প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের সরকারের ধারাবাহিকতা পরিহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় সরকার।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতাকে অগ্রসর হতে হবে।
আজ রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬) উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে জনগণের সকল চাহিদা পূরণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, একটি জাতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি। বর্তমান সরকার এই কাজটি করছে, কিন্তু পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে রেখে গেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছি। দেশের বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হবে না, তারা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে প্রযুক্তিভিত্তিক, মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির চর্চা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত।
তিনি বলেন, আমাদের মূল নীতি হওয়া উচিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’। দেশ মানে শুধু ভূখণ্ড বা পতাকা নয়, এর পেছনে রয়েছে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার মেলবন্ধন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মেয়াদে ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
বর্তমান ক্যাম্পাস ছাড়াও কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধা সংবলিত নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানান।
শিক্ষাব্যবস্থা ও উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি জাতি শুধুমাত্র সনদ বা জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে উন্নত হতে পারে না। এর জন্য গুণগত পরিবর্তন ও গবেষণামুখী শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল কর্মসংস্থানের জন্য নয়, বরং মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উচিত।
কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে কেবল সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে বেকার না থেকে, আধুনিক বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সনাতনী ব্যবস্থার পাশাপাশি ইনোভেটিভ আইডিয়া, প্রযুক্তি-নির্ভর জ্ঞান ও মেধানির্ভর জনবল সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেমকে ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, ২০২৬ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন