বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৭ এম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও কালিগঞ্জ থানার আশপাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অগ্নিসন্ত্রাসের’ প্রতিবাদে বিকাল ৩টায় কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ হাসানুর রহমান এবং শেখ নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
একই দিনে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে বিকাল ৫টায় পৃথক কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা আগে থেকেই বিরাজ করছিল।
বিকালে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে কালিগঞ্জ থানার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
মিছিলটি এগিয়ে গেলে অপর পক্ষের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে রোকনুজ্জামান রোকন সমর্থিত সবুজ ও ছোটন আহত হন। তাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রথমে নেওয়া হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অপর পক্ষের আল ইমরান হোসেনও আহত হয়ে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এছাড়া বিপুল হোসেন, আজমির হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে আহতদের সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শেখ হাসানুর রহমান বলেন, "জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। এ সময় রোকনুজ্জামান রোকন সমর্থিত লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।"
অপরদিকে, রোকনুজ্জামান রোকন অভিযোগ করেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলাম। একপর্যায়ে শেখ হাসানুর রহমান সমর্থিত লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।"
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, "দলের মূল সংগঠনের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। পাশাপাশি উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে আরেকটি কর্মসূচি চলছিল। একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।"
কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ জানান, "উভয় পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ এড়াতে দুই পক্ষকেই ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ কিশোরী মোছা. নিঝুম খাতুনের গলিত লাশের সন্ধান মিলেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমের (২৩) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি শনাক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন জিম।
একইদিন রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এখলাচ হোসেন।
পুলিশ জানায়, ১৩ মার্চ ২০২৫ মোছা. নিঝুম খাতুন (১৭) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে তিনি একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ ১৮ মাস পর নিঝুমের প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমকে আটক করা হয়। জিম উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে। আটকের পর ২০ সেপ্টেম্বর তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিম নিঝুমের লাশের সন্ধান দেন। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের কাছে নিঝুমকে হত্যা করেছে।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা।
জিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করে। একপর্যায়ে টিমের সদস্যরা জানতে পারেন, নিঝুমের অর্ধগলিত লাশ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
তখন পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় লাশটি কবরস্থ করা হয়। পরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম সিআইডির ক্রাইম সিন এক্সপার্টদের আর্কাইভে সংরক্ষিত অর্ধগলিত কিশোরীর ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম নিঝুমের লাশ শনাক্ত করে।
পুলিশ আরও জানায়, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৩ মার্চ ২০২৫ বেড়ানোর কথা বলে নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশনে নিয়ে যান জিম। সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তারা জনশূন্য পাকশী রেললাইনের ওপর প্ল্যাটফর্মে বসে সময় কাটান।
এ সময় নিঝুম জিমকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম রাগান্বিত হয়ে নিঝুমকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এতে নিঝুম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে রেললাইনের নিচে নির্জন জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যান জিম। সেখানে নিঝুমের পরিহিত ওড়না দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন জিম।
মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ গুম করার উদ্দেশে জঙ্গলের পাশে নির্জন স্থানে রেখে ট্রেনে করে গ্রামে ফিরে যান জিম।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জিমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে কিশোরী নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করছেন মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিমানিষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উপসাগরীয় অঞ্চলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিটের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিলেও তিনি জানান যে, তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য অনেক গতি তৈরি হয়েছে।’
সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা তেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলস্বরূপ মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে দিনের লেনদেন শেষ করে। ৮ সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামল।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন যে, কয়েক সপ্তাহ আগে যেভাবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি ছিল, বর্তমানে বাজার তার চেয়ে কিছুটা বেশি আশাবাদী।
তিনি বলেন, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা ও সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি করেছে। যদিও ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিসহ কঠোর বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে, বাজার এখন আলোচনা এবং সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
মঙ্গলবার সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিকে পরিচালিত তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ড্রোন হামলার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হামলার জন্য ইরাকের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল দেশটি। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পাঠানোও বন্ধ হয়ে যায়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার পর বিকল্প পথ হিসেবে সৌদি আরব পাইপলাইনটি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল বা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠানো সম্ভব।
এদিকে ইরাকও তেল রপ্তানি বাড়াচ্ছে। দেশটির তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরাক প্রতিদিন ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করছে। তুরস্কের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইরাকের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ছিল যথাক্রমে দৈনিক ২৩ লাখ ও ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। জুলাইয়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে, তবে যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে। শিল্প খাতের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৮ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় দেশটির সাপ্তাহিক তেল মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার পরিকল্পনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চার থানা ও ডিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মোটরসাইকেল উদ্ধার; পরোয়ানাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বিশেষ অভিযানে ৩৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি TVS Metro Plus মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে বিভিন্ন মামলায় ও আইনি ব্যবস্থায় মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে।
মাদকবিরোধী অভিযানে:
৩৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি TVS Metro Plus মোটরসাইকেলসহ *৩ জনকে গ্রেপ্তার* করা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানায়:
বিভিন্ন মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ৩ জনকে আটক** করা হয়েছে।
নিয়মিত মামলায়:
নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে *১৬ জনকে গ্রেপ্তার* করা হয়েছে।
অন্যান্য আইনে:
অন্যান্য আইনে *৩ জনকে গ্রেপ্তার* করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে:
বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে ২ জনকে গ্রেপ্তার** করা হয়েছে।
বিএমপি জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর পরিচালিত পৃথক এসব অভিযানে উদ্ধার করা মাদক ও মোটরসাইকেলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ২১ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার** করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ এবং অপরাধ দমনে বিএমপির বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘আগে এক ট্রিপ সাগরে গেলে যে মাছ পাইতাম, তা দিয়ে তেলের খরচ উইঠাও সাত দিন ভালোভাবে সংসার চলত। কিন্তু এখন হাজার হাজার টাকা দাদন (ঋণ) নিয়ে সাগরে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়। চাল-ডাল কেনার টাকা তো দূরের কথা, মহাজনের ঋণের সুদ দেওয়াও দায় হয়ে পড়ছে। সাগরে মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না বাজান।’
চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ এবং বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন চরফ্যাশনের সামরাজ মাছঘাটের প্রবীণ জেলে নুর হোসেন মাঝি। এই হাহাকার কেবল তার একার নয়, ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় চরফ্যাশন-মনপুরার মৎস্যজীবীদের জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভর করে যাদের সংসার চলত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আজ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
এখানকার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েক হাজার জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এ পেশায় দিন দিন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ায় অনেকে এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক জেলে এখন বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন।
বিভিন্ন এনজিওর ঋণ ও মহাজনদের দাদন পরিশোধের চাপ, কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া, একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন, এমনটাই জানিয়েছেন জেলেরা।
সরেজমিনে জেলেদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অতীতে জেলে পেশা দিয়ে খুব ভালোভাবেই সংসার চলত। এখন এ পেশার পাশাপাশি অন্য কাজ না করলে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা হয় না। সাগরে মাছ না থাকায় অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়। তাই তারা বিকল্প পেশা খুঁজছেন।
উপজেলার চরকুকরি এলাকার জেলে বাবুল মাঝি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। আগে যেমন তেলের দাম ছিল, তখন ভালোই লাভ হতো। কিন্তু এখন তেলের দাম চড়া। এতে আমাদের ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে হিমশিম খেতে হয়। সাগরে মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়েই অন্য কাজ করতে হয়।’
জেলে ফোরকান মিয়া বলেন, ‘সব মালামালের দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল, বরফ সবকিছুই কিনতে হয় অধিক দামে। এভাবে জীবন চালানো কষ্টকর। মাছ ধরার সিজন থাকে ৫ মাস। এর মধ্যে আড়াই মাসই থাকে নিষেধাজ্ঞা। বাকি আড়াই মাসে ঝড়ঝাপটা-বৈরি আবহাওয়া থাকে। এখন শুধু জেলে পেশা দিয়ে সংসার চালানোর মতো কোনো উপায় নাই। তাই অন্য পেশা খুঁজছি।’
উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের জেলে আনোয়ার এবং বেতুয়ার মেঘনা নদীর পাড়ের সামরাজ এলাকার জেলে নরুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘সাগরে ইলিশ তেমন পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে অনেক ইলিশ ওঠে। কিন্তু আগে সাগরের কিছু পয়েন্টে মাছ পাওয়া যেতই। এখন আর সেসব পয়েন্টেও মাছ নেই। তার মধ্যে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রতিকূলতা তো আছেই। এই পেশায় এখন লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। সাগর থেকে এসেও আমাদের অন্য কাজ খুঁজতে হয়। তার চেয়ে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়াই ভালো। অন্য পেশায় নিশ্চিত থাকা যায় যে দিন শেষে কিছু হলেও মজুরি পাব।’
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, দুর্যোগসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে মাছের উৎপাদন কমেছে। এসব কারণে বিচরণ ও প্রজননের জায়গায় পরিবর্তন করছে নদী-সাগরের মাছ। গত কয়েক দশকে জেলেদের তুলনায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় সাগর ও নদ-নদীতে চাপ বেড়েছে। জেলেদের এ পেশার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতার লক্ষে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চরফ্যাশন উপজেলায় ৪টি থানায় মোট ৪৩ হাজার ৩শ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলে কার্ড পেয়েছেন ২৫ হাজার জেলে। ইলিশের প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞার সময়ে দরিদ্র ৩৫ হাজার ৩শ ৮৬ জেলেকে চাল সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়াও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার জন জেলেকে বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টির লক্ষে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ