ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোদির উদ্যোগে ভারতের জিডিপি ২০৩৫ সালে বাড়তে পারে ১৪০ বিলিয়ন ডলার


মোদির উদ্যোগে ভারতের জিডিপি ২০৩৫ সালে বাড়তে পারে ১৪০ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি বিশ্ববাণিজ্যে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ করছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত ১৪০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্কহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এই হার ১০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ নতুন বাণিজ্য চুক্তি করছে বা পুরোনো চুক্তি সম্প্রসারণ করছে। ভারতও এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করছে।

আরও পড়ুন: হুথিদের বিরুদ্ধে ৭৩৬ সামরিক অভিযান, হতাহত ৩০৭

বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন খাতে সংস্কার এবং কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদন ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করলেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ভারতের।

একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মডেলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ভারতীয় পণ্যের ওপর গড় শুল্কহার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। এর ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে।

তবে ভারতের মোট উৎপাদনের ২ শতাংশেরও কম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্য দেশে রপ্তানি বাড়িয়ে এই ক্ষতি সামাল দেওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।

আরও পড়ুন: হঠাৎ আমিরাতের রাস আল খাইমাহ, উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর সৈকত বন্ধ ঘোষণা

ভারতের মুক্তবাণিজ্য চুক্তিগুলো কীভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো, শুল্ক কমানো, বাণিজ্য বাধা হ্রাস এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো।

প্রথমত, প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বাণিজ্যিক অংশীদাররা প্রথম বছরেই ভারতীয় পণ্যের ওপর সব শুল্ক তুলে নেবে। ভারতও শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক বাতিল করবে। কৃষিপণ্যের শুল্ক অর্ধেক কমানো হবে, এর অর্ধেক প্রথম বছরে এবং বাকি অংশ পরবর্তী ১০ বছরে কার্যকর হবে।

দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য বাধা কমানো। আগামী ১৫ বছরে পণ্য ও পরিষেবা খাতের অশুল্ক বাধাজনিত ব্যয় ধাপে ধাপে ২৫ শতাংশ কমবে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। চুক্তির ফলে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা কমলে পরিষেবা খাতেও অতিরিক্ত সুবিধা মিলতে পারে।

তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি। মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় গ্রামে বন্দুকধারীদের হামলায় ১০ জন নিহত

ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার (ইএফটিএ) সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১৫ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগ হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই অতিরিক্ত বিনিয়োগ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত।

চলমান ও পরিকল্পিত সব চুক্তি কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বর্তমান পূর্বাভাসের তুলনায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মোট শুল্কহার ১৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে বেশিরভাগ আওতাভুক্ত পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ধাতব শুল্ক এবং ১০ শতাংশ ধারা ৩০১-এর শুল্ক বহাল থাকবে। এই চুক্তির লক্ষ্য দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা কমানো।

আরও পড়ুন: চীনা গুপ্তচর সন্দেহভাজন ঝাংয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস আদালতে অভিযোগ অস্বীকার

ইতোমধ্যে কার্যকর মুক্তবাণিজ্য চুক্তিগুলোর ফলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে এই হার বেড়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। এতে অর্থনীতিতে প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কার্যকর হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে। পাশাপাশি ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়ন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ ও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সফল হলে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়তে পারে।

সব চুক্তি কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি বর্তমান পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আমদানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি পণ্য ও পরিষেবা পাবে এবং ভারতের উৎপাদকদের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়বে।

তবে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলেই এর পূর্ণ সুফল পাওয়া যাবে না। এসব চুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভারতকে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গতি ধরে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভে কেন ক্ষুব্ধ তরুণেরা নেতৃত্ব দিচ্ছে জেন-জি

চুক্তিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং উন্নত প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, ভারতের বিশাল শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে অর্থনীতির অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে।

এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারলে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সুফল আরও বাড়বে এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হবে। উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদন ও সেবা খাতে যুক্ত করতে পারলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে। মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি এসব সংস্কার কার্যকর হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি ও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ

ভারত করপোরেট কর কমানো, ভর্তুকি দেওয়া, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে উৎপাদন খরচ কমতে পারে। মডেল অনুযায়ী, উৎপাদন খরচ প্রায় ২ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইরানের কাছে আসতে পারবে না: সশস্ত্র বাহিনী

কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত করা

ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি কর্মী কৃষিতে নিয়োজিত। গত এক দশকে এই হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, দ্রুত শিল্পায়নের মধ্য দিয়ে ভিয়েতনামে কৃষিশ্রমিকের হার ৪০ শতাংশের বেশি থেকে কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে দেশটিতে মাথাপিছু কৃষি উৎপাদন বেড়ে ভারতের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি হয়েছে। ভারতেও ধাপে ধাপে কৃষিশ্রমিকদের উৎপাদন ও সেবা খাতে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ১ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে শিল্পোন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের সমন্বয় করতে পারলে ভারত দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন গতি পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি বাধা তৈরি করলেও সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এই পরিস্থিতিকে উন্নয়নের সুযোগে পরিণত করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

দেশের ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি মানসম্মত ডিম উৎপাদন, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং পোলট্রি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘প্রোটিন, যা শক্তি দেয় ও সুরক্ষা করে’।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ বছর আমরা প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করেছি, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, যদি আমরা ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হই, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ডিম রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

পোলট্রি খাতের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য ফিডের (পশুখাদ্য) দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ফিডে কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে ডিম রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি কম খরচে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের কথা তুলে ধরেন।

পোলট্রি খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০০১ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁস-মুরগি বিতরণ করেছিলেন। একই ধারায় নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত করলে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। এছাড়া খামারে বিদ্যুতের ব্যয় কমাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহ্বায়ক মসিউর রহমান, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সাইন্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন মঞ্জুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন মঞ্জুর

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন পুনরায় মঞ্জুর করেছে আদালত।

মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইভী তার আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতির কারণে আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ সময় সাবেক মেয়র ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না’ স্লোগান দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় ৯৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে প্রথম আসামি এবং সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ১১ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, তুহিন হত্যা মামলায় পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং আইভীর জামিনের বিষয়ে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছিল। উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য উপস্থাপনের পর আদালত আইভীর জামিন পুনরায় মঞ্জুর করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১২টি মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এক বছর কারাভোগের পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিন লাভ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা: আসিফ নজরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা: আসিফ নজরুল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি হেনস্তার ঘটনা নিয়ে সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল তীব্র ক্ষোভ এবং নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে তার ক্ষোভের কথা জানান। পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘একজন মানুষ হুইলচেয়ারে একা বসে আছেন। হঠাৎ করে সামনে এসে চিৎকার করে বলা হলো ‘টেররিস্ট’, ‘ট্রেইটর’, আর তার মান-সম্মান মুহূর্তেই চলে গেল! কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা! ফ্যাসিস্ট খুনি শাসকের দোসর ও অনুসারী এবং হৃদয়ে বাকশালধারী সুশীল বাবুরা, ভালো করে শোনেন। আপনারা সুদূরতম কল্পনাতেও বুঝতে পারবেন না, ড. ইউনূস কতটা শ্রদ্ধেয় মানুষ সারা পৃথিবীতে। তার কাজ কতটা অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে সারা বিশ্বে। এমনকি আপনাদের প্রিয় ভারতেও! ভারতের দুই আইনসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে কাকে সম্মানিত করা হয়েছিল, মনে আছে?

আপনাদের মালকিন বা প্রভুদের দৌড় রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত। কিন্তু ড. ইউনূসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে বিল গেটসের! আমি নিজে শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি, রাজা-রানি এবং করপোরেট দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের তার সান্নিধ্যে আপ্লুত হতে দেখেছি। তাকে তন্ময় হয়ে শুনতে।

আর আপনি, তুচ্ছ এক জীবন যাপন করা মানুষ, ড. ইউনূসকে সন্ত্রাসী বলে একটি হাঁক দিলেন, মিথ্যে গালাগালি করলেন—এতে তার কী ক্ষতি হবে? সূর্যের দিকে ইট ছুড়ে মারলে কী হয়? কতটা আলো আড়াল হয় তাতে? গাধার দল!’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অটোরিকশার গ্যারেজে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


অটোরিকশার গ্যারেজে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অটোরিকশার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ৪৪ পিস ইয়াবা, একটি দেশীয় ওয়ান শ্যুটার পাইপগান ও একটি কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), এসআরবি-১১ ও পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মামুন উর রশিদের গ্যারেজে এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ মিয়ার ছেলে মামুন উর রশিদ (৩৭), করমুল্যা বাজার এলাকার আব্দুল হানিফের ছেলে আব্দুল মন্নান (২৭) ও দাদপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বারাইপুর গ্রামের খলিফা বাড়ির মফিজুর রহমানের ছেলে মানজুর রহমান সাকিল (৩৮)।

ডিএনসির জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান, র‍্যাব-১১-এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ডিএডি অমলেশ বাইন এবং সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক সুমন বণিকের নেতৃত্বে তিন বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। এ সময় গ্যারেজের ভেতরে হার্ডবোর্ডের পার্টিশন দিয়ে তৈরি বিশ্রামকক্ষের খাটের ওপর থেকে ইয়াবা, পাইপগান, একটি সীসার কার্তুজ, তিনটি মুঠোফোন ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া কক্ষটিতে স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরাও পাওয়া যায়।

ডিএনসির আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্যারেজের বিশ্রামকক্ষটি ইয়াবা সেবনের জন্য ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সেখানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। এ ছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে পাইপগান ও কার্তুজ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


ডিএনসির নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%