ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬

পিরোজপুরের ২৪ শিক্ষকের ৭ পরীক্ষার্থী, পাশ করেনি কেউ


পিরোজপুরের ২৪ শিক্ষকের ৭ পরীক্ষার্থী, পাশ করেনি কেউ

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, পিরোজপুরের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কলেজ থেকে অংশ নেওয়া সাত পরীক্ষার্থী কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- নাজিরপুরের দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এবং পিরোজপুর সদরের কদমতলা জর্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে মোট ২৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের পাঁচজন এবং কদমতলা জর্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন পরীক্ষার্থী এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সাতজনের মধ্যে কেউই পাশ করতে পারেনি।

সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর দীঘিরজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখা ২০১৪ সালে পাঠদানের অনুমতি লাভ করে। গত চার বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এখানে উত্তীর্ণের সংখ্যা অনুত্তীর্ণের তুলনায় বেশি। ২০২৩ সালে কলেজটি থেকে ৩৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৮ জন উত্তীর্ণ হয়। ২০২৪ সালে ২৭ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং ২০২৫ সালে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন পাশ করে। ২০২৬ সালে মানবিক বিভাগের পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাশ করতে পারেনি। এখানে শিক্ষক সংখ্যা আটজন এবং কর্মচারী দুজন।

আরও পড়ুন: হাবিপ্রবিতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে রিডিং রুম উদ্বোধন

অন্যদিকে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা জর্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখা ২০২৩ সালে পাঠদানের অনুমতি পায়। শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার পাশের হার কম। ২০২৩ সালে ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন উত্তীর্ণ হয়। ২০২৪ সালে ৭ জনের মধ্যে ৩ জন এবং ২০২৫ সালে ৭ জনের মধ্যে ৪ জন পাশ করে। চলতি বছর তিনজন পরীক্ষার ফরম পূরণ করলেও অংশ নেয় দুজন, এবং তাদের দুজনই ফেল করেছে।

তবে একই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত চার বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার তুলনামূলক ভালো। ২০২৩ সালে ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জন উত্তীর্ণ হয়। ২০২৪ সালে ৭৫ জনের মধ্যে ৬৯ জন, ২০২৫ সালে ৭০ জনের মধ্যে ৪৮ জন এবং ২০২৬ সালে ৫০ জনের মধ্যে ৪৫ জন পাশ করে। চলতি বছর এসএসসিতে প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ৮৬ শতাংশ। এখানে শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন এবং কর্মচারী দুজন।

এদিকে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর। বরিশাল জেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে গত দুই বছরে পিরোজপুরে এইচএসসিতে পাশের হার ৩১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে। ২০০৯ সাল থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারই জেলাটিতে সর্বনিম্ন পাশের হার দেখা গেছে।

শনিবার সকালে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলাভিত্তিক ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আরও পড়ুন: আজ থেকে কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু

এ বছর পিরোজপুর জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ হাজার ৭৮২ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬ জন। জেলায় পাশের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ জন শিক্ষার্থী।

জেলার গত কয়েক বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পাশের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ০৭ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে পাশের হার আরও কমে ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে আসে।

কদমতলা এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. সাইদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "গত বছর এ কলেজে নতুন করে কেউ ভর্তি হয়নি। গত বছর যে দুজন শিক্ষার্থী ছিল, তারাই এবার পরীক্ষা দিয়েছে। তারা গত বছরও ফেল করেছে, এ বছরও ফেল করেছে। তাই কলেজ শাখার ফল খারাপ হয়েছে। কলেজটি যদি এমপিওভুক্ত হয় এবং সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পায়, তাহলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এখানেই ভর্তি হবে। এতে ফলাফলও ভালো হবে বলে আশা করি।"

স্থানীয় আরেক অভিভাবক সুমি আক্তার বলেন, "এখানে স্কুল শাখার পাশাপাশি কলেজ শাখায়ও ফলাফল ভালো হয়। তবে আমরা জানতে পেরেছি, গত বছর যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল, তারাই এ বছর পরীক্ষা দিয়ে আবারও ফেল করেছে।"

আরও পড়ুন: বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর মোড়ক উন্মোচন

কদমতলা এলাকার দুই বাসিন্দা মো. মাসুম বিল্লাহ ও সুলতানা জেসমিন মাহিনুর বলেন, "আমরাও এখানে লেখাপড়া করেছি। এখানে এসএসসির ফলাফল খুব ভালো হয়। ২০২৩ সালে এখানে কলেজ চালু হয়েছে। কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এখান থেকে এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজে ভর্তি হয়। কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে এখানকার স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখানেই ভর্তি হতে পারবে। তাহলে আমাদের সন্তানদের দূরের কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে না। আমরা জোর অনুরোধ জানাই, আমাদের এই কলেজটি যেন এমপিওভুক্ত করা হয়।"

নাজিরপুর দীঘিরজান সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক সুমন বিশ্বাস বলেন, "২০১৪ সালে কলেজটি পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকরা সরকারিভাবে কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে তারা আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।"

পিরোজপুর সদরের কদমতলা জর্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, "আমাদের বিদ্যালয় শাখার ফলাফল ভালো। কলেজ শাখার পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর থেকে ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল। তবে এ বছর নতুন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থার উন্নতি করতে হলে কলেজ শাখাটিকে এমপিওভুক্ত করা জরুরি।"

তিনি আরও বলেন, "এটি গ্রাম পর্যায়ের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে কলেজ শাখায় পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। ফলে বিদ্যালয় শাখার শিক্ষকদের দিয়েই কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে প্রয়োজনীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে বিদ্যালয় শাখার শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য শহরমুখী হতে হবে না। তারা নিজ প্রতিষ্ঠানেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলও ধরে রাখা সম্ভব হবে।"

আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন

বরিশাল অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, "যেসব প্রতিষ্ঠান পাশ করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে জেলাভিত্তিক একটি সভা করব। যেসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাশ, সেগুলোর বেশিরভাগই নন-এমপিও। আমরা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলো তো চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি সমাধানে যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে ৩৩ নিষিদ্ধ সংগঠন সদস্য গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৮ পি.এম


গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে ৩৩ নিষিদ্ধ সংগঠন সদস্য গ্রেফতার

গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে তারা নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৯ পি.এম


বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পেশাদার সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রিমন, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মাহমুদুর রহমান মোর্শেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. বেলাল হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর শহরের বি-রিভার ক্যাফে রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সাধারণ সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান রোমান। এ ছাড়া বক্তব্য প্রদান করেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান সালাম, সাংবাদিক জাকির জোমাদ্দার এবং দক্ষিণের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পর পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

নবনির্বাচিত রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই সংগঠন সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও পেশাগত সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁরা আরও বলেন, নবগঠিত কমিটি বাকেরগঞ্জে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চা, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎রাঙ্গামাটিতে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে চারা বিতরণ, বিডি ক্লিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎ ‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


‎রাঙ্গামাটিতে প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে চারা বিতরণ, বিডি ক্লিনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্লাস্টিক দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি ‘বোতলের বিনিময়ে গাছ’ আয়োজন করেছে বিডি ক্লিন রাঙ্গামাটি টিম। কর্মসূচিতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল জমা দিয়ে বিনিময়ে চারা গাছ সংগ্রহ করেন শিক্ষার্থীসহ অংশগ্রহণকারীরা।
‎
‎‘প্লাস্টিক বোতল দিন, চারা গাছ নিন’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল যত্রতত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করা।
‎
‎কর্মসূচিতে প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি বিভিন্ন প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব, প্রকৃতির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীগুলো শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
‎
‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নাসিমুল হক, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনোয়ার কবীর এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অনির্বাণ বড়ুয়া।
‎
‎কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ রক্ষার শপথ নেন। এ সময় তাঁরা প্লাস্টিক বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হওয়া এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
‎
‎আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য মাটি, নদী, খাল ও জলাশয়ের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল যথাযথভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।
‎
‎তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন আয়োজকরা।
‎
‎‘সবুজ হোক মন, সবুজ হোক পৃথিবী’—এ প্রত্যয়ে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিডি ক্লিন রাঙ্গামাটি টিমের সদস্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের তিন দফা দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের ফলে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সকাল ৮টা থেকে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিলে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। শ্রমিকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং ব্ল্যাকলিস্ট প্রথা বাতিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের ভেতরে আটকে থাকা নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা অসহনীয় কষ্টের মুখে পড়েন। কারও হাতে জরুরি চিকিৎসার কাগজ ছিল, কারও গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া ছিল, আবার কেউ কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছিলেন।

অনেক যাত্রীকে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তি নিয়ে গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা মানুষের চোখেমুখে অসহায়ত্ব ও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও শিশুদের কষ্ট ছিল বর্ণনাতীত।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান।

তাঁদের নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। শ্রমিকদের দাবি ও ক্ষোভের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মালিকপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, "শ্রমিকেরা আমাদের দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাঁদের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প। একজন শ্রমিক যখন ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা ও সম্মানের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হন, তখন বিষয়টি আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। আমি শ্রমিক ভাইদের বলতে চাই, আপনাদের ন্যায্য দাবির প্রতি আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। কিন্তু মহাসড়ক অবরোধের কারণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, রোগী, নারী, শিশু ও শিক্ষার্থী যে কষ্টের শিকার হচ্ছেন, সেটিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। একজন অসুস্থ রোগী যদি যানজটে আটকে চিকিৎসা নিতে না পারেন, একটি শিশু যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও পানির কষ্টে থাকে, একজন কর্মজীবী মানুষ যদি জীবিকার তাগিদে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারেন, সেই কষ্ট আমাদের সবার কষ্ট। আমি চাই, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। শিল্পকারখানা সচল থাকুক, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হোক এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ না হোক। সংঘাত নয়, আলোচনাই হোক সমাধানের পথ।"

এদিকে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম প্রকরণ হোসাইন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন।

তিনি বলেন, "কালিয়াকৈর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন এবং প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। আজকের এই অবরোধে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগীসহ হাজার হাজার মানুষ যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যাঁরা রাস্তায় বের হয়েছেন, তাঁদের ভোগান্তি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা চাই, শ্রমিকদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হোক। কোনো অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি কাম্য নয়। প্রশাসন, শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকল পক্ষকে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।"

এমপি ও শ্রমিক নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিকেলের দিকে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। একপর্যায়ে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিজ নিজ কারখানায় ফিরে যেতে শুরু করেন। ফলে চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

তবে চন্দ্রা এলাকায় অবরোধ প্রত্যাহার হলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কালিয়াকৈর থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত মহাসড়কের কিছু অংশে যান চলাচল শুরু হলেও পরবর্তী অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত বাস, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকে থাকে।

মহাসড়কে আটকে থাকা যাত্রীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শ্রমিকদের দাবি থাকতেই পারে, তাঁদের ন্যায্য অধিকারও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কিন্তু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতে হয় নিরীহ যাত্রীদের।"

কালিয়াকৈরের এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কীভাবে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও মহাসড়কে মানুষের চলাচল সচল রাখা যায়।

একদিকে শ্রমিকের ঘামে গড়ে ওঠা শিল্প, অন্যদিকে সেই শিল্পাঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। তাই শ্রমিকদের দাবি, মালিকপক্ষের দায়িত্ব এবং সরকারের কার্যকর উদ্যোগ- সবকিছুর সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। কোনো শ্রমিক যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, আবার কোনো যাত্রীকেও যেন রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাতে না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%