০৮:৪৯ এম
‘আসবার কালে আসলাম একা…’—নগর বাউল জেমসের কণ্ঠে এই বহুল জনপ্রিয় গানের সুর বেজে উঠতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো দর্শক। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠ সার্সেলের খোলা মাঠটি যেন মুহূর্তেই রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কণ্ঠ মিলিয়ে তারা গাইতে থাকেন।
এরপর একের পর এক জনপ্রিয় গানে প্রায় তিন হাজার দর্শককে মাতিয়ে রাখেন নগর বাউলখ্যাত এই রকশিল্পী। দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি, উচ্ছ্বাস আর গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’-এর পুরো আয়োজন।
রবিবার (২ আগস্ট) প্যারিসের উপকণ্ঠ সার্সেলের একটি খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসব। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় নিবন্ধনের মাধ্যমে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার আহ্বান
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ আয়োজনে অংশ নেন তিন হাজারেরও বেশি দর্শক।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ‘নগর বাউল’ ব্যান্ডের প্রধান জেমস। মঞ্চে উঠেই তিনি তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিল্পীকে সরাসরি দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
জেমসের গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে, নেচে এবং করতালিতে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।
জেমস ছাড়াও অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’ এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বাংলাদেশি শিল্পী বিন্তি। তাদের পরিবেশনায়ও উৎসবজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত আবহ।
আরও পড়ুন: এপারে আসতে হলে ফিটফাট হয়ে আসতে হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু
কনসার্টে অংশ নেওয়া দর্শক ইমাদ উদ্দিন বলেন, নগর বাউলের এই পরিবেশনা প্যারিসে বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও এই কনসার্টের মাধ্যমে নিজেদের দেশ ও সংস্কৃতিকে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট’ প্রতিবছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে এ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অফিওরা ও শাহ গ্রুপের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’ শুধুমাত্র একটি কনসার্টে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণের উৎসবে। সংগীত, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এই আয়োজন আবারও তুলে ধরেছে—হাজার মাইল দূরে থেকেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে প্রবাসীদের বন্ধন অটুট।
আয়োজকরা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: জাবি ছাত্রদলের ১১ নেতাকে শোকজ নোটিশ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে
এদিকে, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রান্সের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক কিছু সমস্যার কারণে নিকটবর্তী ট্রেন স্টেশন থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত তিনটি বিনামূল্যের বাসের ব্যবস্থা করা হয়। দিনভর এসব বাস দর্শকদের আনা-নেওয়ার কাজ করে।
সংগীতের পাশাপাশি উৎসবে ছিল বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন। দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দেশীয় খেলা। পাশাপাশি ছিল বাংলাদেশি পণ্য ও খাবারের স্টল। সমুচা, সিঙ্গাড়া, ঝালমুড়ি, পিঠা-পুলি, বিরিয়ানি, ডাবের পানি, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং পান-সুপারির স্টলে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সার্সেলের ডেপুটি মেয়র, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। এতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কারের পাশাপাশি প্রধান পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি ঝকঝকে বিএমডব্লিউ গাড়ি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: রাজনৈতিক সমর্থন ব্যালট বাক্সে দেখাবেন, অফিসে নয়
সব মিলিয়ে ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক মিলনমেলা। প্যারিসের সার্সেলের সেই মাঠে একদিনের জন্য হলেও তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের আবহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন