০৫:৫১ পি.এম
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্তৃপক্ষ কাগজপত্রবিহীন একটি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের আনসার এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত দেখিয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে, বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করে।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঝিকরগাছার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ-এর নামে সরিষার খৈলবাহী একটি ভারতীয় ট্রাক গত ২৩ জুন রাত ৯টার দিকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে ২৫ জুন ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নবযোগদানকৃত সহকারী শিক্ষকদের বরণ: শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান
অভিযোগ রয়েছে যে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ ৫০ বস্তা পণ্য ৩২ নম্বর ইয়ার্ডে একটি বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ভারতীয় ট্রাকটি বিকেল ৫টার দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করলে সেটি আটক করা হয়। খবর পেয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এই সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর ভারতীয় ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও বাংলাদেশি ট্রাক ও এর চালককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটি কৌশলে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল-এর নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। ঘটনার পর কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক কাজী রতন জানান, অপরাধ দমনে বন্দর কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও ট্রাকচালকসহ সংশ্লিষ্টদের ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে মামলায় যুক্ত করা হবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে তদন্তের সার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি বন্দর।
আরও পড়ুন: বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলার ডিবি (উত্তর) কর্তৃক ১৭৪ (একশত চুয়াত্তর) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ০৫ (পাঁচ) জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।
বেনাপোল আমদানি রফতানি সমিতির সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, বন্দরে প্রবেশ করা প্রতিটি আমদানিকৃত ট্রাক প্রথমে বিজিবির তল্লাশি, এরপর কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ ওজন পরীক্ষা এবং সর্বশেষ উন্নতমানের স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া বন্দরের প্রায় ৩৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি রয়েছে। এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অসাধু চক্রের একটি অংশ যোগসাজশ কিংবা নজরদারির ফাঁকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বন্দরের বাণিজ্যিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে চলতি মাসে কাস্টমসের দায়ের করা পণ্য পাচারের আগের তিনটি মামলায় এখনো কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে বৈধ পথে আমদানিকৃত পণ্য পাচার ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন