বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৫ এম
‘আগে এক ট্রিপ সাগরে গেলে যে মাছ পাইতাম, তা দিয়ে তেলের খরচ উইঠাও সাত দিন ভালোভাবে সংসার চলত। কিন্তু এখন হাজার হাজার টাকা দাদন (ঋণ) নিয়ে সাগরে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়। চাল-ডাল কেনার টাকা তো দূরের কথা, মহাজনের ঋণের সুদ দেওয়াও দায় হয়ে পড়ছে। সাগরে মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না বাজান।’
চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ এবং বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন চরফ্যাশনের সামরাজ মাছঘাটের প্রবীণ জেলে নুর হোসেন মাঝি। এই হাহাকার কেবল তার একার নয়, ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় চরফ্যাশন-মনপুরার মৎস্যজীবীদের জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভর করে যাদের সংসার চলত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আজ তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
এখানকার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েক হাজার জেলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে এ পেশায় দিন দিন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ায় অনেকে এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক জেলে এখন বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন।
বিভিন্ন এনজিওর ঋণ ও মহাজনদের দাদন পরিশোধের চাপ, কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া, একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছেন, এমনটাই জানিয়েছেন জেলেরা।
সরেজমিনে জেলেদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অতীতে জেলে পেশা দিয়ে খুব ভালোভাবেই সংসার চলত। এখন এ পেশার পাশাপাশি অন্য কাজ না করলে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা হয় না। সাগরে মাছ না থাকায় অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়। তাই তারা বিকল্প পেশা খুঁজছেন।
উপজেলার চরকুকরি এলাকার জেলে বাবুল মাঝি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। আগে যেমন তেলের দাম ছিল, তখন ভালোই লাভ হতো। কিন্তু এখন তেলের দাম চড়া। এতে আমাদের ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে হিমশিম খেতে হয়। সাগরে মাছ ধরে এখন আর সংসার চলে না। তাই বাধ্য হয়েই অন্য কাজ করতে হয়।’
জেলে ফোরকান মিয়া বলেন, ‘সব মালামালের দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল, বরফ সবকিছুই কিনতে হয় অধিক দামে। এভাবে জীবন চালানো কষ্টকর। মাছ ধরার সিজন থাকে ৫ মাস। এর মধ্যে আড়াই মাসই থাকে নিষেধাজ্ঞা। বাকি আড়াই মাসে ঝড়ঝাপটা-বৈরি আবহাওয়া থাকে। এখন শুধু জেলে পেশা দিয়ে সংসার চালানোর মতো কোনো উপায় নাই। তাই অন্য পেশা খুঁজছি।’
উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের জেলে আনোয়ার এবং বেতুয়ার মেঘনা নদীর পাড়ের সামরাজ এলাকার জেলে নরুল্লাহ মিয়া বলেন, ‘সাগরে ইলিশ তেমন পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে অনেক ইলিশ ওঠে। কিন্তু আগে সাগরের কিছু পয়েন্টে মাছ পাওয়া যেতই। এখন আর সেসব পয়েন্টেও মাছ নেই। তার মধ্যে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রতিকূলতা তো আছেই। এই পেশায় এখন লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। সাগর থেকে এসেও আমাদের অন্য কাজ খুঁজতে হয়। তার চেয়ে জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়াই ভালো। অন্য পেশায় নিশ্চিত থাকা যায় যে দিন শেষে কিছু হলেও মজুরি পাব।’
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, দুর্যোগসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে মাছের উৎপাদন কমেছে। এসব কারণে বিচরণ ও প্রজননের জায়গায় পরিবর্তন করছে নদী-সাগরের মাছ। গত কয়েক দশকে জেলেদের তুলনায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়ায় সাগর ও নদ-নদীতে চাপ বেড়েছে। জেলেদের এ পেশার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছলতার লক্ষে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, চরফ্যাশন উপজেলায় ৪টি থানায় মোট ৪৩ হাজার ৩শ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলে কার্ড পেয়েছেন ২৫ হাজার জেলে। ইলিশের প্রজননকালীন নিষেধাজ্ঞার সময়ে দরিদ্র ৩৫ হাজার ৩শ ৮৬ জেলেকে চাল সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়াও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার জন জেলেকে বিকল্প আয়ের উৎস সৃষ্টির লক্ষে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারও জীবনে ভালোবাসার মানুষটি পাশে আছে, আবার কেউ নিজের মতো করেই জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ দুজন মিলে স্বপ্ন সাজাচ্ছেন, আবার কেউ একাই নিজের গল্প লিখে চলেছেন। তবে সিঙ্গেল থাকা মানেই জীবন অসম্পূর্ণ—এমনটা নয়। বরং অনেক সময় সিঙ্গেল থাকাটাই হয়ে উঠতে পারে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, সিঙ্গেল ডে বা দিবস। যারা এখনো কোনো সম্পর্কে জড়াননি কিংবা জীবনের কোনো এক পর্যায়ে সিঙ্গেল হয়ে গেছেন, তাদের জন্য দিনটি হতে পারে নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটানোর উপলক্ষ।
ভালোবাসার মানুষদের জন্য বছরের বিভিন্ন দিনে থাকে নানা আয়োজন। ভালোবাসা দিবস, জুটিদের নানা উদযাপন কিংবা বিভিন্ন রোমান্টিক আয়োজনের ভিড়ে সিঙ্গেলদের অনেকেরই কখনো নিঃসঙ্গ লাগতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের হাসিমুখের ছবি দেখে মনে হতে পারে, নিজের জীবনটাই বুঝি অসম্পূর্ণ।
তবে জীবনের পূর্ণতা কেবল কারও সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। সিঙ্গেল থাকারও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে হয় না। নিজের পছন্দের জায়গায় একাই ঘুরে বেড়ানো, পছন্দের খাবার খাওয়া, গভীর রাত পর্যন্ত প্রিয় গান শোনা কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগও পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় কথা, এই সময়টুকু নিজের জন্য।
অনেকেই বলেন, অন্য কাউকে ভালোবাসার আগে নিজেকে ভালোবাসতে জানতে হয়। আর নিজেকে ভালোবাসার সুন্দর সময়গুলোর একটি হতে পারে সিঙ্গেল থাকার সময়। নিজের ভুলগুলোকে ক্ষমা করা, নিজের যত্ন নেওয়া এবং নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়াও ভালোবাসারই অংশ।
সিঙ্গেল দিবস শুরু হলো যেভাবে
সিঙ্গেল দিবস ঘিরে বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রচলন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটি পালনের কথা বলা হলেও চীনে বহুল পরিচিত সিঙ্গেল দিবস পালিত হয় ১১ নভেম্বর।
১১ নভেম্বরের তারিখে চারটি এক থাকায় দিনটি সিঙ্গেলদের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকে চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রচলন শুরু হয়। পরে তা দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সিঙ্গেল দিবসের সবচেয়ে সুন্দর বার্তাটি হতে পারে—সিঙ্গেল থাকা মানেই একাকী থাকা নয়।
তাই আজ নিজের জীবন নিয়ে মন খারাপ না করে নিজেকেই একটু সময় দেওয়া যেতে পারে। বহুদিন ধরে কেনার কথা ভাবছেন এমন কিছু কিনে ফেলুন। প্রিয় কোনো খাবারের দোকানে গিয়ে নিজের পছন্দের খাবার খান। কোথাও ঘুরে আসুন। কিংবা কিছুই না করে ঘরে বসে প্রিয় গান শুনে, বই পড়ে নিজের মতো করে সময় কাটিয়ে দিন।
কারণ সব ভালোবাসার গল্পে দুজন মানুষ লাগে না। কখনো কখনো একজন মানুষও নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা লিখতে পারেন।
আজ সিঙ্গেল দিবস—আজকের দিনটা তাই অন্য কারও জন্য নয়, নিজের জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর কাছে পরিমার্জিত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এই উদ্দেশ্যে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাপাখানাগুলোতে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই মুদ্রণের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছাপাখানা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে বই গ্রহণের প্রতিটি ধাপে মান রক্ষায় এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তদারকির অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং দল সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে মানদণ্ড পূরণ না করায় বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেবল মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নয়, বই গ্রহণের সময় মাঠপর্যায়ে কোনো অনিয়ম বা শৈথিল্য দেখা দিলে পাঠ্যবই গ্রহীতা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে। যেকোনো মূল্যে সরকার এ বছর নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা বলেন, ‘এ বছর বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বইয়ের ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত পাঠ্যবই উপজেলায় পৌঁছাতে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অসাধু চক্রের আঁতাতের সুযোগ থাকলেও এবার পাঠ্যবই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ওপর প্রত্যক্ষ মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পরও বইয়ের মান নিয়ে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
স্তরভিত্তিক মুদ্রণের হালনাগাদ চিত্র
এনসিটিবির ২২ সেপ্টেম্বরের উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এবারের বইয়ের মুদ্রণ কাজ গত বছরের তুলনায় এক মাস আগেই শুরু হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রেসে এসব বই ছাপার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি (৭৪.৪৫ শতাংশ) ছাপানো সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক স্তরে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি (৩৬.৯৬ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি (৭ শতাংশ) ছাপা শেষ হয়েছে।
এনসিটিবির বিতরণ শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ‘ইতোমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে বাঞ্ছারামপুর ও সরাইলসহ দেশের বেশ কয়েকটি উপজেলায় বই সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বই পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেওয়া হবে। কেবল ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ বইসমূহ জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।’
এনসিটিবি জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মোট ১১৩টির মধ্যে বর্তমানে সারাদেশে ৯১টি প্রেসে পুরোদমে বই ছাপার কাজ চলছে। সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামলাতে বড় প্রেসগুলোতে জেনারেটর ব্যাকআপ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। নতুন বইয়ের কাগজের জিএসএম ও প্রিন্টিং মান নিশ্চিত করতে পিডিআই (প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন) এজেন্সির পাশাপাশি ল্যাব টেস্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি ৯টি প্রেসের কাগজের নমুনা বিসিএসআইআরে ল্যাব টেস্ট করিয়ে মানসম্মত পাওয়া গেছে।
তিনস্তরে মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজরদারি
এনসিটিবি জানায়, পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ প্রক্রিয়া ও সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি যেন না হয়, সেজন্য এনসিটিবির একদল চৌকস কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ টিমের পাশাপাশি মাঠে কাজে লাগানো হয়েছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
সংস্থাটি আরও জানায়, এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় মিলে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এর মধ্যে এনসিটিবির নিজস্ব ৩৩টি মনিটরিং টিম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৭টি টিম সার্বক্ষণিক ছাপাখানাগুলোতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এ ছাড়া এনসিটিবির সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে ৫টি বিশেষ টিম সরাসরি মাঠে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মনিটরিং কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত সরাসরি প্রেসে অবস্থান করছেন।
মান রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বইয়ের কাগজের উজ্জ্বলতা (৮৫ শতাংশ) ও মুদ্রণ মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবির তদারকির পাশাপাশি নিয়োগকৃত পিডিআই এজেন্সির মাধ্যমে কেমিক্যাল ও গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। র্যান্ডম ভিত্তিতে ইতোমধ্যে ৯টি প্রেসের কাগজের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে, যার সবকটি নমুনা মানসম্মত বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া মানদণ্ড পূরণ না করায় বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহে কোনো ধরনের নিম্নমানের কাগজের বই বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে এবার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে, যাতে কম মূল্যের অজুহাতে কেউ নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে আমাদের রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রেস মালিকদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে নিয়োজিত টিমগুলো প্রতিদিন প্রেসে অবস্থান করে কাজ তদারকি করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য— বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা যেন নতুন ক্লাসের পুরো সেট বই হাতে পায়।’ সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দিনটি সাধারণ ছুটি নয়। ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানসহ অধিকাংশ কর্মস্থলে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ছুটি নির্ধারিত ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর। পরে তারিখ পরিবর্তন করে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা আজ ছুটি ভোগ করছেন।
তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজকের দিনটি সাধারণ ছুটি নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে কার্যক্রম চলবে। অবশ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কেউ চাইলে দিনটিকে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে নিতে পারবেন।
একইভাবে ব্যাংক, বিমা, করপোরেট অফিসসহ বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো সাধারণ ছুটি পাবেন না।
‘ইয়াজদাহম’ শব্দের অর্থ এগারো এবং ‘ফাতেহা’ অর্থ দোয়া করা। বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে দোয়া ও ধর্মীয় আয়োজনকে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম বলা হয়।
তাই আজ ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছুটির দিন হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি সাধারণ ছুটির দিন নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক বাসসকে এ কথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব বলেন, দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় বারহাম সালেহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ