শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৮ পি.এম
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছে। এ বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে প্রবল বৃষ্টির ফলে শহরটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও পার্ক। অসংখ্য যানবাহনও ভেসে গেছে।
শুক্রবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে ১৯৪২ সালের পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেনি।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই শহরে প্রবল বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার এলাকায় একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বন্যায় আরো তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ঝড়ের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে।
বন্যার পানিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়ে গেছে। সড়ক ও পার্কও পানিতে ডুবে গেছে। স্রোতে ভেসে যাওয়া অনেক যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে গিয়ে এক জায়গায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
শুক্রবার লাশ উদ্ধারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি সারিয়ার এলাকার আয়াজাগা এলাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বন্যার পর চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বন্যাসংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে ৯ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ ও প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ইস্তাম্বুলে ৪৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম।
নদী ও জলপথের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বন্যার তীব্রতা বেড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।
আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটির সভাপতিত্ব করবেন মুরাত কুরুম। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের যোগসূত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি অপরিহার্য।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার উপকূলে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রেড ক্রস জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গাম্বিয়া রেড ক্রস সোসাইটি (GRCS) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর ব্যাংক অঞ্চলের জিনাক কাজাতা (Jinack Kajata) উপকূলের নিকটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নৌকাটি ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার বিপজ্জনক পশ্চিম আফ্রিকান আটলান্টিক রুট ব্যবহার করছিল। জিনাক দ্বীপের জিনাক কাজাতা গ্রামটি সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের কানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার জন্য অভিবাসীদের একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো, মৌরিতানিয়া এবং সেনেগালের প্রচলিত প্রস্থান পয়েন্টগুলোতে কড়াকড়ি ও নিরাপত্তা জোরদার করার ফলে অভিবাসীরা বিকল্প এবং আরও দক্ষিণমুখী পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে গাম্বিয়ার মতো দেশগুলো নতুন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
IOM সতর্ক করে জানিয়েছে, এই বিকল্প রুটগুলো যাত্রাপথকে প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় এবং মোট দূরত্ব প্রায় ২,২০০ কিলোমিটারে পৌঁছায়। এর ফলে সমুদ্রে দীর্ঘ সময় কাটানো, কম নজরদারী থাকা উপকূল এবং জাহাজডুবি, পানিশূন্যতা ও নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলাকালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সোর্স: ইউরোনিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এটিকে একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ ও দুর্যোগ প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতি বছর এই অঞ্চলের জনগণকে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয় এবং টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এই দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
শুক্রবার বিকেলে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত ইয়ুথ সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিট দিনব্যাপী এই ইয়ুথ সামিটের আয়োজন করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবতার সেবায় কাজ করার জন্য রেড ক্রিসেন্ট সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তরুণদের দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্টের সক্রিয় ইউনিট গড়ে তোলা জরুরি। ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত থাকার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান অপু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্য নির্বাহী সদস্য মো. হাফিজুর রহমান মনি।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিএল কলেজের উপাধ্যক্ষ এফ এম আ. রাজ্জাক, সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন, সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের রেড ক্রিসেন্ট সমন্বয়ক শিক্ষক মো. বুলবুল আহমেদ, সিটি ইউনিটের উপ সহকারী পরিচালক রেকসোনা খাতুন, জেলা ইউনিটের সহকারী পরিচালক মো. তরিকুল ইসলাম, প্রজেক্ট ম্যানেজার ডি এম নাজমুল আলম, আমেরিকান রেড ক্রসের এসটিও মো. মামুনুর রশীদ, প্রকল্প কর্মকর্তা মো. সাকিবুল হাসান ও মিতা মাহমুদ মুন্নীসহ ৩টি কলেজের ৯০ জন ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাম্বাসেডর সামিটে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বাদাম চাষ নিয়ে আশাবাদী, কারণ আবহাওয়া অনুকূল এবং চাষাবাদের পরিবেশ ভালো রয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বালুমিশ্রিত ও দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করে অনেক কৃষক জীবিকা নির্বাহ করেন। কম খরচে বাদাম চাষ করা যায় বলে দিন দিন এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলার ৩ ইউনিয়নে বাদাম চাষের লক্ষ্য মাত্রা ৮৬৭ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ৪৫২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে।
জাউনিয়ার চর পূর্ব জালচিরা পাড়ার কৃষক শফি জানান, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি না হলে এবার ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।" তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাদামের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই গ্রামের আমিনুর রহমান জানান, "গতবারের চেয়ে আমি এবার এক একর বেশি চাষ করেছি। কারণ গেল বছর আমার খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।"
কৃষিবিদ রতন মিয়া বলেন, "বাদাম চাষে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।" তিনি বলেন, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে কৃষকদের লাভের পরিমাণও বাড়বে।
চর রাজিবপুর কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বাদাম চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ অঞ্চলে বাদামের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি উপ সহকারী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, "রাজিবপুর যেহেতু চর এলাকা, বাদাম চাষের জন্যে উপযুক্ত মাটি ও পরিবেশ রয়েছে।" তিনি বলেন, এখনও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি এবং সামনে সরকারি প্রণোদনা রয়েছে, বিনামূল্যে বাদামের বীজ ও সার প্রদান করা হবে।
"আমরা নিয়মিত কৃষকদের মাঠে যাচ্ছি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষক লাভবান হবে।"
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে চীন তাদের স্বর্ণের মজুদ রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি করতে চলেছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকান ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বৈশ্বিক আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে নিজেদের রক্ষা করার কৌশল হিসেবে বেইজিং এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, চীনের সাধারণ পরিবারগুলোও অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে নিজেদের সঞ্চয় রক্ষা করতে ব্যাপকভাবে সোনা কেনার দিকে ঝুঁকছে।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘পিপলস ব্যাংক অব চায়না’ টানা ২৩ মাস ধরে স্বর্ণ কেনার রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা একবারে প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাসিক কেনাকাটা। এই নতুন ক্রয়ের ফলে দেশটির মোট স্বর্ণের মজুদ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৪১০ টনে। চীনের মোট রাষ্ট্রীয় রিজার্ভে সোনার অবদান যেখানে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ছিল ৫.৫ শতাংশ, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ তা বেড়ে ৮.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ চীনা নাগরিকরাও পিছিয়ে নেই; চীন গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বার ও কয়েন আকারে স্বর্ণ কেনার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চীন কেন এত বিপুল পরিমাণে সোনা সংগ্রহ করছে—এর পেছনে মূলত শক্তিশালী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে:
আমেরিকান ডলার ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাস
চীনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের (ট্রেজারি বন্ড) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনা। মার্কিন সরকারের দেনা বর্তমানে রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষমতার তুলনায় উদ্বেগজনক। বেইজিংয়ের বিশাল পরিমাণ সম্পদ ডলার-ভিত্তিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কোনো বড় বিপর্যয় চীনকে বড় আর্থিক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। স্বর্ণ কেনায় সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণের ভয়
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্ব যখন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করে, তখন তা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়। বেইজিং আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সাথে কোনো বড় ধরনের সংঘাত হলে তাদের বৈদেশিক সম্পদও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে পারে। কিন্তু নিজের দেশে স্বর্ণ মজুদ রাখলে তা অন্য কোনো দেশের সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা
চীনের সাধারণ মানুষের জন্য স্বর্ণ কেনা একটি নিরাপদ সঞ্চয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দেশটির শেয়ার বাজারের মন্দাভাব এবং আবাসন খাতের সংকট ও দেনার কারণে মানুষ জমি বা শেয়ারে টাকা না ঢেলে স্বর্ণ কিনে নিজেদের সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন।
তবে বিশ্বব্যাংক এবং অর্থনীতিবিদদের অভিমত হলো, চীনের স্বর্ণ কেনার এই উদ্যোগ বৈশ্বিক বাণিজ্যে আমেরিকান ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য রাতারাতি শেষ করে দেবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চালনা ও লেনদেনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে এখনও আমেরিকান ডলারই সবচেয়ে সহজলভ্য ও প্রয়োজনীয় মুদ্রা।
সুতরাং, চীন হঠাৎ করেই ডলার বর্জন করছে না; বরং তারা অত্যন্ত ধীরগতিতে এবং সতর্কতার সাথে তাদের সম্পদের ঝুঁকি কমানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই প্রবণতায় একা চীন নয়, পোল্যান্ডের মতো উদীয়মান অর্থনৈতিক ক্ষমতার দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এখন নিজেদের রিজার্ভে সোনা যুক্ত করতে শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ