০৪:২৯ পি.এম
দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় তিনটি পৃথক প্রস্তাবে ৮০ হাজার টন সার এবং চট্টগ্রামের টিএসপিসিএলের জন্য রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই আমদানির জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৭০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯৭৭ টাকা।
বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই তিনটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) অনুসরণ করে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির দরপ্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ২০২৬ সালের ৪ জুলাই ডেলটা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এফএস, ইউএই এবং তাদের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পিজেএসসি আরকন, রাশিয়া সার সিএফআর ভিত্তিতে ডিপিএমের মাধ্যমে সরবরাহের জন্য দরপ্রস্তাব জমা দেয়।
আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে
প্রস্তাবটি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করা হয়। প্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে বিসিআইসির বিদ্যমান জিটুজি চুক্তির প্রাইস ফর্মুলা অনুসারে সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ম লটে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে প্রতি টনে ৬৭৫.৮৩ ডলার বরাবর মোট ২ কোটি ৭০ লাখ ৩৩ হাজার ২০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪৮ কোটি ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ টাকায় সমপরিমাণ।
সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি, সৌদি আরব থেকে ১৯তম লটে ২৫ হাজার টন (+১০%) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি, সৌদি আরব থেকে ৩.৩০ লাখ টন এবং আপদকালীন ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য ৩.০০ লাখ টনসহ মোট ৬.৩০ লাখ টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়। চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী সমুদয় সার আমদানি করা হয়।
সাবিক-সৌদি আরবকে অতিরিক্ত অপশনাল ২ লাখ টন সার সরবরাহের প্রস্তাব করা হলে সাবিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত ২ লাখ টন সম্পূর্ণ সার সরবরাহ করা বর্তমানে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে তারা সর্বোচ্চ পরিমাণ সার সরবরাহ করতে আন্তরিকভাবে প্রস্তুত হবে। পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে ১৯তম লটে ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সারের চুক্তির শর্ত অনুসারে প্রতি টনে ৬০০.৮৩ ডলারে মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ওই হিসাবে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৮৫ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৪৩৭ টাকায় প্রয়োজন হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরিয়া সার ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৩০ লাখ টন।
আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু
সভায় চট্টগ্রামের টিএসপিসিএলের জন্য ১৫ হাজার টন (+১০%) রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানি করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিএসপি কমপ্লেক্স লি., চট্টগ্রামের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ হাজার টন (+১০%) রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যেখানে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশ করা একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্যবসস্কো কন্সট্রাকশন লি. সিসিলিস (প্রস্তুতকারক: তাইওয়ান/তুর্কেমেনিস্তান/নরওয়ে/কাজাকিস্থান/ওমান/ইউএসএ/ইউএই/ইরাক/ইন্ডিয়া) থেকে ১৫ হাজার টন রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার ক্রুড আমদানি করা হবে। এতে আশা করা হচ্ছে ১৭১ কোটি ১ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকা ব্যয় হবে। প্রতি টনে দাম পড়বে ৮৭৩ ডলার। বর্তমানে রক সালফার মজুত রয়েছে মাত্র ৬৭৪ টন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন