০৯:০৮ এম
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভোট দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা ১ কোটি অতিক্রম করতে পারবে না। এ বিষয়ে রোববার (১৪ জুন) গণভোটে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে ভোটারদের। প্রস্তাবটিকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিবাসন সুইজারল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ, নাকি বাড়তি চাপ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার ভোট নিচ্ছে দেশটি। ওয়াচারদের দাবি, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভোট দিচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা ১ কোটি অতিক্রম করতে পারবে না। আর জনসংখ্যা ৯৫ লাখ ছাড়ালেই সরকারকে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টির দাবি, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি বিভিন্ন খাতে চাপ তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ৯ মাসে নিহত ৭৬, ৩৪ কিলোমিটারে রোড সাইন নেই
২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯১ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশই অভিবাসী। প্রস্তাবের সমর্থকদের অভিযোগ, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে ট্রেনে ভিড়, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, স্কুল ও সামাজিক সেবার ওপর চাপ বেড়েছে। তাদের ভাষায়, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ না করলে সুইজারল্যান্ডের স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে। তাদের মতে, প্রস্তাবটি বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে হোটেল, হাসপাতাল ও বৃদ্ধসেবা খাতে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দিতে পারে। কারণ এসব খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের হোটেল কর্মীদের প্রায় অর্ধেকই অভিবাসী।
জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড থেকে অবাধ চলাচল সংক্রান্ত কিছু চুক্তি বাতিল করতে হতে পারে। বিরোধীদের যুক্তি, দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। ফলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি সচল রাখা এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে আরও তরুণ কর্মী প্রয়োজন হবে, যা অভিবাসন ছাড়া পূরণ করা কঠিন।
আরও পড়ুন: সমবায় আন্দোলনকে যুগোপযোগী করার তাগিদ রাষ্ট্রপতির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন