রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৫৯ পি.এম
বলিউডের অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে সব সময় সাহসী এবং ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তবে, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘনিষ্ঠ বা নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য চাপ দেওয়া—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখার বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসে।
রাধিকা জানান, ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়ে চার-পাঁচটি সিনেমায় নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করার পর, ইন্ডাস্ট্রির কিছু মানুষের মধ্যে তার সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করেছিল, যেহেতু তিনি আগে এমন দৃশ্যে অভিনয় করেছেন, তাই পরবর্তী কাজেও সহজেই এ ধরনের দৃশ্যে রাজি হয়ে যাবেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দৃশ্যে চুম্বনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে অনেক সময় তাকে বলা হতো, "একটু করে নাও"। এমনকি মাত্র ১৫ সেকেন্ডের জন্য দৃশ্যটি ইম্প্রোভাইজ করার প্রস্তাবও দেওয়া হতো। বিষয়টি যে তাকে অস্বস্তিতে ফেলত, তা তিনি স্পষ্ট করেছেন।
শুধু ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নয়, একটি অ্যাকশন দৃশ্যে শুটিং নিয়েও তার অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। রাধিকা বলেন, শার্টের বোতাম না লাগিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যখন তিনি জানান, অ্যাকশন দৃশ্যে শার্ট নড়াচড়া করে সরে যেতে পারে, তখন তাকে শুধুমাত্র ব্রা ও অন্তর্বাস পরে দৃশ্যটি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এমন প্রস্তাবে বিস্মিত হয়ে রাধিকা প্রশ্ন করেন, তাকে দিয়ে আসলে কী করানো হচ্ছে।
২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া রাধিকার সিনেমা ‘পার্চড’-এর একটি নগ্ন দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। তার মতে, সিনেমাটি কেবল ওই একটি দৃশ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অথচ সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির অন্যান্য বিষয় ছাপিয়ে ওই দৃশ্য নিয়েই বেশি আলোচনা হওয়ায় তিনি বিস্মিত হন।
রাধিকা জানান, ‘পার্চড’-এ তার চরিত্রের প্রয়োজনে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, এটি তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট, গল্প ও চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করা এক বিষয়, আর অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমন দৃশ্য যোগ করে অভিনেতাকে তাতে রাজি করানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
বর্তমানে রাধিকা আপ্তেকে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ অ্যান্থলজি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
আজ ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এই কারণে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ড-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।
সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।
২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ তুলেছে। এই ঘটনার পর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের বিভিন্ন তারকা।
সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্টে অপ্রতিমের মৃত্যু নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ঢাকাই সিনেমার নায়ক সিয়াম আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেছেন, "অপ্রতিমের ছবিটার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারছি না। বাবা হওয়ার পর থেকে কোনো শিশুর এমন খবর দেখলে নিজের সন্তানের মুখটাই বারবার চোখের সামনে আসে।"
তিনি আরও বলেন, "একটি সন্তান বিকেলে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসার ঘটনা একজন বাবা-মায়ের জন্য কতটা ভয়ংকর, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।" অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সিয়াম বলেন, "ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসতে হবে এবং কোনোভাবেই সত্য চাপা পড়া উচিত নয়।"
বিচারের দাবি জানিয়ে সিয়াম লেখেন, "সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রতিম, তোমার এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না।" একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সন্তানদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী তৈরির দায়িত্ব সবার।
অভিনেতা রওনক হাসানও অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "আহা! অপ্রতিম! হায়! কোনোভাবেই মানা যায় না! ভাষা নেই! শিউরে শিউরে উঠছি বারবার!"
অন্যদিকে, অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "আহা বাচ্চাটা, বাংলাদেশী হিসেবে সবচাইতে বড় স্বপ্ন হওয়া উচিত বাংলাদেশই ছেড়ে দেওয়া।"
তিনি আরও বলেন, "যারা অলরেডি ছেড়ে গেছেন এই অভিশপ্ত দেশ থেকে বেঁচে গেছেন।" তিনি সকলের কাছে আহ্বান জানান, "সবাই সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু কেউ ন্যূনতম নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে না।"
চিত্রনায়িকা পূজা চেরীও অপ্রতিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "একজন মায়ের একমাত্র সন্তান, একটি পরিবারের স্বপ্ন- এভাবে অকালে ঝরে যাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।"
অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, "ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।"
সংগীতশিল্পী কোনাল ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "বলেছিলাম না, এই দেশটা শিশুদের জন্য নরক! এই দেশে কি আমরা শিশুদের বাঁচতে দিবো না? আমরা এতো অমানুষ কেন?"
শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন এই গায়িকা। তিনি মায়েদের কষ্ট ও অভিশাপের কথা উল্লেখ করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নির্মাতা আশফাক নিপুনও শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "সকল শিশু নির্যাতক আর খুনীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং কঠোর থেকে কঠোর আইন আর শাস্তির বিধান করেন সরকার।"
আইনি জটিলতা ও ফাঁকফোকরের অজুহাত না দিয়ে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ‘বড়ছেলে’ খ্যাত নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান লেখেন, "সন্তানকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না বানিয়ে প্রবাসী বানান। দূরে থাক, তবু বেঁচে থাক।"
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মায়ের আই ফোননিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। এরপর পরিবারের সদস্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন দ্রুত হয়েছিল, অপ্রতিমের ক্ষেত্রেও তেমন হবে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা করবো।"
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, "কুমিল্লার এই মর্মান্তিক ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত।" ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং সন্দেহভাজন চারজনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে অপরাধ স্বীকার করেছে এবং তারা মূলত কিশোর অপরাধী ছিল। ভিকটিমের সাথে তাদের পরিচয় ছিল। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, "এই ধরনের মারাত্মক অপরাধের পেছনে মাদকসহ নানা সামাজিক কারণ যুক্ত থাকে।" কিশোর অপরাধ রোধে স্কুল পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সামাজিক পচন রোধে সরকার ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলো নতুন রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রতিশ্রুতি, দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা, ২০২৪ সালের হত্যাচেষ্টা নিয়ে অভিযোগ এবং বিভিন্ন নীতিগত অবস্থান এসব বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সিএনএনের একটি বিশ্লেষণে গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যদি তাঁর দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ প্রদান করা হবে। তবে অর্থের উৎস ও বিতরণের পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনসহ নানা আইনি ও আর্থিক বিষয় জড়িত।
এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে ২ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের কথাও বলেছিলেন। নতুন ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটির সম্ভাব্য ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে এবং এর বাস্তবায়নে কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির প্রচারণায় গিয়ে ট্রাম্প দুর্যোগ সহায়তা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওই প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী না হলে রাজ্যটিতে অতিরিক্ত দুর্যোগ সহায়তা প্রদান করা হবে। পরে তিনি এটিকে রসিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং জানান যে সহায়তা প্রদান করা হবে। এই মন্তব্য সরকারি সহায়তা ও নির্বাচনী প্রচারণার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে ট্রাম্প ভোটারদের তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে বলেছেন যেন তিনি নিজেও ব্যালটে রয়েছেন। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান দলকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বানে ট্রাম্প নিজেকে প্রচারণার কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তাঁর হত্যাচেষ্টার ঘটনা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এক পোস্টে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই ঘটনাটিকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেন। তবে প্রকাশ্যে তদন্তে হামলাকারী থমাস ক্রুকসের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের কোনো সংগঠিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের আগের যাচাইয়েও ঘটনাটিকে ঘিরে বিভিন্ন ভিত্তিহীন দাবি শনাক্ত করা হয়েছিল।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পের নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ২০০১ সালের হামলার ঘটনাবলি ও তাঁর ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিস্তারিত যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ট্রাম্পের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি।
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়েও নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরদিন এসব সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের প্রেস পাস অকার্যকর বা প্রত্যাহার করা হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে এবং হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন দেখানো হয়নি। তিনি বলেছেন, কয়েক বছরের সম্মিলিত সংবাদ কভারেজের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো জানিয়েছে, তারা সংবাদ সংগ্রহের অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও সম্প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর নিয়োগ দেওয়া কয়েকজন বিচারপতি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অবস্থানের বিপরীতে রায় দেওয়ার পর তিনি তাঁদের নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। এ বিষয়টি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিচার বিভাগের সম্পর্ক এবং বিচারপতিদের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আয়ারল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্প দেশটির পুনঃএকত্রীকরণের সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা বলেন। ১২ সেপ্টেম্বর ডাবলিনে তিনি বলেন, তিনি আয়ারল্যান্ডকে ঐক্যবদ্ধ দেখতে চান এবং একসময় তা ঘটবে বলে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের অবস্থান নিয়ে যুক্তরাজ্যেরও মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দেন এবং নতুন একজন এআই উপদেষ্টা নিয়োগের কথা জানান। তবে উদ্যোগটির কাঠামো, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি। একই সময়ে এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন মহল সতর্কতা জারি করে আসছে।
কেনেডি সেন্টার নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনি বিরোধ চলছে। ট্রাম্পের নাম ভবনের সম্মুখভাগে যুক্ত করার উদ্যোগ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর একটি ফেডারেল বিচারক ওই নাম যুক্ত করার পরিকল্পনা স্থগিত করার আদেশ দেন। এর পর কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়; ট্রাম্প আদালতের সিদ্ধান্ত বদল না হলে সংস্কারকাজে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি যুদ্ধের অবসান নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেপ্টেম্বরে রয়টার্সকে বলেন, সংঘাত বছরের শেষের দিকে শেষ হতে পারে, এমনকি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা চলতে পারে। যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজার, মার্কিন সামরিক ব্যয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পড়ছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়েও সাম্প্রতিক জরিপে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসস জরিপে তাঁর কাজের অনুমোদন ৩৫ শতাংশ ছিল। একই জরিপে ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের অর্থপ্রদানের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। এই জরিপ নির্দিষ্ট সময়ের জনমতকে প্রতিফলিত করে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে ফলও বদলাতে পারে।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি, আদালতের সঙ্গে সংঘাত এবং বিভিন্ন পররাষ্ট্র ও প্রযুক্তিনীতি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁর সমর্থকেরা এসব পদক্ষেপকে প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও বিভিন্ন নাগরিক ও গণমাধ্যম সংগঠন কয়েকটি পদক্ষেপের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যগুলো শুধু তাঁর প্রশাসনের নীতির অংশ হিসেবেই নয়, কংগ্রেস নির্বাচনকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব পদক্ষেপের নির্বাচনী প্রভাব কী হবে, তা নির্ধারণ করা এখনো সম্ভব নয়; জনমত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিবর্তিত হতে পারে। তথ্যসূত্র: সিএনএন, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ