০৮:৫৯ পি.এম
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং জাপান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংস্থা (জেএসটি) এর অর্থায়নে ‘হাওরের বন্যা পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে গবেষণা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।
কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোরু তেরাও-এর নেতৃত্বে জাপান থেকে আসা চার সদস্যের একটি গবেষক দল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪ পয়েন্টে নাশকতার পরিকল্পনা আ.লীগের
দলের অন্য সদস্যরা হলেন কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাইচি হায়াশি, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কিগুচি মাসাশি এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প সহকারী অধ্যাপক ড. মো. রেজোয়ানুল ইসলাম ফাহিম।
ঢাবি আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতিমা আক্তার বাংলাদেশের পক্ষে এবং কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোরু তেরাও জাপানের পক্ষে প্রধান গবেষক হিসেবে প্রকল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন।
তাদের যৌথ নেতৃত্ব বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যকার শক্তিশালী অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্ব ও বাংলাদেশের বন্যা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান তৈরির অভিন্ন অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
প্রকল্পটি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত গবেষণায় যুক্ত হওয়া এবং বাংলাদেশ ও জাপানের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চও তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: গ্যাস লিকেজে দোলনচাঁপা হলের চুলায় আগুন, আহত ১ নারী শিক্ষার্থী
এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা সক্ষমতা জোরদার করবে এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় অগ্রাধিকারগুলো মোকাবিলার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে অ্যাকাডেমিক মহলের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছিল।
যদিও এটি গবেষণা-চালিত, এর প্রত্যাশিত প্রভাব অ্যাকাডেমিক জগতের বাইরেও সুদূরপ্রসারী।
এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তৈরি করা এবং সেটিকে বাস্তব ও কার্যকরী সরঞ্জামে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশের বন্যা পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং জনগোষ্ঠী, কৃষি, জীবিকা ও অবকাঠামোর উপর বন্যার প্রভাব হ্রাস করা।
আরও পড়ুন: ডুসাকের সভাপতি মীর মোরসালিন, সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম. নাছরুল্লাহ
বিশেষ করে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের জন্য বন্যা পূর্বাভাস এবং পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নতির উপর মনোযোগ দেবে, যেখানে আকস্মিক বন্যা দ্রুত সৃষ্টি হতে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
উন্নত গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রকল্পটি জাতীয় পর্যায়ে আরও নির্ভরযোগ্য, কার্যকর এবং টেকসই বন্যা পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় অবদান রাখার লক্ষ্য রাখে।
প্রকল্পটি একটি শক্তিশালী বহুশাস্ত্রীয় এবং বহু-প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বকে একত্রিত করেছে।
বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম), স্পারসো, সার্ভে অফ বাংলাদেশ (এসওবি) এবং ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)।
আরও পড়ুন: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার নর্দার্ন প্লেনস ল্যাঙ্গুরের দেখা
জাপানি অংশীদারিত্বের মধ্যে রয়েছে কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়, কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোচি বিশ্ববিদ্যালয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন