ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সৌদির লাইব্রেরিতে ইসলামী ঐতিহ্যের ৩২ হাজারের বেশি দুর্লভ বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ


সৌদির লাইব্রেরিতে ইসলামী ঐতিহ্যের ৩২ হাজারের বেশি দুর্লভ বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ

সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরিতে ৩২ হাজার ৬২৫টিরও বেশি দুর্লভ ও ঐতিহাসিক বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহ সংরক্ষিত রয়েছে। লাইব্রেরিটি আরবি ও ইসলামী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রিত নিদর্শন সংরক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই সংগ্রহ তৈরি করেছে।

লাইব্রেরির অন্যতম আকর্ষণ হলো প্রাচীন ইউরোপীয় সংস্করণে প্রকাশিত দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ। এতে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনচরিতবিষয়ক ৭৮টি বই, প্রাচীন ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত পবিত্র কোরআনের অর্থবিষয়ক ১১৩টি বই, কোরআন অধ্যয়নবিষয়ক ৫৫টি বই এবং ইসলামী উৎস ও সূত্রবিষয়ক ৫৪টি বই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব গ্রন্থ ইউরোপীয়দের পবিত্র কোরআন ও ইসলামী জ্ঞানচর্চার প্রতি প্রাথমিক আগ্রহ এবং সে সময়ের গবেষণার ধারা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে। লাইব্রেরিতে ১৫৯২ থেকে ১৫৯৩ সালের মধ্যে ইউরোপে মুদ্রিত আরবি বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহও রয়েছে।

এই বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এইচ. রিটারের সম্পাদনায় ইবনে সিনার ‘দ্য ক্যানন অব মেডিসিন’ এবং আবদুল কাহির আল-জুরজানির ‘সিক্রেটস অব এলোকুয়েন্স’। এছাড়া ওসলা ওয়াইজার সম্পাদিত প্লুবিওনাস দ্য ওয়াইজের ‘অ্যানালস অব দ্য পাবলিকেশন অব দ্য মাথানি’, কোয়ামেজিকি সম্পাদিত আবু আল-ফারাজ ইবনে আল-তায়্যিবের পোরফিরির ‘দ্য বুক অব ইসাগোজি’-এর ভাষ্য এবং অ্যান্টন এম. হাইনেন সম্পাদিত জালালুদ্দিন আল-সুয়ুতির ‘ইসলামিক অ্যাস্ট্রোনমি’ গ্রন্থও এ সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। লাইব্রেরির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সম্পদ হলো আট হাজার ২৭১টি দুর্লভ আরবি বই। এসব বই যথাযথভাবে তালিকাভুক্ত, শ্রেণিবদ্ধ ও ডিজিটাল ডেটা বেইসে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা গবেষক ও আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইগুলোর তথ্য খুঁজে পাওয়া এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানার সুযোগ সহজ করেছে।

আরও পড়ুন: জাপানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২২ জন

কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরিতে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারও সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ডিন এবং প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম হামজা বুবাকেরের ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার রয়েছে। এ সংগ্রহে ১৭ হাজার ১৭০টি শিরোনামের মোট ১৯ হাজার ৮২১ খণ্ড বই রয়েছে। আরবি, ফারসি, ইংরেজি, জার্মান ও রুশ ভাষার এসব সংগ্রহের মধ্যে বই, সাময়িকী, সংবাদপত্র, পাণ্ডুলিপি, ঐতিহাসিক দলিল, সংবাদপত্রের কাটিং, গবেষণাপত্র ও দুর্লভ গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য।

লাইব্রেরিটির সংগ্রহ বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এখানে ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি এবং বিভিন্ন দেশ ও জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও সামাজিক প্রথাবিষয়ক অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর ইসলামী বিশ্বের ইতিহাস ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট বইগুলো উদীয়মান তরুণ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার ডিজেল ট্যাংকারের আমেরিকা যাত্রা, নিষেধাজ্ঞার জাল থেকে বের হচ্ছে মস্কো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৫ এম


রাশিয়ার ডিজেল ট্যাংকারের আমেরিকা যাত্রা, নিষেধাজ্ঞার জাল থেকে বের হচ্ছে মস্কো?

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত এবং কঠোর। পশ্চিমা দেশগুলো ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করে; রুশ পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়, রাশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর মূল্যসীমা আরোপ করা হয়, যাতে ক্রেমলিনের তহবিল শূন্য হয়ে যায়।

কিন্তু ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মাল্টার পতাকাবাহী 'আজিওই ফ্যানেন্দেস' নামের একটি ট্যাঙ্কার ৩ লাখ ব্যারেল রুশ ডিজেল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে চলেছে; যা মস্কোর প্রতি ওয়াশিংটনের অবস্থানের একটি নাটকীয় পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে।

ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ রাশিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে 'একঘরে' থাকার তকমা ঘুচিয়ে দিচ্ছে। এটি পুতিনের প্রতিবেশী দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের জবাবে রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়ার এবং দেশটির অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বছরের পর বছর ধরে চালানো প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

সাবেক মার্কিন ট্রেজারি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেন হ্যারিস, যিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টার সাথে জড়িত ছিলেন, বলেন, ‘২০২২ সালের শুরুর দিকে একটি খুব জোরালো ধারণা ছিল যে আমরা মার্কিন উপকূলে রুশ তেলের একটি ফোঁটাও চাই না, এবং এটি কেবল মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকেই নয়, বরং পুরো খাতের পক্ষ থেকেও ছিল।’ বর্তমানে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অর্থনৈতিক গবেষণা পরিচালক হ্যারিস আরও যোগ করেন, ’ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে তিনি আসলে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করার মধ্যে কোনো সুবিধা দেখছেন না এবং নিষেধাজ্ঞা যে যুদ্ধ শেষ করার কোনো পথ হতে পারে, তাও তিনি মনে করেন না।’ সিএনএন-কে তিনি বলেন, ’তিনি (ট্রাম্প) রাশিয়ার এই আগ্রাসনকে আদৌ কোনো সমস্যা হিসেবে দেখেন কি না, তা সত্যিই অস্পষ্ট।’ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে তিনি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন।

রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ট্রাম্পের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নেওয়া হয়েছিল, যখন জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম ভোটারদের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল। ডিজেলের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যেখানে ইরানের যুদ্ধের আগে জাতীয়ভাবে এই দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৭৬ ডলার। পেট্রোলের দাম এখন প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের ওপরে, যা এক বছর আগের ৩ ডলারের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে ট্রাম্পের এই ডিজেল কেনাকাটা জ্বালানীর দাম কমাতে কোনো ভূমিকাই রাখবে না। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, আজিওই ফ্যানেন্দেস-এ থাকা তেলের পরিমাণ কেবল মার্কিন পরিবহন খাতের একদিনের ব্যবহারের মাত্র ১০ শতাংশের সমান। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়ার সম্পূর্ণ ২২ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করা হলেও, তা আমেরিকার একদিনের চাহিদাও পূরণ করতে পারবে না। তবুও, এই চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি লেনদেনের প্রথম ধাপ হতে পারে, যা গত চার বছরের নীতি থেকে একটি বড় ধরনের বিচ্যুতি।

ইউক্রেনে কোনো যুদ্ধবিরতি না হওয়া এবং রুশ আগ্রাসন বন্ধ করার মতো কোনো স্পষ্ট শর্ত ছাড়াই এই সম্ভাব্য ব্যবসায়িক চুক্তিগুলোর খবর আসছে; যার মধ্যে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র ডেটা সেন্টার প্রকল্প থেকে শুরু করে আর্কটিকে যৌথ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্যোগও রয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো থমাস রাইট বলেন, ’ডিজেল চুক্তিটি হয়তো এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রথম আভাস, যা মানুষকে বেশ উদ্বিগ্ন করে তুলেছে কারণ অদূর ভবিষ্যতে এর ফলে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’ রয়টার্স গত মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অন্তর্ভুক্তকারী একটি কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বে রাশিয়ার প্রধান তেল কোম্পানি লুকঅয়েলের আন্তর্জাতিক সম্পদের একটি চুক্তি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস রাশিয়ার সাথে বর্তমান বা ভবিষ্যতের এই চুক্তিগুলোকে কীভাবে বা আদৌ প্রভাবিত করতে পারবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের এখনও ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, যা তিনি পররাষ্ট্র নীতিতে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে ব্যবহার করতে পারেন।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন এবং ক্রেমলিন রাশিয়ার বিলিয়ন ডলারের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম তহবিলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাব্য বিষয়ে আলোচনা করেছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর বাইডেন প্রশাসন প্রথম এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং এটিকে পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠদের একটি ’গোপন তহবিল’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন যে, প্রশাসন মার্কিন-রাশিয়া সম্পর্কের উন্নতি এবং যুদ্ধ শেষ করতে সহায়তার প্রচেষ্টায় এই ফান্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য তার স্বাভাবিক প্রক্রিয় পরিচালনা করছে।

পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের এই সমঝোতামূলক মনোভাবের আরও একটি লক্ষণ দেখা গেছে যে, গত মাসে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সেটি স্থগিত করেন, যা দুই দলের মধ্যেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।

এই পদক্ষেপগুলো 'গ্রাহাম অ্যাক্ট'-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা গত জুলাইয়ে মারা যাওয়া বিশিষ্ট রাশিয়া-বিরোধী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা আইন। গ্রাহাম অ্যাক্ট কার্যকর হলে তা ভারতসহ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের পাঁচটি বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের ওপরও শুল্ক আরোপ করত।

কিয়েভ স্কুল অফ ইকোনমিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক্সের সিনিয়র ফেলো এলিনা রিবাকোভার মতে, এই ডিজেল চুক্তির ফলে ভারত এবং রাশিয়ার রপ্তানি পণ্যের অন্যান্য ক্রেতারা (চীনসহ) এখন সম্ভাব্য পরিণতির ভয় কম পাবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের এই ডিজেল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

রুশ ডিজেল নিয়ে আজিওই ফ্যানেন্দেস শেষ পর্যন্ত মার্কিন উপকূলে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনও দেখার বিষয়। রাশিয়ার ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসা অন্য দুটি নিষেধাজ্ঞা-প্রাপ্ত তেল ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যেই তাদের পথ পরিবর্তন করেছে। কেপলারের কমোডিটি রিসার্চ ডিরেক্টর ম্যাট স্মিথের মতে, সম্ভবত আইনি পরিণতির ভয়ে মার্কিন ক্রেতাদের দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণেই এমনটা হয়েছে। তিনি সিএনএন-কে বলেন, ‘আজিওই ফ্যানেন্দেস এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে, তবে গত কয়েক দিনে এর গতি ধীর হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ’এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে এই পণ্য খালাস করার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং এটিও অন্য দুটি ট্যাঙ্কারের মতো পথ পরিবর্তন করতে পারে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার সিএনএন-কে বলেন, ’প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী রুশ ডিজেল সাগরে রয়েছে এবং বাজারের দিকে আসছে, যা আমেরিকানদের জন্য জ্বালানির দাম কমাবে।’

তবে নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট গভর্নর মিকি শেরিল রাজ্যের বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটরদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, রুশ ডিজেল আমদানি করা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করে এবং এর ফলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তি হতে পারে। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ’ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকানদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে ভ্লাদিমির পুতিনকে সমর্থন করার সময় নিউ জার্সি চুপচাপ বসে থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ’খরচ কমানোর পরিবর্তে তিনি পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী সহিংসতা ও সন্ত্রাসের অর্থায়নে সহায়তা করছেন, যা বিদেশে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের বিপন্ন করে তুলছে।’

ব্রুকিংসের হ্যারিসের মতে, বেসরকারি খাত রাশিয়ার এই তেলের ব্যারেলগুলো থেকে দূরে থাকছে। তিনি বলেন, ’আপনি রুশ ডিজেলের জন্য কোনো ক্রেতা খুঁজে পাবেন না। আপনি যা দেখছেন তা হলো, বেসরকারি খাতের নৈতিকতার স্তর হোয়াইট হাউসের চেয়ে আলাদা।’

সূত্র : সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা ১৮ ডিসেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা ১৮ ডিসেম্বর

দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

এই পরীক্ষার জন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া ১৫ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রথমে ৪ ডিসেম্বর মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ১১ ডিসেম্বর ৫১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা রয়েছে। এই কারণে ১৮ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং আবেদনের সময়সূচি সম্পর্কে অধ্যাপক নাজমুল হোসেন জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম ১৫ থেকে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে।

এদিকে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ১ ডিসেম্বর পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে, এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আসবো আসবো বলে আসবেন না তা হবে না’— হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


‘আসবো আসবো বলে আসবেন না তা হবে না’— হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, "তিনি আসবো আসবো বলে আসবেন না তা কিন্তু হবে না। তাকে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।"

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "তিনি নাকি বাংলাদেশে আসবেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না। এখনই আসেন। আপনার আসতে হবে না আমরা নিয়ে আসবো। পালাইছেন আইড্যা আইড্যা (হেঁটে হেঁটে), আসবেন হ্যান্ডকাপ পইরা। আইস্যা বিচারের মুখোমুখি হবেন। আপনাদের ছাড় দেয়া হবে না। আসবো আসবো বলে আসবেন না তা কিন্তু হবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা ভাবতেছেন যে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ছেড়ে দেবে। বাংলাদেশের জনগণ অত বোকা না। ১৭ বছর লুটপাট করেছেন। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছেন। আপনাদের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করলে গ্রেফতার করেছেন, গুম করেছেন, হত্যা করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছিল। ২৪ এর ছাত্রজনতার আন্দোলনে বাংলাদেশ পুনরায় স্বাধীনতা পেয়েছে। এই স্বাধীনতা ভুলন্ঠিত করতে কাউকে দেয়া হবে না।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার জন্যই আজকে আমরা বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ যখন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র ভুলন্ঠিত হতে চলেছে, তখনই জিয়া পরিবার বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য কর্মী হিসেবে আমরা আজকে গর্বিত।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের জনগণ জুলাইয়ের হত্যার কথা ভুলে যায়নি। নারী শিশুকে যেভাবে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেইগুলো বাংলাদেশের জনগণ কোনো দিন ভুলবে না।"

স্থানীয় জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনাদের বাড়ির আশপাশে আপনাদের পরিচিত, অপরিচিত জানামতে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদের সোপর্দ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নান্দাইলসহ বাংলাদেশের কোথাও বিশৃঙ্খলা করার কোনো সুযোগ নাই। বাংলাদেশের জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ আছে।"

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী যেই উন্নয়ন করে চলেছেন, যেই পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নান্দাইলেও বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ইতিমধ্যে ১৮৬ টি রাস্তা পিটের সোলিং করা হয়েছে। আরও ১০৪টি রাস্তা ইটের সোলিং করা হবে। সাড়ে ১১ কোটি টাকায় বিভিন্ন রাস্তা পুনঃসংস্কার করার জন্য অনুদান এনেছি।"

গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩৬টি ঘর স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা মা বোনদের ঘরগুলো দিয়েছি। ভবিষ্যতে ১০৪টি ঘর দেয়ার জন্য এই বছর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ভবিষ্যতে আরও দেব। নান্দাইলে একের পর এক উন্নয়ন হবে। আপনাদের কর্মী হিসেবেই থাকতে চাই বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন: নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়, নজরুল ইসলাম ফকির, রফিকুজ্জামান ভূঁইয়া মনির, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম এবং আবুল খায়ের বাবুল প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার পানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি আখতার হোসেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


পদ্মার পানি নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি আখতার হোসেনের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি উল্লেখ করেছেন, পদ্মার পানি শুধুমাত্র পানি নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এই অস্তিত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আবারও মাওলানা ভাসানীর মতো লংমার্চের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে একবিন্দু দেরি করা হবে না।

শনিবার রাতে রাজশাহীর কাটাখালীতে দলের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

কাটাখালী পৌর এনসিপি আয়োজিত এই পথসভায় আখতার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহী থেকে পূর্বপুরুষেরা মাওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই লংমার্চের ঘটনা আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কারণ, আসছে ডিসেম্বরে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। পদ্মার পানির ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষ একবিন্দু ছাড় দেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফারাক্কা হওয়ার আগে পদ্মায় যে পরিমাণ পানি আসত, ফারাক্কা হওয়ার পরে তা অর্ধেকে নেমে গেছে। এতে বাংলাদেশের মানুষকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। পদ্মার সব শাখানদী-উপনদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি পাওয়া যায় না। খুলনা অঞ্চলে সমুদ্র থেকে নোনা পানি উজানে চলে আসছে পদ্মার শাখা-উপশাখায় পানি নেই বলে। বাংলাদেশের কৃষিকে ধ্বংস করা এবং এ দেশের মানুষকে অধিকারবঞ্চিত করার নীলনকশা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।’

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে তৎপর থাকার আহ্বান জানিয়ে আখতার বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিতে একবিন্দু ছাড় দেওয়া চলবে না। আমাদের ন্যায্য হিস্যা আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আর যদি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়, যদি এ দেশের মানুষের জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি করা হয়, তাহলে আবারও মাওলানা ভাসানীর মতো করে লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে শামিল হতে একবিন্দু দেরি করব না।’

এনসিপির এই সদস্যসচিব তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য দেন। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার আগের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুরভিসন্ধি করেছে। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা নিয়ে বিএনপি যে দুরভিসন্ধি করেছে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি যদি মনে করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কব্জা করে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে চলে যাবে, সেই সুযোগ দেশের মানুষ দেবে না।’

পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক এম এ সবুর, সদস্যসচিব নাহিদুল ইসলাম সাজু ও মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী প্রমুখ।

কাটাখালী পৌর এনসিপির আহ্বায়ক মাসউদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সভা পরিচালনা করেন সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম সজীব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%