০৪:৫৫ এম
নিজেকে যেন চলচ্চিত্রের চরিত্র ইন্ডিয়ানা জোনসের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচকদের জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, তিনি এখনো লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং ‘বিজেপির শাসনের অবসান’ না দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চান।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসির ভরাডুবির পর অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক যখন মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন তিনি পালটা দাবি করেছেন—দলত্যাগে দুর্বল হয়ে পড়া দলকে তিনি আবারও নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।
৭১ বছর বয়সি মমতা ফেসবুক বার্তায় বলেন, আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। মানুষের বয়স নির্ধারণ করে তার মন, শরীর ও মানসিক শক্তি। আমি কি কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যত দিন না তোমাদের পতন দেখি।
আরও পড়ুন: টাকার লোভ সামলাতে পারিনি, স্বীকারোক্তি দিলেন রিয়া
বয়সকে প্রত্যাবর্তনের পথে বাধা মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও তিনি দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন।
মমতা বলেন, যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। যা থাকবে, সেটাই আমার সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালে যেমন একা নতুন করে শুরু করেছিলাম, ২০২৬ সালেও তেমনই পারব। আমার সেই সাহস এখনো আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব।
এরপরই তিনি ঘোষণা দেন, করব, লড়ব, বাঁচব। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসিতে নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভা ও জাতীয় সংসদে নির্বাচিত তার দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহ করেছেন। বিধায়কদের বড় অংশ বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং লোকসভার ২০ জন সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসচাপায় স্ত্রী নিহত, স্বামী ও সন্তান আহত
২১ জুলাই টিএমসির শহীদ দিবসের সমাবেশের কয়েক দিন আগে মমতার এই আবেগঘন বার্তা এসেছে। দলটির রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার একই দিনে দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করবে।
এদিকে বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন টিএমসি গোষ্ঠীকে কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই পরবর্তীতে টিএমসি প্রতি বছর ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালন করে আসছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: চীনে প্রতিষ্ঠানের ঋণচাপে সংকট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন