শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৪ পি.এম
সম্প্রতি তহবিল সংক্রান্ত ধারাবাহিক কেলেঙ্কারির সর্বশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র দুই কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) একটি অনুসন্ধানী টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্র প্রচারের পর দলের কর্মকর্তা জেমস অর এবং ড্যান জুকস পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
‘চ্যানেল ৪ নিউজ’-এ সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের পর দলটি জানিয়েছে, তারা দলের নীতি-নির্ধারণী বিভাগের প্রধান জেমস অর এবং ফারাজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ড্যান জুকসের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ‘রিফর্ম ইউকে’-র কর্মকর্তারা একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে জনমত জরিপের (পোলিং) খরচ মেটানোর ব্যবস্থা করে রাজনৈতিক অনুদান সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন।
প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, জুকস একজন ছদ্মবেশী সাংবাদিককে পরামর্শ দিচ্ছেন কীভাবে নির্বাচনী আইন এড়িয়ে বিদেশ থেকে দলের তহবিলে অনুদান দেওয়া যায়। টেবিলে বসে থাকা দলের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেন, সবকিছু স্বচ্ছ ও আইনসম্মত। সাংবাদিক তখন তাকে জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অর-এর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের বার্ষিক সম্মেলনের ঠিক আগে ফারাজের দীর্ঘদিনের সহযোগী জুকস এবং রিফর্মের নীতি-নির্ধারণী প্রধান অর-এর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি ব্যক্তিগতভাবে এবং রিফর্ম দলের জন্য অর্থ গ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়া ফারাজ এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, দল কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। তবে তিনি আরও বলেন, ফাঁদে ফেলে রেকর্ড করা কথোপকথন দেখতে ভালো লাগে না, এবং সে কারণেই তারা তদন্ত শুরু করেছেন।
লন্ডনের মেট পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা রাজনৈতিক দলের অনুদান এবং জনমত জরিপ সংক্রান্ত পলিটিক্যাল পার্টিজ, ইলেকশনস অ্যান্ড রেফারেন্ডামস অ্যাক্ট ২০০০ লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে অবগত আছেন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছেন, এই তথ্য প্রকাশের পর তারা পুলিশের কাছে রিফর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। যদিও অভিবাসন বিরোধী দলটি শুরুতে বিষয়টিকে নিছক প্রতারণা বা ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
ফারাজ পাল্টা জবাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে পিয়ারেজ (উচ্চকক্ষ বা হাউস অফ লর্ডসের সদস্যপদ) বিক্রির অভিযোগ তোলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অর্থায়নের জগতে দশকের পর দশক ধরে নানা ধরনের ভুল কাজ হয়ে আসছে। দল হিসেবে তারা কোনো ভুল করেনি। তাদের কয়েকজন ঠিকাদার এমন কিছু কথা বলেছেন যা বলা উচিত ছিল না।
রিফর্মকে ঘিরে অর্থায়ন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে ফারাজের পাওয়া ৫০ লাখ পাউন্ডের (৬৭ লাখ ডলার) অঘোষিত ব্যক্তিগত উপহারের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। হারবোর্নের দেওয়া অনুদান রিফর্মকে আড়াই কোটি পাউন্ডেরও (৩ কোটি ৩৬ লাখ ডলার) বেশি অর্থ দিয়েছে। এ বিষয়ে ফৌজদারি ও সংসদীয় উভয় ধরনের তদন্ত চলমান রয়েছে। হারবোর্নের ক্রিপ্টোকারেন্সি টেথারের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে, যা মাদক কার্টেল, জালিয়াতি এবং মানব পাচারের সাথে ব্যাপকভাবে জড়িত।
এই ঝড়ের মধ্যে ফারাজ একটি উপনির্বাচনের আহ্বান জানাতে তার সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগ করে আন্তর্জাতিক শিরোনামে আসেন, যেখানে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন। অন্যান্য প্রধান দলগুলো এই পদক্ষেপকে একটি লোকদেখানো কৌশল হিসেবে খারিজ করে দেওয়ায় এবং প্রার্থী দিতে অস্বীকার করায় এই জনতুষ্টিবাদী নেতা সহজেই জয়লাভ করেন। যদিও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ যোদ্ধা কাউন্ট বিনফেসের পাওয়া প্রায় ১০ হাজার ভোট একটি উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার ইঙ্গিত দেয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২৪ ঘণ্টার মধ্যে (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) সারাদেশে হামের উপসর্গে আরও একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১,১৫৪ শিশু। এর মধ্যে ৪০ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৮৮৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮৭ জনে পৌঁছেছে।
এই সময়ের মধ্যে মোট হাম সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ২৬২ শিশু। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৫৬৭ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরো জেলাজুড়ে তার সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। শহরের সড়ক, ডিভাইডার এবং বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ, যাতে তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলছে। প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানোর কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হেলাল মন্তব্য করেন, "রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। শহর সাজানো হচ্ছে তাকে স্বাগত জানাতে, এবং মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।"
ব্যবসায়ী প্রশান্ত জানান, "প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষ্যে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।"
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জেলার মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন। এবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্টের সফরের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
শিক্ষক সীমা আক্তার বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।"
স্থানীয় বাসিন্দা সারোয়ার বাবু মন্তব্য করেন, "ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালু সহ আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরেও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।"
রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, "রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।"
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, "মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি কোনোভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ নন; দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, "রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।"
সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা-সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে জেলায়।
শুক্রবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
শোভাযাত্রাটি কালিবাড়ি মন্দির থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দও ছিলেন। ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন ও ভক্তদের নানা আয়োজনে শোভাযাত্রাটি একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পরিমল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কুশল রাজ পাল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ব-খ্রিস্ট্রান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু এবং জেলা শাখার সভাপতি দীপক রঞ্জন ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাস, চন্দন কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের কাল্যাট জেলায় পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) অন্তত ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাল্যাট জেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা চিহ্নিত করে সেখানে সুনির্দিষ্ট হামলা বা ‘সার্জিক্যাল অ্যাকশন’ পরিচালনা করে। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সাথে যুক্ত ছিল।
অভিযান শেষে উক্ত আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, অস্ত্র এবং আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করা হয় এবং সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলেই তা ধ্বংস করে দেয়। এলাকায় আরও কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আইএসপিআর পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে।
এদিকে, একই সময়ে বালুচিস্তানের ভাগ (Bhagh) শহরে একটি থানায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রকেট ও হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে থানায়, ব্যাংকে এবং সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এতে পুলিশ ও সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ৫ জন আহত হলেও হামলাকারীরা ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ লুট বা থানায় দখল নিতে সক্ষম হয়নি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তান অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামগ্রিক সহিংসতার প্রায় ৯৬ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে এই দুই অঞ্চলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ