ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংসদের অধিবেশন শুরু


সংসদের অধিবেশন শুরু

সংসদ ভবন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩২ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পুনরায় শুরু হয়েছে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’, প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের আগে ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’, প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীদের আগে ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

রাষ্ট্রপতির পদবির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানজনক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

 

বুধবার থেকেই এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় কাজ এবং দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরকে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমবাহ ধসে ১,৩০০ প্রাণহানি: দুই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


হিমবাহ ধসে ১,৩০০ প্রাণহানি: দুই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে নেপাল

নেপাল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, প্রাণঘাতী বন্যা ও হিমবাহ ধসের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর। দেশটির দাবি, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে তাদের ভূমিকা প্রায় নেই বললেই চলে, কিন্তু সেই সংকটের ভয়াবহ মূল্য তাদের জনগণকে দিতে হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে একটি হিমবাহের অংশ ধসে পড়ার পর ভয়াবহ পানি ও কাদার ঢল নেমে আসে। এর ফলে নেপালের রাসুওয়া ও নুওয়াকোট অঞ্চল এবং চীনের তিব্বত অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ।

বিজ্ঞানীরা এই বিপর্যয়ের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন। নেপাল সরকারের ভাষ্য, এমন দুর্যোগের জন্য দায়ী নয় এমন একটি দেশ হয়েও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে তাদের।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল গত সপ্তাহে বলেন, “যে বৈশ্বিক সংকট আমরা সৃষ্টি করিনি, তার চূড়ান্ত মূল্য আমাদের দিতে হচ্ছে।”

বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, নেপালকে দেওয়া সহায়তাকে দান বা মানবিক সাহায্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটিকে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে হবে।

জাতিসংঘের কাছে দুই কোটি ডলার দাবি

সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একই ধরনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নেপালসহ বিভিন্ন দেশের কণ্ঠস্বর শুধু শোনাই যথেষ্ট নয়; তাদের জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখন পর্যন্ত নেপালের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত জাতিসংঘের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ থেকে দুই কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে কাঠমান্ডু।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কাঠামোর আলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য ২০২২ সালে এই তহবিল গঠন করা হয়।

তবে তহবিলটির নিজস্ব আর্থিক সংকটও রয়েছে। প্রথম দফার জলবায়ু পুনরুদ্ধার প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তুতির মধ্যেই জাতিসংঘের এই তহবিলে প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের অর্থঘাটতি রয়েছে।

নেপালের দাবি যে পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়, তার পক্ষে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। দেশটি বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কমের জন্য দায়ী। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যুৎও উৎপাদিত হয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে।

কিন্তু হিমালয় অঞ্চলে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। গত কয়েক দশকে হিমালয় অঞ্চলে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং হিমবাহ গলার হার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত হিন্দুকুশ-হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলো ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত হারে বরফ হারিয়েছে।

জাতিসংঘের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে প্রায় তিন দশকে নেপালের হিমবাহগুলো তাদের বরফের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। বিশ্বের দুই বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ ভারত ও চীনের মাঝখানে অবস্থিত নেপাল এ কারণে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

নেপালজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা

নেপালভিত্তিক জলবায়ু আন্দোলনকর্মী ও আইনজীবী তনুজা পান্ডে বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি ঘিরে দেশটির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্মিলিত ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। তার ভাষায়, জলবায়ু বিপর্যয় এমন পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত বিশ্ব সাধারণত নেপালের দিকে নজর দেয় না, যখন সেটি আর উপেক্ষা করার সুযোগ থাকে না।

তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক শিরোনাম হলেও শেষ পর্যন্ত সেই মানবিক দুর্ভোগ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ তৈরি করতে পারে না। এ বিষয়টি নেপালের মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

২৮ বছর বয়সী নেপালি জলবায়ু আন্দোলনকর্মী শ্রেয়া কেসির বাড়ি পূর্ব নেপালের সোলুখুম্বু এলাকায়। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টও এই অঞ্চলে অবস্থিত।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হিমবাহ ধসের পর তার এলাকার মানুষ উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে, হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা এবং হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার কারণে এমন বিপর্যয় এখন নেপালের যেকোনও অঞ্চলে ঘটতে পারে।

শ্রেয়া কেসি জানান, নেপালে জলবিদ্যুৎ, বন সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে তিনি নিজেও কাজ করেছেন। তার অভিযোগ, অন্য দেশগুলোর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে আজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নেপালের মানুষ।

তার কথায়, “যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নেপাল দায়ী নয়, তার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছি আমরা। তাই মানুষ এখন ন্যায়বিচার চায়।”

জলবায়ু ন্যায়বিচার কী?

প্রাথমিক হিসাবে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশটির সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ২৫৬ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

তবে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’-এর ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিপূরণ আদায় সহজ হবে না বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক অধ্যাপক জোইতা গুপ্তা।

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, জলবায়ু ন্যায়বিচার হলো এমন একটি নৈতিক ও নীতিগত ধারণা, যার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়া অসম ও অতিরিক্ত প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করা হয়।

অধ্যাপক গুপ্তা বলেন, নেপালের মতো স্বল্প নিঃসরণকারী দেশ যদি এমন একটি জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়, যা তারা নিজেরা সৃষ্টি করেনি, তাহলে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানানোর যথেষ্ট নৈতিক ভিত্তি তাদের রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইনের বাস্তবতায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ জটিল। ১৯৯০ সালের আগে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বড় দূষণকারী দেশগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তিগুলোতে ‘ক্ষতিপূরণ’ শব্দটি গুরুত্ব হারায়। এর পরিবর্তে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

আইসিজের মতামত নতুন আশা দেখাচ্ছে

২০২৫ সালের জুলাইয়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দেওয়া এক পরামর্শমূলক মতামতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজে বলেছে, উল্লেখযোগ্য জলবায়ু ক্ষতি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সব দেশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আদালতের ওই মতামতে আরও বলা হয়, কোনও রাষ্ট্র যদি তার আন্তর্জাতিক জলবায়ু সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণসহ পূর্ণ প্রতিকার দিতে তাদের বাধ্য করা যেতে পারে।

যদিও আইসিজের এই পরামর্শমূলক মতামত সরাসরি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবুও এটি নেপালের জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিকে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে নতুন ভিত্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতিসংঘে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি

নেপালের র‌্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি।

ধারণা করা হচ্ছে, তার ভাষণের অন্যতম প্রধান বিষয় হবে নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক দাবি।

তবে জলবায়ু আন্দোলনকর্মীদের মতে, শুধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এখন যথেষ্ট নয়। নেপালের প্রয়োজন সরাসরি অর্থায়ন।

শ্রেয়া কেসি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের একটি বড় অংশ এখন জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যয় করতে হচ্ছে।

তার মতে, বিশেষ করে উন্নত ও উচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আরও বেশি অর্থ দিতে হবে। সেই অর্থ ঋণ হিসেবে নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া উচিত।

অভ্যন্তরীণ ন্যায়বিচার ছাড়া জলবায়ু ন্যায়বিচার নয়।

তবে আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ দাবির পাশাপাশি নেপালের অভ্যন্তরীণ নীতি ও উন্নয়ন কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জলবায়ু কর্মী তনুজা পান্ডে বলেন, নেপালে এই প্রথম কোনও জলবায়ু বিপর্যয় ঘটেনি। গত মার্চে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকারও জাতীয় বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দেয়নি বলে তার অভিযোগ।

তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি জানানো ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও একই সঙ্গে নেপালকে নিজের উন্নয়ন মডেল ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় জলবায়ু সহনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, “দেশের অভ্যন্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ছাড়া প্রকৃত জলবায়ু ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।”

তার মতে, নেপালের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের জলবায়ু সহনশীলতাকে উন্নয়ন প্রকল্পের ঐচ্ছিক অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি সতর্ক করে বলেন, নেপালে টেকসই উন্নয়নে বিনিয়োগ ছাড়া অন্য কোনও বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভালো বিনিয়োগ হতে পারে না।

জাতীয় শোক, সামনে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ।

সোমবার সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে নেপাল। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলেও হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এটি বিভক্ত হওয়ার সময় নয়, একে অপরকে দোষারোপ করার সময়ও নয়। রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে এখন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রদর্শনের সময়।

তার ভাষায়, নেপালের সামনে এখন পুনর্গঠন, পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের সামনে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি নজির প্রতিষ্ঠা করা।

কারণ, হিমবাহ ধসের এই বিপর্যয় হয়তো কেবল শুরু। ভবিষ্যতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন, হিমবাহ গলন, বন্যা, ভূমিধস এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে নেপালসহ বহু উন্নয়নশীল দেশ আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোও একই ধরনের ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞ জোইতা গুপ্তার মতে, ভবিষ্যতে এমন দাবি আরও বাড়তে পারে বলেই অনেক ধনী দেশ ক্ষতিপূরণের নীতি প্রতিষ্ঠায় অনাগ্রহী। কারণ একবার ক্ষতিপূরণের নজির তৈরি হলে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বহু দেশ একই ধরনের দাবি নিয়ে সামনে আসবে।

তবে নেপালের বর্তমান বিপর্যয় বিশ্ববাসীর জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা বলেও মনে করছেন তিনি।

তার মতে, নেপালের মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে যে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন আর শুধু পরিবেশ রক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি মানবিক ন্যায়বিচার ও বেঁচে থাকার প্রশ্ন। সূত্র:

আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাইব্রেরী সহকারী থেকে যেভাবে চীনের বিপ্লবী নেতা হলেন মাও জেদং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


লাইব্রেরী সহকারী থেকে যেভাবে চীনের বিপ্লবী নেতা হলেন মাও জেদং

কম্যুনিস্ট নেতা মাও জেদংকে আধুনিক চীনের অন্যতম রূপকার বলা হয়। অথচ জীবনের শুরুর দিকেও তিনি ছিলেন পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সাধারণ লাইব্রেরিয়ান বা গ্রন্থাগার সহকারী।

১৮৯৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর মধ্য চীনের হুনান প্রদেশে যখন জেদং এর জন্ম হয়, তখন দেশটিতে চিং রাজবংশের শাসন চলছিল। কিন্তু সে সময় দেশটিতে বিরাজ করছিল অস্থিরতা ও দুরবস্থা। এই প্রদেশেরই শাওশান এলাকার এক কৃষক পরিবারে মাও জেদং জন্মগ্রহণ করেন।

অবশেষে ১৯১১ সালে চীনা রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং দেশটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। কিন্তু দুর্বল জাতীয়তাবাদী সরকার এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে দেশটিতে বিভক্তির সৃষ্টি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তরুণ লাইব্রেরিয়ান মাও জেদং।

মাও জেদং এবং এই কম্যুনিস্ট পার্টি কীভাবে চীনের ক্ষমতায় এসেছিল সেটিকে কোন কোন ক্ষেত্রে 'ইতিহাসের এক চমৎকার দুর্ঘটনা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

মাও জেদং এর রাজনৈতিক দর্শন বিশ্বজুড়ে 'মাওবাদ' নামে পরিচিত। তবে শুধু চীনেই নয়, দক্ষিণ এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা প্রান্তে মাওবাদের ছাপ এখনও স্পষ্ট।

ভারত, নেপাল, ফিলিপাইনসহ একাধিক দেশে মাওবাদী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যারা প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উৎখাত করে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

কীভাবে মাও জেদং আধুনিক চীনের নেতা হয়ে উঠেছিলেন?

একইসঙ্গে, পরবর্তীতে কীভাবে দেশটির দুইটি কমিউনিস্ট দলের একটির প্রধান বা নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছান?

কীভাবে বিপ্লবের প্রতি ঝুঁকে পড়েন মাও জেদং?

চীনের সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা মূলত মাও জেদংকে শ্রেণিহীন ও শোষণহীন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা মার্ক্সবাদের দিকে আগ্রহী করে তোলে।

চীনে তখন চলছিল কিং রাজবংশের খুবই দুর্দশাগ্রস্থ শাসন। জনগণের জীবনযাপন তখন ছিল খুব করুণ। তবে মাও পরিবার অন্যান্যদের চেয়ে স্বচ্ছল ছিল।

বিবিসির একটি আলোচনায় চীনের সেই সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন চীন বিশেষজ্ঞ ইসাবেল হিলটন ও মার্টিন পালমার।

সেই সময় বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি থাকতে হবে, এমন নিয়মের প্রতিবাদে তরুণী জাও উঝানের আত্মহত্যার ঘটনায় ১৯১৯ সালের নভেম্বরে মাও জেদং অন্তত দশটি আর্টিকেল লেখেন।

সেসময় চীনের তরুণ-তরুণীরা এমন বিয়ের প্রতিবাদ করছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বে তরুণ-তরুণীদের নিজেদের পছন্দে বিয়ের অনুমতি থাকলেও চীনে সেসময় এটি অনুমোদিত ছিল না।

কন্যা সন্তানের মতের বিরুদ্ধে চীনের বাবা-মায়েরা সেসময় যেভাবে তাকে বিয়ে দিতেন, সেটি অনেকে 'ইনডাইরেক্ট রেপ' বা পরোক্ষভাবে ধর্ষণ বলে বর্ণনা করতেন।

১৯২০ সালের শুরুতে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করার সময়েই মূলত মাও জেদং মার্ক্সবাদী সাহিত্যের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।

কারণ চাইনীজ কম্যুনিস্ট পার্টির দুইজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, একজন পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগারিক লি দাজাও এবং ডিন চান্দু শীলের সাথে সেখানেই তার পরিচয় হয়।

তাদের কাছ থেকে মাও মার্ক্সবাদের প্রতি প্রভাবিত হন। মার্ক্সবাদ এবং লেনিনবাদই তার পুরো জীবনকে প্রভাবিত করে।

ওই বছরের শেষের দিকে দেশটি বন্যা, দুর্ভিক্ষ এবং সংঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুর্ভিক্ষের মুখে দেশটির অনেক নাগরিক চীনের মূল ভূ-খণ্ড ছেড়ে চলে যান।

আর ওইসময় হাজার হাজার মানুষ রোগে ভুগে এবং অনাহারে মারা যায়।

এর ফলে চীনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যাতে, কৃষকরা নিজের সন্তানও বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

হুনানের সচ্ছল কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মাও জেদং, ২৫ বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার পাঠ চুকান।

কিন্তু নিজের শহরে দুর্ভিক্ষের শিকার বিক্ষোভকারীদের হত্যার শৈশবের সেই স্মৃতি তাকে প্রবলভাবে নাড়া দিত।

নিজ দেশের এই কঠিন সময়গুলোই মাও জেদংকে তার জীবন এবং বিপ্লবী ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব তাকে খুব আকর্ষণ করে।

সেসময়ই কম্যুনিজম বা সাম্যবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। এরপরই মাও জেদং প্রাথমিক লড়াই শুরুর ধাপ হিসেবে কৃষকদের সংগঠিত করার কার্যক্রম শুরু করেন।

গ্রন্থাগারিক হিসেবে প্রচুর পড়ার অভ্যাস মাও জেদংকে প্রথমে ইউরোপীয় সমাজতন্ত্র এবং পরবর্তীতে সহিংস বিপ্লবের দিকে ধাবিত করে।

মাও এমন এক সময়ে চাইনিজ কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন যখন চীনে এই দলের গুরুত্ব তেমন একটা ছিল না।

হুনানে এই দলটির শাখার গেরিলা নেতা হিসেবে সেখানে একটি ব্যর্থ কম্যুনিস্ট অভ্যুত্থানে নেতৃত্বও দেন তিনি।

পরবর্তীতে নিজ দেশের দুর্গম গ্রামে স্বাধীন কম্যুনিস্ট ছিটমহল গড়ে তোলেন।

১৯২৩ সালে, কুওমিনতাং (কেএমটি) জাতীয়তাবাদী দল উত্তর চীনের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারীদের পরাজিত করার জন্য মাও জেদং এর দল সিসিপির সাথে জোট বাঁধে।

কিন্তু রুশ বিপ্লবের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় ১৯২৭ সালে কেএমটি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী চিয়াং কাই-শেকের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী সরকার কম্যুনিস্টদের চিরতরে নির্মূল করতে এক শুদ্ধি অভিযান চালায়।

এই অভিযানে মাও জেদং এর স্ত্রী এবং বোনসহ হাজার হাজার মানুষ নিহত হন।

মাও এবং অন্যান্য কম্যুনিস্ট নেতা-কর্মীরা এই দমন-পীড়নের সময় দক্ষিণ-পূর্ব চীনের দিকে পিছু হটেন।

কেএমটির সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মাও জেদং এবং আরেক শীর্ষস্থানীয় কম্যুনিস্ট নেতা বিদ্রোহের ডাক দেন। যেটি নানচাং বিদ্রোহ নামে পরিচিত। তাদের নেতৃত্বে ১৯২৭ সালের অগাস্টে গড়ে ওঠে রেড আর্মি।

পরবর্তীতে ১৯৩৪ সালে তৎকালীন সরকার বা কুওমিনতাং (কেএমটি) জাতীয়তাবাদী দল তাদের ওপর আবার দমন-পীড়ন শুরু করলে মাও জেদং "লংমার্চ" শুরু করেন। এতে রেড আর্মির সদস্যরা অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছিল।

আগের অভিযানের পরে যেসব কম্যুনিস্ট সদস্যরা জীবিত ছিলেন তাদের নিয়ে নিজেদের নতুন আস্তানা বা ঘাঁটি তৈরির উদ্দেশ্যে দীর্ঘ ছয় হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে মাও জেদং উত্তর-পশ্চিম চীনের উদ্দেশ্যে এই "লংমার্চ" পরিচালনা করেন।

আর তুষার ঢাকা বিশাল সব পর্বতমালা, বিস্তৃত জলাভূমি, ধূ ধূ মরুভূমির প্রান্তরের বিপদসংকুল যাত্রাপথে লংমার্চ শেষে, উত্তর-পশ্চিম চীনের এক নির্জন এলাকা ইয়ানআনে পৌঁছে কম্যুনিস্টদের মাত্র ১০ শতাংশ বা আট হাজার জন জীবিত থাকেন।

পরবর্তীতে এই এলাকাতেই মাও জেদং কম্যুনিস্টদের নতুন ঘাঁটি গড়ে তোলেন। সেসময় এমন পরিস্থিতিতে মনে হয়েছিল চীনের কম্যুনিস্ট আন্দোলন বুঝি শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে।

কিন্তু ঠিক সেসময়ই ১৯৩৭ সালে জাপান চীনে পূর্ণাঙ্গভাবে আগ্রাসন চালায়। শুধুমাত্র একটি এলাকা নয় বরং পুরো চীন দখল করতে চেয়েছিল জাপান।

১৯৩৭ সালের ডিসেম্বরে জাপানি আগ্রাসনের সময় নানজিংয়ে তিন লাখ মানুষকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। তার কিছুদিন পরেই শুরু হয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

এ সময় জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাইনীজ কম্যুনিস্ট পার্টি (সিসিপি) এবং কুওমিনতাং (কেএমটি) সাময়িকভাবে আবারো জোটবদ্ধ হয়েছিল।

সেই সময় মাও জেদং তাদের নতুন ঘাঁটি ইয়ানআনের বাইরের গুহাগুলোতে বসবাস করতেন এবং পশ্চিমা সাংবাদিকরা সেখানেই তার সাথে দেখা করতে আসতেন।

যারা তার সাথে দেখা করেছিলেন, তাদের মধ্যে দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক লিয়াং শুমিন ছিলেন।

মি. শুমিন মাও জেদংকে বেশ আকর্ষণীয় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছেন, মাও ছিলেন স্বচ্ছন্দ, উষ্ণ হৃদয়ের এবং স্বাভাবিক।

"অত্যন্ত অভদ্র তবে সম্পূর্ণ কৃত্রিমতাহীন", একইসঙ্গে, অত্যন্ত তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।

দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক মি. শুমিনের নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তারা চীনের তখনকার দুইটি মূল সমস্যার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।

প্রথমত, গ্রামীণ সমস্যা, দেশের অধিকাংশ মানুষের চরম দারিদ্র্য অবস্থা। দ্বিতীয়ত, জাপানি আগ্রাসন থেকে জাতীয় মুক্তি।

মি. শুমিনকে মাও জেদং বলেছিলেন, "যুদ্ধ সবকিছু বদলে দিয়েছে।"

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ও রাজনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রানা মিত্তার বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "এটি এমন একটি সংঘাত যার কারণে যুদ্ধের সময়েই চীনে ১৪ মিলিয়ন বা তারও বেশি বেসামরিক ও সামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল।"

"আট থেকে ১০ কোটি চীনা মানুষ নিজ দেশেই শরণার্থী হয়ে পড়েছিল। তাই চীনের রাজনীতি ও সমাজের দিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুদ্ধকালীন সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ," বলেন অধ্যাপক মিত্তার।

কিন্তু ১৯৪৫ সালে এই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে আবার সিসিপি ও কেএমটির মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যায় এবং গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে আমেরিকার সমর্থনে জাতীয়তাবাদীদের জনবল ও অস্ত্রশস্ত্র ছিল। অন্যদিকে কমিউনিস্টরা সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছিল।

তবে কমিউনিস্টরা অস্ত্রের দিক থেকে পিছিয়ে থাকলেও ইয়ানআনে ১২ বছর থাকার পর তাদের ভূমি সংস্কার কার্যক্রম গ্রামের সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছিল। যা কিনা সামাজিক ন্যায়বিচারের সোনালী যুগের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত প্রচারণার মাধ্যমে আরও জোরালো হয়েছিল।

এই গৃহযুদ্ধে মাও জেদংসহ কমিউনিস্টরা জয়ী হয় এবং ১৯৪৯ সালের পহেলা অক্টোবর মাও গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। যেখানে মাও সেতুং সেই বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই তিয়ানানমেন গেটটি এখনো রয়েছে।

অন্যদিকে কেএমটির নেতা চিয়াং কাই-শেক তাইওয়ানে পালিয়ে যান।

চীনা সাম্রাজ্যের পতনের মাত্র ৩৮ বছর পর এবং জাপানি যুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও গৃহযুদ্ধে চীনা জনগণের সমস্ত দুর্ভোগের পর, ওইসময় একটি সম্পূর্ণ নতুন সূচনার সম্ভাবনায় ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

সাম্যবাদের প্রবর্তন, দুর্ভিক্ষ ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব

তবে কমিউনিস্টরা শেষ পর্যন্ত যত দ্রুত ক্ষমতা দখল করেছিল, তা তাদের কাঁধে অর্পিত বিশাল দায়িত্বকে কেবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। মাও জেদং এর রাজনৈতিক দর্শন 'মাওবাদ' নামে পরিচিত। মূলত এটি মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদেরই এক নতুন রূপ যা তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও কৃষিভিত্তিক চীনা সমাজের বাস্তবতার ভিত গড়ে তোলে।

চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিশেষজ্ঞ আরনি রেয়া মনে করেন, এ কারণেই মাও এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট নেতারা চীনা সমাজ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন।

এর অংশ হিসেবে শিল্প কারখানা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং কৃষকদের সমবায় ভিত্তিক কৃষিকাজে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সব ধরনের বিরোধিতাকে কঠোর হাতে দমন করা হয়।

এক পর্যায়ে সাম্যবাদের প্রবর্তন বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে।

শুরুতে চীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা পেলেও পরবর্তীতে দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে।

১৯৫৮ সালে সমাজতন্ত্রের আরও নিজস্ব বা 'চীনা' রূপ চালুর উদ্দেশ্যে মাও 'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' নীতি গ্রহণ করেন।

এর লক্ষ্য ছিল কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বাড়াতে ব্যাপক মানুষকে শ্রমে নিয়োজিত করা। কিন্তু এর উল্টো ফল হিসেবে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং এর সাথে খারাপ ফলন যুক্ত হয়ে তীব্র দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যাতে তিন কোটিরও বেশি মানুষ মারা যায়।

পরবর্তীতে এই নীতি বাতিল করা হলে মাওয়ের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।

ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় ১৯৬৬ সালের ১৬ই মে মাও 'সাংস্কৃতিক বিপ্লব' শুরুর আদেশ জারি করেন। যার উদ্দেশ্য ছিল দেশকে 'অশুদ্ধ' উপাদানমুক্ত করা এবং বিপ্লবী চেতনা ফিরিয়ে আনা।

মাও জেদং মনে করেন, "এটা হবে এক নতুন বিপ্লব - এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। যে বিপ্লব ঘটবে মানুষের চিন্তায়। এর লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের মনে যে সব পুরোনো ধ্যানধারণা আর অভ্যাস ছিল - সেগুলো সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা। মাও বিশ্বাস করতেন, এগুলো কমিউনিজমের পথে অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে।"

এতে তার সহযোগী ছিলেন লক্ষ লক্ষ তরুণ - যাদের নিয়ে গড়ে উঠেছিল রেড গার্ড নামের এক বাহিনী। এই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় মাও জেদংয়ের রেড গার্ডরা চীনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

সেসময় সাংস্কৃতিক বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন রেড গার্ডের সদস্য সো ইয়ং। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এই বিপ্লবের স্মৃতি বিবিসিকে বলেছিলেন তিনি।

পুরোনো যে কোন কিছুই তাদের দ্বারা আক্রান্ত হলো। এর ফলে চীনের সামাজিক কাঠামোর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় লক্ষ্য বস্তু ছিলেন ভূস্বামীরা। এরা ছিলেন এক সময়কার ধনী এলিট। যারা তাদের কথা শুনছিল না। তাদের জন্য প্রকাশ্যে অপমান করা হতে লাগলো।

পুরো চীন জুড়ে রেডগার্ডরা এই কর্মসূচি চালু করলো - এর শিকার হলেন স্থানীয় কর্মকর্তারা এমনকি ছাত্ররাও। তাদের প্রকাশ্যে তিরস্কার করা হতো, কখনো কখনো শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হতো।

এই রকম গণ অপমান কর্মসূচির একটা বড় লক্ষ্য ছিল শিক্ষকরা।

সারা চীন জুড়ে ক্লাসরুম আর লেকচার হলে শিক্ষকদের গালাগালি এবং অপমান করতো ছাত্ররা। তাদের পরিয়ে দেয়া হতো গাধার টুপি, বা তাদের ভুল স্বীকারের চিহ্ন।

কাউকে কাউকে কলমের কালি খাইয়ে দেয়া হতো, বা মাথার চুল কামিয়ে দেয়া হতো। কারো কারো গায়ে থুথু ছিটানো হতো। অনেককে আবার মারধরও করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।

তাদের ভাষায়, শিক্ষকরা ছিল বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী তাই তাদের বিশ্বাস করা যাবে না।

রেড গার্ড এর সদস্য সো বলছিলেন, তার একজন শিক্ষককে যেভাবে অপমান করা হলো, সেখানে তিনি কিছুই করতে পারেননি।

"১৯৬৭ সালের শেষের দিকে আমি ভাবতে শুরু করলাম যে এটা আমরা কি করছি। আমি উপলব্ধি করলাম যে পরিস্থিতি মাও এর নিয়ন্ত্রণে নেই। সাংস্কৃতিক বিপ্লব নিয়ন্ত্রণ করার কোন উপায়ও তার হাতে নেই" বলেন তিনি।

১৯৬৪ সালে প্রকাশিত মাও সে–তুংয়ের বিখ্যাত উদ্ধৃতিসংকলন 'লিটল রেড বুক' বইটি চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় হয়ে ওঠে একধরনের 'অবশ্যপাঠ্য'।

মাও সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু করেছিলেন পার্টির শোধনের জন্য। কিন্তু একটা সময় রেড গার্ডকে নিয়ন্ত্রণ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়লো। যে কেউ তাদের শিকার হতে পারতো।

ওই সময় চীনে ১৫ লাখ মানুষ মারা যায় এবং দেশের বড় অংশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে যায়।

এই বিপ্লবের সময় দলটির প্রেসিডেন্ট শিয়াও বহিষ্কৃত হন এবং অনেকটা একাকী অবস্থায় মারা যান। মাও জেদং এর উত্তরাধিকারী মার্শাল লিম্বাও দেশ থেকে পালিয়ে যান, পরে মঙ্গলিয়াতে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন।

মাও জেদং এর স্ত্রী জ্যানজিং এবং তার সহযোগীরা মিলে গড়েন গ্যাং অব ফোর। যারা সেসময় খানিকটা উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে দলের ভেতরে বামপন্থী এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করেন।

অবশেষে ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বরে বহু শহর প্রায় নৈরাজ্যের মুখে পড়লে মাও জেদং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী নামান।

আপাতত এই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিজয় হয়েছে মনে হলেও মাও জেদংয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তবে জীবনের শেষ বছরগুলোতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালান।

১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চীন সফর করে মাওয়ের সাথে দেখা করেন।

১৯৭৬ সালের নয়ই সেপ্টেম্বর মাও জেদং মারা যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় হলেন কৃষিমন্ত্রীর মা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


স্বামীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় হলেন কৃষিমন্ত্রীর মা

কৃষিমন্ত্রীর মা আমেনা বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

 কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের মা আমেনা বেগমের জানাজা বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুমিল্লার বিজয়পুর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

 জানাজা শেষে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের পরানপুরে পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

জানাজার পূর্বে, মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে বক্তব্য দেন এবং যারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি সকলের কাছে মায়ের মাগফিরাত কামনায় দোয়া চান।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কুমিল্লার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ নানা শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা।

 উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের মা আমেনা বেগম ঢাকার বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার বয়স ছিল ১০৩ বছর। ৯ সন্তানের জননী আমেনা বেগমের পঞ্চম সন্তান কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

এদিকে, আমেনা বেগমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%