ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ

ঢামেকে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার তদন্তের আশ্বাস


ঢামেকে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার তদন্তের আশ্বাস

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীর স্বজনদের মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতাল প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেন ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পরিবারের সদস্য মমতাজ বেগম ও মো. আসাদুল্লাহ পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের জন্য ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, গত ১০ অক্টোবর শনিবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চার নম্বর কক্ষের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ১২ অক্টোবর সোমবার বিকালে দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে ‘ঢামেকে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরদিনই হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সাক্ষাৎ হয়।

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

পরিবারের অভিযোগ, কুমিল্লার তিতাস থানার আলমপুর এলাকায় মারামারির ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া ইয়াকুবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে আনা হয়েছিল। শনিবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রসিদ জমা দেন তারা। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও চিকিৎসা না পেয়ে অনুরোধ করতে গেলে প্রথমে ইয়াকুবকে মারধর করা হয়। পরে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে তার শ্বশুর মো. আসাদুল্লাহ, শাশুড়ি মমতাজ বেগম ও শ্যালক সিয়াম হোসেনও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের অভিযোগ, রাত ৮টা থেকে তারা বারবার চিকিৎসার অনুরোধ করলেও তাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ইয়াকুবকে জরুরি বিভাগের চার নাম্বার কক্ষের পাশে নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে তিনি চিকিৎসার অনুরোধ জানালে কয়েকজন স্টাফ তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এ সময় বেশি কথা বললে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি তার।

মমতাজ বলেন, ‘আমার মেয়ের জামাই পাঁচ ঘণ্টা ধরে কষ্ট পাচ্ছিল। আমরা বারবার চিকিৎসার অনুরোধ করেছি। কিন্তু সে নিজের কষ্টের কথা বলতেই তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। আমার স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে তার নাকে ঘুষি মারা হয়। নাক ফেটে রক্তে পাঞ্জাবি ভিজে যায়। এরপর আমার ছেলে সিয়াম এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছেলেকে মারধর করতে দেখে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পেছন থেকে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে মাথা ঘুরে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে এক কর্মী কাঁচি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় বাইরে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। দরজা খোলার পর একজনের হাতে বড় ছুরি দেখতে পান বলেও অভিযোগ করেন মমতাজ। আতঙ্কিত হয়ে তারা সেখান থেকে চলে আসেন।

আরও পড়ুন: প্যারিস খাল বাঁচাতে ডিএনসিসির সহায়তায় মাঠে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা

তার ভাষ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তা তারা ভাবেননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

রোগীর শ্বশুর মো. আসাদুল্লাহ বলেন, মেয়ের জামাইকে ভালো চিকিৎসা করানোর জন্য ঢাকা মেডিকেলে এনেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের নার্স ও কর্মচারীদের হাতে আমরা লাঞ্ছিত হয়েছি। আমার নাকে ঘুষি মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার স্ত্রী ও ছেলেকেও মারধর করা হয়েছে। ৫৯ বছর বয়সি আসাদুল্লাহ জানান, ঘটনার পর তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাদের কাছে রক্তমাখা পাঞ্জাবিসহ কাপড়চোপড়ও রয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

রোগীর শ্যালক সিয়াম হোসেনের অভিযোগ, প্রথমে তার দুলাভাই ইয়াকুবকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা আসাদুল্লাহর নাকে ঘুষি মারা হয়। পরে বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এরপর মা মমতাজ বেগম এগিয়ে গেলে তার মাথায় স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। সিয়ামের দাবি, মোট পাঁচজন এ হামলায় জড়িত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ১১ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনে ডেকে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে না পেয়ে তারা শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে হাসপাতালের স্টাফ নার্স তুহিন, জাকির হোসেন, তিতাস হোসেন, মো. সালাম ও অফিস সহকারী জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা আসাদুল্লাহ, তার স্ত্রী, ছেলে সিয়াম ও মেয়ের জামাই ইয়াকুবকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। আসাদুল্লাহর স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম এবং তার নাক ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন আসাদুল্লাহ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন (ক্যাজুয়ালটি) ডা. মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জরুরি বিভাগে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল প্রশাসন তাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল। তবে তারা আগে দেখা করতে আসেননি। হাসপাতাল প্রশাসন এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি হওয়ার পক্ষে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদকের খারাপ ব্যবহার করেন অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহ: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়

তিনি বলেন, এ বিষয়ে খালি আপনারা সাংবাদিকরা ফোন দেন। আপনাদের কাছে কি আমি জবাব দিব? আমরা রিপোর্ট দিব থানায়। সকাল থেকে আরও সাংবাদিক ফোন দিছে। আপনাদের কাছে বলতে বাধ্য নয়। ফালতু সাংবাদিক। এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে এর আগে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ এবং হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দুই দিনের মধ্যে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

এখন হাসপাতাল প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর ভুক্তভোগী পরিবারের।

আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজো উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা, আটক এক নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ এম


পূজো উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা, আটক এক নারী

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসা থেকে বের হয়ে দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধন করতে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃতি এবং ওই নারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

মমতা কালীঘাট মিলন সংঘের দুর্গাপূজার উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন, যা তার বাড়ির নিকটবর্তী। তৃণমূল কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, মমতা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভিড়ের মধ্যে এক নারী মিশে যান। এরপর তিনি মমতার কাছে গিয়ে তাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই নারী অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু লোককে ‘গায়ে কে হাত দিল’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একপর্যায়ে ওই নারী মাটিতে শুয়ে পড়েন। পরে মমতার নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কালীঘাট থানার পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক নারীর বাড়ি কলকাতার এস এন ব্যানার্জি রোড এলাকায়। পুলিশ তার সাথে কথা বলে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করছে। তবে তার মানসিক অবস্থা বা আচরণের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে ঘটেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতা। কলকাতায় ফেরার পর মঙ্গলবার রাজাবাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বাধায় সেই কর্মসূচি অগ্রসর হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এরপর সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপ উদ্বোধনে যাওয়ার পথে মমতার ওপর হামলার চেষ্টা ঘটে। ফলে তার নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কিন্তু ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, আটক নারী কীভাবে মমতার এত কাছে পৌঁছালেন এবং নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।

মমতা পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী। তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের উপস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ ও পুলিশের তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত নিগ্রহের অভিযোগের সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গাপূজায় সোমবার বন্ধ থাকবে সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ এম


শারদীয় দুর্গাপূজায় সোমবার বন্ধ থাকবে সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অষ্টমী পূজা উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংগঠনটির সভাপতি এনামুল হক খানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজার দিন দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতের বহুজাতিক বিমান মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতের বহুজাতিক বিমান মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছে

ভারতীয় বিমানবাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি-২৬’-এ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অংশগ্রহণ করেছে। এই মহড়া গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের রাজস্থানের যোধপুর বিমানঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হয়। বহুজাতিক বিমান মহড়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাইকশিনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য এই অংশগ্রহণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরের বহুজাতিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক শেখা এবং যৌথ অভিযানে সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।

মহড়ায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৯ সদস্যের একটি দল অংশগ্রহণ করে। এই দলে পাইলট ও কারিগরি সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এছাড়া, আরও দুজন সদস্য পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন। তরঙ্গ শক্তি-২৬ মহড়ায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে। মোট আটটি দেশের বিমান ও আকাশযান এই মহড়ায় যুক্ত ছিল। পাশাপাশি, ৩২টি দেশের প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

মহড়ায় প্রথমে ছোট পরিসরের বিমান অভিযান বা স্মল ফোর্স এনগেজমেন্টস (এসএফই) পরিচালনা করা হয়। পরে এটি বড় পরিসরের অভিযান বা লার্জ ফোর্স এনগেজমেন্টসে (এলএফই) রূপ নেয়। এসব অভিযানে নেটওয়ার্কভিত্তিক পরিবেশে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪০টি উড়োজাহাজ অংশগ্রহণ করে।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বিমানবাহিনীগুলোকে প্রতিকূল আকাশসীমায় জটিল অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনার অনুশীলন করতে হয়। এসব অনুশীলনে দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে আঘাত হানার সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের (বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ-বিভিআর) হুমকি এবং দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (লং-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স-এলআর-এডি) মোকাবিলার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘কোপ সাউথ’ ও ‘থান্ডার লাইটনিং’র মতো দ্বিপক্ষীয় মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে একাধিক দেশের বিমানবাহিনীর সঙ্গে বৃহৎ পরিসরে সমন্বিত অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তরঙ্গ শক্তি-২৬ বাংলাদেশের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।

মহড়ার উড্ডয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় যোগচর্চাসহ ভারতের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী অনুশীলন সম্পর্কে জানার সুযোগ পান তারা। পাশাপাশি, ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প পরিদর্শন করেন মহড়ায় অংশ নেওয়া সদস্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জরিপের তথ্য

৪ দামস্তরের আড়ালে ১২ ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেট ব্র্যান্ড বাজারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ এম


৪ দামস্তরের আড়ালে ১২ ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেট ব্র্যান্ড বাজারে

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত চারটি দামস্তরের আড়ালে কোম্পানিগুলো ১২টি ভিন্ন দামে ৫৩টি সিগারেটের ব্র্যান্ড বাজারে নিয়ে এসেছে। এর ফলে ভোক্তাদের জন্য ব্র্যান্ড পরিবর্তনের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের সামর্থ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে সহায়তা করছে। নিম্নস্তরে ৮টি ভিন্ন দামের সিগারেট পাওয়া গেছে, যেখানে সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের মূল্য ৯০ টাকা, যা মধ্যমস্তরের (৯২ টাকা) দামের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার মধ্যে পরিচালিত একটি র‌্যাপিড সার্ভের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) পরিচালিত জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা গত মাসে সম্পন্ন হয়।

তামাকবিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, সিগারেটের স্তরসংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৪টি থেকে কমিয়ে ১টিতে নিয়ে আসা উচিত। এর ফলে দাম বাড়লে ভোক্তারা কমদামি বা সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোন ব্র্যান্ড বেছে নেয়ার সুযোগ হারাবে।

বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, একক মূল্যস্তরে দাম ও করবৃদ্ধির কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যায়, বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ সিগারেট ছাড়তে উৎসাহিত হয় এবং নতুন করে সিগারেট ধরতে নিরুৎসাহিত হয়। তবে বর্তমানে ১২টি পৃথক দামে সিগারেট কেনার সুযোগ থাকায়, কর ও দাম বৃদ্ধি সিগারেটের ব্যবহার হ্রাসে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। ক্রটিপূর্ণ সিগারেট করকাঠামো এজন্য দায়ী।

জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকার প্রতিটি মূল্যস্তরের সাথে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি ব্যবহার করে কার্যত মূল্য সীমা বা প্রাইস রেঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা প্রদান করেছে সিগারেট কোম্পানিগুলোকে। যেমন- নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে এটি ৬৫ ও তদূর্ধ্ব এবং মধ্যমস্তরের ক্ষেত্রে ৯২ ও তদূর্ধ্ব। অর্থাৎ কোম্পানি শুধুমাত্র নিম্নস্তরেই ৬৫ টাকা থেকে শুরু করে ৯১ টাকা পর্যন্ত যেকোন মূল্যে (প্রাইস পয়েন্ট) সিগারেট বাজারজাত করার সুযোগ পাচ্ছে। এভাবে প্রিমিয়াম স্তর পর্যন্ত অসংখ্য প্রাইস-পয়েন্টে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড বাজারজাতকরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

জরিপের সুপারিশে বলা হয়েছে, মূল্যস্তরগুলোর সাথে ‘তদূর্ধ্ব’ লেখা বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একটি এককমূল্য নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে স্তরসংখ্যা একটিতে নামিয়ে আনা হলে, কর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সঠিকভাবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%