বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৪ পি.এম
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই ধারাটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল, কারণ এটি রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আওতায় আসা ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারত।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এ এই বিধানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছিল।
‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’ পাস হওয়ার পর ১৮(ক) ধারাটি বিতর্কের সৃষ্টি করে। সমালোচকদের মতে, এই বিধানটি রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অধীন ব্যাংকগুলোর সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারতো।
এই বিধানের আওতায়, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে যেসব শেয়ারহোল্ডার ওই ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করতেন, তারা ব্যাংকটির শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এছাড়া, এই বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও একই সুযোগ প্রদানের ক্ষমতা রাখতো।
পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ার সময় এই বিধানটি বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কারণ ওই ব্যাংকগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সমালোচনার মুখে সরকার পরবর্তীতে এই বিধানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধন বিলের সাথে সংযুক্ত ‘উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে’ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধারায় বর্ণিত পূর্ণ শর্তাবলি মেনে আবেদন করেনি, তাই এই বিধানটি বাতিল করা যৌক্তিক।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন’ ২০০৯ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি ‘প্রাইভেট মেম্বারস বিল’ (সংসদ সদস্যের নিজস্ব বিল) উত্থাপনের অনুমতি চান। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।
তবে নাজিবুর রহমান বিলটি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি সংসদে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক ও অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কলম ধরাই যেন অপরাধ! সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম মীরসরাইয়ের সাংবাদিক কামরুল ইসলাম (৩০)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে করেরহাট বাজারের লক্ষ্মীছড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা তার ওপর এই হামলা চালায়।
নৃশংস এই হামলায় মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। কামরুল ইসলাম বেসরকারি টেলিভিশন 'মোহনা টিভি' মিরসরাই প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে সিলেট জেলা পুলিশের দায়িত্বে এবং চারজনকে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মনজুরুল আলমকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেট জেলায় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, পুলিশ স্টাফ কলেজের সহকারী পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা ইভাকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। দিনাজপুরের হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহকে সহকারী পুলিশ সুপার (এসবি), ঢাকা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু হাসান ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে এসবিতে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকটের সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নির্বাচনের আগে বিএনপি সংস্কারের জন্য গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন না করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।" দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের সীমাহীন দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, "সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি বারবার জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি।" বরং গায়েরজোরে জনগণের অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বিভিন্ন আইন ও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একগুঁয়েমির কারণে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রেখেও সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে এসব দাবি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; এগুলো জনগণের ন্যায্য দাবি।
১১ দলের নেতারা জানান, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিতব্য জনসভা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় চীপ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আবু জাফর কাসেমীসহ শীর্ষ নেতারা।লংমার্চে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পথসভাগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন, "এটি কোনো দলের একক দাবি নয়; জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দাবিতেই এই লংমার্চ।" শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারকে কর্মসূচিতে সহযোগিতা কামনা করেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা জনগণকে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।
দলের নেতা-কর্মীদেরও ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চ সফল করার জন্য সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অল্পদিনেই নষ্ট হচ্ছে লাইট-ফ্যান-সুইচ, পণ্য পরিবর্তনে টালবাহানার অভিযোগ; ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা চেয়েছেন ক্রেতারা
বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আরিফ ইলেকট্রনিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি পুরান ঢাকার নবাবপুর এলাকা থেকে নিম্নমানের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ করে বরিশালে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করছে—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আরিফ ইলেকট্রনিক্স থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইট, ফ্যান, সুইচসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোর কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পণ্য কেনার সময় ওয়ারেন্টি বা পরিবর্তনের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নষ্ট পণ্য পরিবর্তন কিংবা বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
দুই মাসেই নষ্ট সুইচ-লাইট, অভিযোগ ক্রেতার
বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর পাঁচতলা ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী আরিফ ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবুজের কাছ থেকে ক্রয় করেন তিনি।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, পণ্যগুলো কেনার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সুইচ, লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট হতে শুরু করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে নষ্ট পণ্য পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমার পাঁচতলা ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী তাদের কাছ থেকে কিনেছি। কিন্তু দুই মাস না যেতেই সুইচ, লাইটসহ বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েছি এবং মালামাল পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করেছে।”
দুই লাখ টাকার পণ্য কিনেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ
নগরীর ভাটিখানা এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবুজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ভবনের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী হিসেবে প্রায় দুই লাখ টাকার পণ্য ক্রয় করেন তিনি।
তাঁর দাবি, পণ্যগুলো ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন সামগ্রীতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং বেশ কিছু পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবুজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই বাসিন্দা বলেন, “বিশ্বাস করে ভবনের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক মালামাল কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি সবুজকে বারবার জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।
‘ওয়ারেন্টি’ দেওয়ার পরও নষ্ট পণ্য নিয়ে ভোগান্তি
এদিকে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সোহান জানান, তাঁর বাসায় কাজ করানোর পর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনার জন্য এলাকার পরিচিত একজন বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তাঁর এক আত্মীয়ের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করেন।
সোহানের অভিযোগ, কেনার সময় পণ্যগুলোর ওয়ারেন্টি রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই লাইট, ফ্যান ও সুইচসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে সমস্যা দেখা দেয়। নষ্ট পণ্য পরিবর্তন কিংবা ওয়ারেন্টি সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাঁর।
সোহান বলেন, “বিশ্বাস করে পরিচিতজনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিনেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই লাইট, ফ্যান ও সুইচ নষ্ট হয়ে যায়। কেনার সময় ওয়ারেন্টির কথা বলা হয়েছিল। এখন নষ্ট পণ্য নিয়ে যোগাযোগ করলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
এ বিষয় আরিফ ইলেকট্রনিক প্রোপাইটার সবুজ মোবাইল যোগাযোগ করলে তিনি জানান পরে কথা বলবে এখন বাইক চালাচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা চাওয়ার দাবি
একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, ইলেকট্রনিক পণ্যের মান, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রি করছে কি না, পণ্যের গায়ে উল্লেখ করা মান ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বাস্তব পণ্যের মিল রয়েছে কি না এবং ক্রেতাদের দেওয়া ওয়ারেন্টি যথাযথভাবে কার্যকর করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোহান বলেন, “ভোক্তাদের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের মান ও বিক্রয় কার্যক্রম যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
আরও তথ্য পাওয়ার দাবি তালাশ বিডির
এদিকে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা, পণ্য সংগ্রহের উৎস, বিক্রয় কার্যক্রম এবং ক্রেতাদের অভিযোগের বিষয়ে তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফ ইলেকট্রনিক্সের মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবুজের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য কি না, পণ্যের মান নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং ভোক্তারা প্রকৃতপক্ষে ওয়ারেন্টি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটিও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র যাচাই শেষে এ বিষয়ে আরও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ