০৮:০৪ পি.এম
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লোহার পাইপ বসিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মিরকাদীম পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে জানা গেছে, পৌরসভা ও ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ কাজ করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমন্বয় করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চসার ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিবাজার স্টিমারঘাট এলাকার চৌরাস্তা এবং বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে নয়নের খালের ওপর অবস্থিত কালভার্টের দুই পাশে লোহার পাইপ স্থাপন করা হচ্ছে। সেখানে আহসান নামে এক মিস্ত্রি শ্রমিকদের নিয়ে পাইপ বসানোর কাজ করছিলেন।
আরও পড়ুন: সুলতানি আমলের প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে
কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান বলেন, পৌরসভার নির্দেশেই পাইপ বসানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ে এই এলাকায় ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে এলাকাটি পৌরসভার আওতাভুক্ত নয়, ইউনিয়ন এলাকায় পৌরসভার উদ্যোগে কাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই কাজটি করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ফিরিঙ্গিবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যবাহী ট্রাক এসে এখানে মালামাল ওঠানামা করে। এ কারণে সকালে স্বল্প সময়ের জন্য কিছু যানজট সৃষ্টি হলেও দিনের বাকি সময়ে তেমন কোনো যানজট থাকে না।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, লোহার পাইপ বসিয়ে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে যানজট আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে পাইপে তালা লাগানো ও খুলে দেওয়ার জন্য লোক নিয়োগ করতে হবে, যা সরকারি অর্থের অপচয়। আবার লোক নিয়োগ না হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন করে চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এ ছাড়া ইউনিয়ন এলাকায় পৌরসভার এমন উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের জোনাব বাহিনীর প্রধান জোনাব আলী আটক
এ বিষয়ে মিরকাদীম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়নের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ কাজ করা হচ্ছে।
পঞ্চসার ইউনিয়নের সচিব রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
অন্যদিকে পঞ্চসার ইউনিয়নের প্রশাসক এস এম আব্দুর রহমান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ইউনিয়ন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই কাজটি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানি না।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজশাহী মহানগর বিএনপির জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন