০৪:৪৫ পি.এম
গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ সপ্তাহের ছুটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোটারদের কাছে তার শেষ মুহূর্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রক্ষণাত্মক অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প ফ্লোরিডা, আয়োভা এবং কানসাসে সমাবেশ করেন—যেসব অঙ্গরাজ্যে তিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।
জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প সেই উদ্বেগগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণের দিকে নজর ঘুরিয়ে দিয়ে বলেন যে, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচিত হলে পরিবারগুলোকে দেউলিয়া করে ছাড়বে।
জনমত জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে যে, ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের অন্তত আংশিক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর একটি লাগাম হিসেবে কাজ করবে এবং তার প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত, রাশিয়ার উদ্বেগ
নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প দেশজুড়ে বিরতিহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন; এমনকি একসময় যেসব এলাকা নিরাপদ রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানেও তিনি যাচ্ছেন।
নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্প কানসাস, ফ্লোরিডা এবং আয়োভাতে সমাবেশের মাধ্যমে তার দলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং মিশিগান, ওহাইও ও পেনসিলভেনিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রার্থীদের জন্য টেলি-সমাবেশে অংশ নেন।
বিগত বছরগুলোতে ট্রাম্প ফ্লোরিডা, আয়োভা ও কানসাসে সহজেই জয়লাভ করেছিলেন; যা একসময় নির্ভরযোগ্যভাবে রিপাবলিকান রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে এই রাজ্যগুলোতে প্রেসিডেন্টের সফরই প্রমাণ করে যে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে এই রাজ্যগুলো এখন কতটা প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প সমর্থকদের বলেন যে তিনি দেশকে বদলে দিয়েছেন। তার দাবি, ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘অন্ধকার যুগে’ রেখে গিয়েছিল। কিন্তু তার নেতৃত্বে আমেরিকা দ্রুত সুবর্ণ যুগে পরিণত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প এখন তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। আট মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে জ্বালানি তেল, নিত্যপণ্য এবং স্বাস্থ্যসেবার দাম বেড়ে গেছে। এই সমাবেশগুলোতে ট্রাম্পের দুটি লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয়; এই সমস্যাগুলো থেকে আলোচনার বিষয়বস্তু ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ভয় দেখানোর কৌশল ব্যবহার করে রিপাবলিকান ভোট বাড়ানো।
আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, খাদ্যপণ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ফ্লোরিডা ও আয়োভার সমাবেশে ট্রাম্প বাণিজ্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত তার নীতিগুলো তুলে ধরেন এবং বলেন যে ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা দেওয়া হলে তারা ‘সীমান্ত খুলে দেবে’, ‘আপনার পরিবারকে দেউলিয়া করবে’, ‘আপনার বন্দুক কেড়ে নেবে’ এবং ‘আপনার সন্তানদের বিকলাঙ্গ করবে’।
তিনি ডেমোক্র্যাটদের আইসিই-এর সমালোচনা করা এবং ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার ভিডিও ক্লিপও প্রদর্শন করেন।
সমাবেশকক্ষে সমর্থকরা করতালি দিলেও, তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের এই ধরনের আহ্বানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কিছু রিপাবলিকানদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা গেছে।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ সিনিয়র ডেমোক্র্যাটরা যখন ভোটারদের কাছে শেষ মুহূর্তের আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন ডেমোক্র্যাটিক হাউস লিডার হাকিম জেফরিস বলেছেন যে তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে তার দল হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে যাচ্ছিল হরমুজে হামলার শিকার কাতারের এলএনজি ট্যাংকার
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটি পূর্বাভাস মডেল, যা একাধিক জনমত জরিপ এবং ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি, সেটি আভাস দিচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটদের হাউস পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৬ ভাগ এবং সিনেট পাওয়ার সম্ভাবনা ৭৬ ভাগ।
এই সপ্তাহে প্রকাশিত এনবিসি নিউজ-এর একটি জাতীয় জরিপ ইঙ্গিত দেয় যে, নিবন্ধিত ভোটাররা ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস পছন্দ করছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা ৫২ ভাগ বনাম ৪৫ ভাগ ভোটে রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
তবে শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণার পাশাপাশি এই উইকেন্ডে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একটি নাটকীয় মোড় দেখা গেছে; যা বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন। হ্যালির স্টিভেনস নামে একজন দায়িত্বরত কংগ্রেসওম্যান, যিনি আব্দুল এল-সায়েদের কাছে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট মনোনয়ন হারিয়েছিলেন, তিনি গত রবিবার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। এই পদক্ষেপটি সহকর্মী ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে ব্যাপক নিন্দার শিকার হলেও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। স্বয়ং ট্রাম্প তাকে ‘খুব সাহসী’ বলে অভিহিত করেছেন।
আলাস্কায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচন হচ্ছে, সেখানে রবিবার একজন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ব্যালটে একই নামের দুজন প্রার্থী থাকার কারণে যদি রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর হেরে যান, তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন করতে বিলম্ব করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই আবেদনটি করা হয়েছিল। নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বারবার ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের আবাসভূমি নিশ্চিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা আসবে না: বাদশাহ আবদুল্লাহ
ট্রাম্পের জন্য এই নির্বাচনের বাজি অনেক বেশি, কারণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে একজন প্রেসিডেন্টের পারফরম্যান্সের প্রতি আমেরিকানদের সন্তুষ্টির পরিমাপক হিসেবে দেখা হয়।
বেশিরভাগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে থাকা দলটি সাধারণত বিরোধী দলের কাছে কংগ্রেসে আসন হারায়; যার অর্থ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিরই এখানে হারানোর ভয় সবচেয়ে বেশি।
রিপাবলিকানরা বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট উভয় কক্ষেই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে, তারা কংগ্রেসে তাদের দলের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চায় না। কারণ যেকোনো আসন হারানো মানেই আইন পাস এবং নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হওয়া।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিতে মুখিয়ে আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা ট্রাম্পের এজেন্ডাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে, তার প্রশাসনের ওপর তদন্ত করার ক্ষমতা পাবে এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আমেরিকার জন্য তাদের নিজস্ব রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে থ্রিডি প্রিন্টেড ১০০টি বাড়ির প্রকল্প, দাম ৬ লাখ ডলার
সূত্র : বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন