি কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের মোটর তৈরির কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ধারণাকে আরও জোরালো করে।

এফপিআরআইয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ছাদ নির্মাণ শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। তবে কাস্টিংয়ের যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থাপনাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে জেলা জামায়াতের রোকন সম্মেলনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি রায়হান আলী

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


নীলফামারীতে জেলা জামায়াতের রোকন সম্মেলনে

জাতীয় নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে এই সরকার জাতির সাথে প্রতারনা করছে। গণভোট তারা মানছে না। তাদের যেগুলো সুবিধা সেগুলো মানছেন। অসুবিধাগুলো মানছেন না প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,জুলাই সনদ ও গণভোট না মেনে এই সরকার চরমভাবে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে ।তিনি রোকনদের উদ্দেশ্যে বলেন, এমপি নির্বাচন আর স্থানীয় নির্বাচন এক জিনিস নয়। স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফল করার জন্য আজকে থেকে ব্যাপকভাবে গন সংযোগ করতে হবে । নীলফামারীতে চারজন এমপি স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে এটা আবারো প্রমাণ করতে হবে। আমার কাজগুলো যেন জান্নাতে যাওয়ার উপযোগী হয়। সে চেষ্টা জোরদার করতে হবে। এখলাসের সাথে কাজ করতে হবে। সীমালংঘনমূলক কোন কাজ করা যাবে না। আখেরাতের জবাবদিহি নিয়ে কাজ করতে হবে। তামিমুল কোরআন অধ্যায়ন বাড়াতে হবে। সকলের নিকট তাফহীমূল কোরআনের ফুলসেট থাকতে হবে একথা বলে প্রধান অতিথি তার বক্তব্য শেষ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার আয়োজনে নীলফামারী আলহেলাল একাডেমি মাঠে শুক্রবার বিকালে এক রোকন সম্মেলন অনুস্ঠিত হয়।

জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলামের পরিচালনায় অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টীম সদস্য আব্দুর রশীদ। সভায আরও বক্তব্য রাখেন নীলফামারি-৪ আসনের এমপি আব্দুল মুনতাকিম , নীলফামারী-৩ আসনের এমপি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নীলফামারী-২ আসনের এমপি আল ফারুক আবদুল লতিফ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে চারটির অধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন।

সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে কতটি দলিল সই হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ‘আমরা আশা করছি, সফরকালে এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে।’

প্রত্যাশিত যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারি এগিয়ে নেওয়ার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী মন্তব্য করেন, প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারিতে নতুন গতি সঞ্চারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে সহযোগিতার আরো শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।’

অধ্যাপক চৌধুরী আরও বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং গুণগত মান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।’

জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সুফল পাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারি উৎসাহিত করা উচিত। এ ধরনের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।’

সাবেক উপাচার্য সফর শেষে একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা নির্ধারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক সই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কতটা বাড়ে, তার ওপর।’

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারি নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য সফর করবেন। প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে জাপান যাবে।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরেও এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্তও আলোচনায় আসবে।

ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো সহযোগিতার এসব বিষয় অবশ্যই আলোচনায় আসবে।’ তিনি জানান, আলোচনা শুধু মেট্রো রেল প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সিয়াম বলেন, ‘আমরা সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করবে।

জাপান বাংলাদেশে মেট্রো রেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে সহায়তা করছে।

২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, মাতারবাড়ী ও আড়াইহাজারে অবকাঠামো বিনিয়োগের সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় সরবরাহকারী এবং কর্মসংস্থানের সংযোগ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহন যোগাযোগ এবং অনুমোদন পাওয়ার পূর্বানুমেয় প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে কার্যকর ব্যবসায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।’

পররাষ্ট্র সচিব জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নও আলোচনায় স্থান পাবে।

দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবে।

দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারিকে আরো এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%