ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিয়ের আয়োজনের জন্য ১৭ কোটিতে প্রাসাদ ভাড়া, হবু বরকে পাহাড়চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা


বিয়ের আয়োজনের জন্য ১৭ কোটিতে প্রাসাদ ভাড়া, হবু বরকে পাহাড়চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা

একটি স্বপ্নময় বিয়ের আয়োজনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন ছিল, তার সবই করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘটনা একটি মর্মান্তিক মোড় নিল। হবু বরকে হত্যা করা হয়, যা কনে এবং তার প্রেমিকের যৌথ পরিকল্পনা বলে মনে হচ্ছে।

ভারতের মহারাষ্ট্রের এক পরিচিত ব্যবসায়ীর ছেলে, কেতন আগারওয়াল ছিলেন। পুনের নিকটবর্তী লোহাগড় দুর্গের কাছে ছবি তোলার সময় তিনি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। আকস্মিক এই ঘটনাটি বিয়ের উৎসবকে শোকের রূপ নিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, কেতন আগারওয়ালকে তার বাগদত্তা এবং প্রেমিক মিলে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দিয়েছে। এই ঘটনার বর্ণনা পুলিশ ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেছে। ঘটনাটি দুই পরিবার এবং তদন্তকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো মানুষ কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে?’

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কেতন আগারওয়াল তার বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের জন্মদিন উদযাপন করার জন্য লোহাগড়ে ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান আগামী নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কেতন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু আকস্মিকভাবে সেই স্বপ্নে ছেদ পড়েছে।

ঘটনার পরে তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে কেতনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সিয়া প্রথমে পুলিশকে বলেছেন যে, কেতন ছবি তোলার সময় পা পিছলে খাদে পড়ে যান।

কিন্তু তদন্তে গিয়ে পুলিশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পায়। মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বয়ান থেকে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এর ফলে পুলিশ সিয়াকে এবং তার প্রেমিককে আটক করে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সিয়া গোয়াল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে পাহাড়চূড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে গভীর খাদে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এখন দেখতে চাচ্ছে অন্য কোনো ব্যক্তি এই ষড়যন্ত্রে সহযোগিতা করেছে কি না।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

কেতন আগারওয়াল ছিলেন পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের (পুনে) একটি নামকরা নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান রাজস্থানের উদয়পুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার জয়পুরের একটি প্রাসাদ ১৭ কোটি টাকায় বুকিং করেছিল।

অতিথিদের জন্য দুটি প্রাইভেট প্লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিয়ের প্রস্তুতিগুলি পুরোদমে চলছিল। এক আত্মীয় বলেন, ‘দুই পরিবারই খুব খুশি ছিল। এই ঘটনা সবার জন্য বিরাট ধাক্কা।’

পুলিশের মতে, সিয়া গোয়াল কেতনকে বিয়ে করতে চাননি। তিনি তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং তার প্রেমিক চেতনের সাহায্য নেন। জন্মদিনের অজুহাতে সিয়া কেতনকে লোহাগড়ে নিয়ে যান। সুযোগ পেয়ে সিয়া ও চেতন মিলে কেতনকে খাদে ধাক্কা দেন।

এসএসপি সন্দীপ সিং গিল জানান, চেতনের সঙ্গে সিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা দুজন একসঙ্গে কাজ করতেন। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে আমরা দেখেছি চেতনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং দুই আসামিরা কেতন আগারওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার কথা স্বীকার করেছে।’

আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার

এই ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং আরও তদন্ত চলছে। সন্দেহভাজন দুই আসামিকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার

ফরিদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ওই আদেশে বলা হয়, ‘বর্ণিত কর্মকর্তা জনাব সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ডিবি, সদর জোন, ফরিদপুরকে প্রশাসনিক কারণে ডিবি, সদর জোন থেকে প্রত্যাহার করা হলো।’ পত্রে ওই কর্মকর্তাকে ওই দিন দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে।

নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তর (২৭) পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ প্রান্তকে তার নিজ বাড়ি মধুখালী পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে দুই পুরিয়া গাঁজাসহ আটক করে। সে সময় প্রান্তর মায়ের সামনেই তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশি নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।

আটকের পর ওই রাতে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় প্রান্ত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রোববার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২২ জুন) প্রান্তের জানাজার আগে এলাকার লোকজন তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এসময় মহাসড়ক ধরে শত শত যানবাহন আটকে পড়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে মৃত ইশতিয়াকের পরিবারের বিশেষ অনুরোধে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।

এদিকে সোমবার (২২ জুন) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিনজন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতারা এই ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদের ফলে মঙ্গলবার দুপুর ১টার মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশ শাখার সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

এছাড়া এই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ নেই।

ঘটনার দিন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে পেরেছি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত কারণে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, পুলিশ হেফাজতে তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। যেহেতু পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেয়া হলে মারা যান, এই বিষয়ে যাতে কোনো সন্দেহের উদ্বেগ না থাকে, সে কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে রেকর্ড দাবদাহ: গলে যেতে পারে রাস্তা, গাড়িচালকদের যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


যুক্তরাজ্যে রেকর্ড দাবদাহ: গলে যেতে পারে রাস্তা, গাড়িচালকদের যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র দাবদাহের কারণে, যেসব গাড়িতে কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা এসি ব্যবস্থা নেই, সেই সব চালকদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দূরপাল্লার যাত্রা স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশটির মোটরচালকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন আরএসি এই জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে, তীব্র গরমের কারণে রাস্তায় গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায়, উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। এজন্য চালকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর বুধ ও বৃহস্পতিবারের জন্য তীব্র দাবদাহের চরম সতর্কতা বা ‘রেড ওয়েদার ওয়ার্নিং’ জারি করার পর এই নির্দেশনা এলো। আরএসি-র সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক মুখপাত্র রড ডেনিস জানান, এ ধরনের চরম সতর্কতা সচরাচর দেখা যায় না, তাই এটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, যেসব গাড়ির এসি ঠিকঠাক কাজ করছে না, তাদের আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আর যদি যাত্রা করা একান্তই জরুরি হয়, তবে দিনের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়ে ভ্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

চলতি জুনে গাড়ি বিকল হওয়ার সংখ্যার দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাধারণ সোমবারের তুলনায় গাড়ি বিকল হওয়ার হার প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে আরেক মোটর অ্যাসোসিয়েশন ‘এএ’-এর প্রেসিডেন্ট এডমন্ড কিং জানান, গরমের তীব্রতায় রাস্তা সুরক্ষায় শীতকালের মতো বিশেষ গাড়ি বা গ্রিটার মোতায়েন দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শীতকালে বরফ গলানোর জন্য এই গাড়িগুলো লবণ ছিটায়, কিন্তু তীব্র গরমে পিচ গলতি ঠেকাতে এগুলো বালুর আস্তরণ দিতে পারে। বাতাসে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির মাঝামাঝি হলে রাস্তার উপরিভাগের তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। গত মাসেই ইস্ট অ্যাংলিয়ার বেশ কিছু রাস্তা গরমে গলে যাওয়ার নজির দেখা গেছে।

কিং সতর্ক করে বলেন, রাস্তা পুরোপুরি গলে না গেলেও কিছু কিছু অংশ নরম ও আঠালো হয়ে যেতে পারে, যা গাড়ির ব্রেকিং ও স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সাইকেলচালকদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতি এড়াতে গতি কমানো এবং সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, তীব্র গরমে গাড়ির টায়ারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যার ফলে টায়ার বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে। একইসঙ্গে কোনো অবস্থাতেই পার্ক করা গাড়ির ভেতর পোষ্যপ্রাণীদের রেখে না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, কারণ বন্ধ গাড়ির ভেতর নিমেষেই চুল্লির মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

দাবদাহের এই ক্ষতিকর প্রভাব কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ নেই, রেল যোগাযোগেও ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে রেললাইন এবং পয়েন্টের মতো ধাতব যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নেটওয়ার্ক রেল বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে লন্ডন প্যাডিংটন থেকে রেডিং রুটে গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে কম ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ট্রান্সপোর্ট ফর ওয়েলস এবং সাউথ ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে নেটওয়ার্কেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রীদের শেষ মুহূর্তে ট্রেন বাতিল বা সূচি পরিবর্তনের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশা চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে বড় প্রত্যাশা চীনের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে বেইজিং।

একই সঙ্গে তারা ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা ত্বরান্বিত, সব খাতে পারষ্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় জোরদার করার আশাও করছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্র এই দেশটি।

সোমবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব প্রত্যাশার কথা জানান।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সফর করছেন।

তার সফরের বিষয়ে চীনা সংবাদমাধ্যম ‘চায়না ডেইলি’র সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গুও জিয়াকুন বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর চীন এটি। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হবে। দুই দেশের নেতারা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবেন।”

এই সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিতব্য সামার দাভোস ২০২৬ সম্মেলনেও অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “চীন ও বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদার। গত কয়েক বছরে দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য দৃশ্যমান সুফল বয়ে এনেছে।”

গুও জিয়াকুন বলেন, “চীন আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার হবে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়বে।”

এছাড়া বহুপক্ষীয় বিষয়ে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছে বেইজিং, বলেন তিনি।

সূত্র: চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে শিশু আদিব হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


রাজশাহীতে শিশু আদিব হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন

রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানা এলাকার বহুল আলোচিত ও ‘ক্লু-লেস’ শিশু আদিব আহনাফ হত্যা মামলার রহস্য অবশেষে উদ্‌ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

একটি অনৈতিক সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেয়ার জের ধরে আক্রোশ ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আদিবকে পরিকল্পনামাফিক হত্যা করে ১১ বছর বয়সি এক কিশোর।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রমজানে ১ মার্চ (রোববার) রাতে তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি শিশু আদিব আহনাফ। পরদিন সোমবার সকালে কর্ণহার থানার বিলধর্মপুর গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা তার বাবার ঘাস ক্ষেত থেকে পাওয়া যায়।

মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় প্যান্টের বেল্ট প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শুরুতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আরএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. হাফিজুর রহমান (বিপিএম-সেবা)-এর তত্ত্বাবধানে মামলাটি পরবর্তীতে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় রোববার (২১ জুন) অভিযানে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও জড়িত ওই ১৪ বছরের কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন সোমবার (২২ জুন) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে, সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ওই কিশোর জানায়, এক মেয়ের সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা ভিকটিম শিশু আদিব জেনে যায় এবং তা ওই মেয়ের মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়ের মা বিষয়টি অভিযুক্ত কিশোরের মাকে জানালে, তার মা তাকে ব্যাপক মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সে হত্যার পরিকল্পনা করে।

রমজান মাসে আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে, অভিযুক্ত কিশোর কৌশলে তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে আদিবের মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় সে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোমরের বেল্টটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%