প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বাদাম চাষ নিয়ে আশাবাদী, কারণ আবহাওয়া অনুকূল এবং চাষাবাদের পরিবেশ ভালো রয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বালুমিশ্রিত ও দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করে অনেক কৃষক জীবিকা নির্বাহ করেন। কম খরচে বাদাম চাষ করা যায় বলে দিন দিন এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলার ৩ ইউনিয়নে বাদাম চাষের লক্ষ্য মাত্রা ৮৬৭ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ৪৫২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে।
জাউনিয়ার চর পূর্ব জালচিরা পাড়ার কৃষক শফি জানান, "আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি না হলে এবার ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।" তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাদামের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই গ্রামের আমিনুর রহমান জানান, "গতবারের চেয়ে আমি এবার এক একর বেশি চাষ করেছি। কারণ গেল বছর আমার খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।"
কৃষিবিদ রতন মিয়া বলেন, "বাদাম চাষে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।" তিনি বলেন, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে কৃষকদের লাভের পরিমাণও বাড়বে।
চর রাজিবপুর কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বাদাম চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ অঞ্চলে বাদামের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি উপ সহকারী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, "রাজিবপুর যেহেতু চর এলাকা, বাদাম চাষের জন্যে উপযুক্ত মাটি ও পরিবেশ রয়েছে।" তিনি বলেন, এখনও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি এবং সামনে সরকারি প্রণোদনা রয়েছে, বিনামূল্যে বাদামের বীজ ও সার প্রদান করা হবে।
"আমরা নিয়মিত কৃষকদের মাঠে যাচ্ছি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষক লাভবান হবে।"
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন