ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৈয়দপুরে ইএমই কোরের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত


সৈয়দপুরে ইএমই কোরের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ইএমই) সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে (ইএমইসি অ্যান্ড এস) অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৬ সালের জন্য বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলন এবং ৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে ইএমই কোরের সব ইউনিটের অধিনায়ক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন সেনাপ্রধান।

তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ইএমই কোরের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সেনাপ্রধান যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর অস্ত্র, যানবাহন এবং সামরিক যন্ত্রপাতির সুরক্ষায় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ইএমই কোরের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও পেশাদারির প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

কোরের সার্বিক উন্নয়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইএমই কোরের প্রত্যেক সদস্যকে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

৬ষ্ঠ কোর পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে মনোমুগ্ধকর পুনর্মিলনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন কোরের সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক ঐক্য, সৌহার্দ্য এবং পেশাগত মমত্ববোধকে আরো সুদৃঢ় করে। তিনি সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানান যে, আগামীতে দেশ ও জাতির সার্বিক সেবায় আত্মনিবেদিত থাকতে হবে।

উক্ত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ইএমই কোরের কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও বাংলাদেশ রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ডের (বিআরইবি) চেয়ারম্যান, সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স, ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড), সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল, ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও রংপুর এলাকা কমান্ডারসহ সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ইএমই কোরের বিভিন্ন ইউনিটের অধিনায়কগণ, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্যরা এতে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে

জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে।

আজ সোমবার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্বিকভাবে সার্থক হয়েছে। এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে চার দিনের সফরে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন। তিনি বলেন, এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী অতিথিরা বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন, দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং কেনার চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোয়িং কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের দেশের চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনছি। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর প্রয়োজন,’ বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এখানে কোনো লুক্কায়িত এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা আরো কিনব। যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হওয়ার জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সির নতুন ভিসিকে স্বাগত, শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সির নতুন ভিসিকে স্বাগত, শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি

ঢাকার সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘকাল ধরে চলা প্রশাসনিক জটিলতা, সেশনজট, ফলাফল প্রকাশে দেরি, শিক্ষক সংকট এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য সোমবার দুপুর ১টায় ঢাকা কলেজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার আয়োজনসহ ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। সম্প্রতি তাকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর, সংকট সমাধানে তার নেতৃত্বে কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে তারা আশাবাদী। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৭ দফা দাবি হলো—

১. সেশনজট নিরসন

২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।

২. ফি কমানো: সেশন ফি ও পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমাতে হবে।

৩. পূর্ণাঙ্গ প্রশাসন ও একাডেমিক কাঠামো: দ্রুততম সময়ে একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট গঠন করে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে এবং আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে।

৪. একাডেমিক অবকাঠামোর উন্নয়ন: প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানসম্মত একাডেমিক ও পাঠদানের পরিবেশ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং গবেষণার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে।

৫. স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন ও টিএসসি: ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ ও নিশ্চিত করতে হবে।

৬. আবাসন সংকট নিরসন: শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে প্রতিটি ক্যাম্পাসে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন আবাসিক হল নির্মাণ করতে হবে।

৭. পরিবহন সংকট নিরসন: শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতিটি ক্যাম্পাসে পর্যাপ্তসংখ্যক পরিবহন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদের ভিত্তিতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন না হওয়ায় দেশে মবতন্ত্র: জেডিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


জুলাই সনদের ভিত্তিতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন না হওয়ায় দেশে মবতন্ত্র: জেডিপি

জুলাই সনদের আলোকে ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠন না করার কারণে দেশে ‘মবতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির বক্তব্য, পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা ব্যাহত হচ্ছে।

মব সন্ত্রাস ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আশুলিয়ার তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে দায়ী করেছে দলটি। তারা দাবি করেছে, জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া এবং পরে সেখানে যুবদলকে মব করার সুযোগ দেওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরে জুলাই সনদের ৬৯ নম্বর দফায় স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে কোনো দল নোট অব ডিসেন্ট দেয়নি।

নাঈম আহমাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও অবস্থান দেখে তাঁদের আশঙ্কা হচ্ছে, পুলিশকে আবারও দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না। তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরাও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চান।

জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি প্রসঙ্গে নাঈম আহমাদ বলেন, পুলিশ লিখিত অনুমতি দেওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো ন্যায্য নয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় যুবদলকে সেখানে মব করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের নৈতিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস আরও দুর্বল হচ্ছে।

জেডিপির আহ্বায়ক প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলে দলটির অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে জাসদ কেন নিষিদ্ধ নয়। তিনি আরও জানতে চান, পুলিশ কেন জাসদকে কর্মসূচি পালনের লিখিত অনুমতি দিয়েছিল।

পুলিশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাঈম আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের পুলিশব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোর শিকড় ঔপনিবেশিক আমলে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ভিত্তিতে এ অঞ্চলে পুলিশব্যবস্থা গড়ে তোলে। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের সেবা নয়, ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব ও শোষণ বজায় রাখা।

তিনি বলেন, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এখনো বহাল রয়েছে। যদিও বিভিন্ন সময়ে কিছু সংশোধন হয়েছে, তবে এর মূল দর্শন ও কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। ফলে পুলিশকে জনগণের সেবক হওয়ার পরিবর্তে সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়ে গেছে।

নাঈম আহমাদ পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন, পদোন্নতি ও পুরস্কারের সংস্কৃতির অভিযোগও করেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে সরকারি নির্দেশ বিনা প্রশ্নে পালনকারী এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক কর্মকর্তা পুরস্কার, পদোন্নতি ও পছন্দের পদায়ন পেয়েছেন। বিপরীতে ভিন্নমত পোষণকারীদের শাস্তিমূলক পদায়ন কিংবা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে নাঈম আহমাদ বলেন, আদালতের রায়ের পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত একজনের ‘আমি শুধু সরকারের নির্দেশ পালন করেছি’ ধরনের বক্তব্য এমন একটি কাঠামোর প্রতিফলন, যেখানে সরকারি নির্দেশ অন্ধভাবে পালন করাকেই পেশাদারিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পুলিশ সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন জেডিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবসহ নতুন পুলিশ অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ সংস্কারের দাবি আবারও জোরালো হয়। এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে। তবে পরবর্তী সময়ে তা কার্যকর আইনে পরিণত না হওয়ায় অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা লোপ পায়।

তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকারও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশকে কার্যকর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাতেও পুলিশ সংস্কারবিষয়ক সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নাঈম আহমাদ বলেন, একটি কার্যকর স্বাধীন পুলিশ কমিশন থাকলে পুলিশকে কোনো দলের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কমে যাবে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের দাবি জানায় জেডিপি। নাঈম আহমাদ বলেন, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ কোনো সংশোধন ছাড়াই আইন হিসেবে পাস করতে হবে এবং পুলিশের আইনি দর্শন ও কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি আগামী সংসদ অধিবেশনে পুলিশ কমিশন গঠনের আইন পাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সরকারের দিকেও জনগণের আঙুল উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক মুত্তাকী বিন মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইয়াসিন আরাফাত রাজ, মো. মুহিব্বুল্লাহ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষ দূতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষ দূতের

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৭৯তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ সহ-আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সভাটির প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবিলিটি"।

২০১৭ সালের ভয়াবহ গণ-বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পার হতে চললেও, বাংলাদেশে এখনও ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে প্রতি বছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু জন্ম নিচ্ছে, যাদের কাছে এই দীর্ঘ স্থানচ্যুতিই একমাত্র বাস্তবতা।

বিশেষ দূত জুলি বিশপ বলেন, ‘‘২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর জন্য তার পুরো শৈশবটাই এখন এক দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতির নাম।’’

বিশাল সংখ্যক এই জনসংখ্যার আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে অনন্য ও অসাধারণ দায়িত্ব পালন করছে, সভায় তার ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশপ। তিনি সতর্ক করেন যে, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং নারীদের সুরক্ষার মতো জীবনরক্ষাকারী মূল পরিষেবাগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের সামরিক শাসক দল (নেপিডো) যখন ঢাকার সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শরণার্থী প্রত্যাবাসনের দাবি করছে, তখন জুলি বিশপ সেখানে বাস্তবভিত্তিক ও জটিল প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যের (আরাকান) বেশিরভাগ অঞ্চলই এখন সশস্ত্র গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি'র (এএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাখাইনের ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি এবং প্রতিবেশী চিন রাজ্যের পালেতওয়া উপজেলা বর্তমানে তাদের দখলে।

চলমান এই সহিংস সংঘাতের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘মিয়ানমারের রাখাইন বা অন্য কোথাও রোহিঙ্গাদের জন্য স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।’’

তড়িঘড়ি করে প্রত্যাবাসন চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা এখনই রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে ফেরত পাঠানোর কথা বলছেন, তারা মূলত বিদ্যমান ঝুঁকিগুলোকে উপেক্ষা করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কোনো সম্প্রদায়কেই পুনরায় বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।’’

জটিল এই অচলাবস্থার কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি মানব পাচার, জোরপূর্বক সৈন্যে নিয়োগ এবং বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক নৌ-যাত্রার বৃদ্ধির বিষয়টি উপস্থাপন করেন। শিবিরগুলোর করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রতি শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার উচ্চ হার আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক করুণ ও জরুরি সতর্কবার্তা।’’

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দ্য গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, স্থায়ী সমাধানের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, "বিচারহীনতার সংস্কৃতির ওপর কখনোই টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।"

সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত। এর মধ্যে রয়েছে: বৈশ্বিক পর্যায়ে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দৃষ্টি বজায় রাখা, মানবিক তহবিলের ঘাটতি পূরণ করা এবং আসিয়ান-এর পাঁচ দফা সম্মতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা। উল্লেখ্য, এটি মিয়ানমার সম্পর্কিত আসিয়ান-এর একটি শান্তি পরিকল্পনা, যা ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করেননি।

সবশেষে বিশপ বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনীহা বা উদাসীনতার মাশুল রোহিঙ্গাদের দেওয়া উচিত নয়। কোনোভাবেই এটি যেন একটি 'ভুলে যাওয়া সংকটে' পরিণত না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%