০৭:১২ পি.এম
গভীর সমুদ্রে ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর নতুন স্বপ্ন এবং বুকভরা আশা নিয়ে আবারও সাগরের পথে পাড়ি জমাতে চলেছেন ভোলার চরফ্যাশনের হাজারো জেলে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার পর তারা দুই মাসের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং ব্যবসায়িক লোকসান কাটিয়ে আবার দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে আজ মধ্যরাতেই সাগরের যাত্রা শুরু করবেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় চরফ্যাশনের প্রায় দেড় হাজার সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার আবারও সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এসব ট্রলারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার জেলে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা
নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেক জেলেকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ জীবিকার তাগিদে বিকল্প পেশায় কাজ করার চেষ্টা করেছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভালো মাছের আশায় নতুন উদ্যমে সাগরে ফিরছেন তারা।
সামরাজ মৎস্যঘাটের কয়েকজন জেলে জানান, গত দুই মাস মাছ ধরতে না পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন সমুদ্রে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের ভালো উৎপাদনের আশা করছে তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই মাছভর্তি ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরতে পারবেন বলেও তাদের প্রত্যাশা রয়েছে।
সমুদ্রগামী জেলে আ. রহিম বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মহাজন ও এনজিও থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। আজ নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে, তাই তিনি সমুদ্রে যাবেন। আশা করছেন, ভালো মাছ পাবেন এবং সেই মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ব্যবসা সচল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ট্রলার মালিকেরাও। অনেকেই তাদের ট্রলারের প্রয়োজনীয় মেরামত, ইঞ্জিন পরীক্ষা এবং নতুন জাল সংগ্রহ করেছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষের খবরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরাজ মৎস্যঘাট, বরফকল এবং মাছ পরিবহন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।
ট্রলার মালিক সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে গত পাঁচ বছর ধরে লোকসানের মধ্যে আছেন। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাঝি-মাল্লারা ট্রলার প্রস্তুত রেখেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লে তারা যেমন লাভবান হবে, তেমনি জেলেরা তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।
সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি আজিজ পাটওয়ারী বলেন, ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎশ্য ব্যবসায়ীদের মাঝে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ভালো মাছের প্রত্যাশায় সবাই সমুদ্রে যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এ সময় মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে ও বংশবিস্তার করতে পারে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কাউনিয়ায় পুলিশের আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন